logo
  • Wed, 24 Oct, 2018

  ছবি ঘোষ   ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

বিচ্ছেদের গল্প

সম্পকর্ তৈরি হওয়ার পরে দুজন মানুষ একটি বিন্দু বা কেন্দ্রে এসে একসঙ্গে হয়। তাদের মধ্যে কিছু মিলের প্রেক্ষিতে তারা পরস্পরের সঙ্গে একসঙ্গে পথচলার, একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে শুধু একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমেই একটি সম্পকর্ থেমে থাকে না। সম্পকর্ সময়ের হাত ধরে এগিয়ে চলতে থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এ ক্ষেত্রে সমস্যা শুরু হয় তখনই যখন দুজন মানুষ ভিন্নভাবে নিজেদের গড়ে ওঠার জন্য কাজ করে! ভিন্নভাবে গড়ে ওঠা বলতেÑ দুজনের ভিন্ন পেশা, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্ন মতবাদ ইত্যাদি বোঝায়...

বিচ্ছেদের গল্প
সম্পকর্ ভেঙে যাওয়ার কষ্টটা সবসময়ই অনেক বেশি ভোগায় মডেল : তীব্র ও মাহমুদা নিশা
প্রতিটি সম্পকর্ গড়ে ওঠে অনেক স্বপ্ন অনেক ভালোবাসা এবং আশা-প্রত্যাশা নিয়ে। উপরোক্ত কারণসহ আরও নানান কারণে একটা সম্পকর্ যখন শেষ হয়ে যায় তখন প্রচÐ মানসিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। তাই নিজের সম্পকের্র প্রতি যতœবান হওয়া প্রয়োজন সবার।

সম্পকর্ ভেঙে যাওয়ার কষ্টটা সবসময়ই অনেক বেশি ভোগায়। হোক সেটা ভালোবাসার সম্পকের্র ইতি কিংবা বিবাহিত জীবনের। এই কষ্ট, এই অভিজ্ঞতাকে কখনই কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সম্পকর্ ভেঙে গেলে কষ্ট সহ্য করতে হবে জেনেও কেন একজন সম্পকর্ থেকে বের হয়ে আসে? এমন প্রশ্ন নিশ্চয় মাথায় কাজ করতেই পারে। এরই সঙ্গে আরও যে চিন্তাটা মাথায় কাজ করে, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে একটু বোঝাপড়া করে থাকতে পারলে নিশ্চয় খুব একটা সমস্যা হবে না! এমন চিন্তা যদি আপনার মাথাতেও উঁকি দিয়ে থাকে তবে জেনে রাখুন, আপনি খুব ভুল ভাবছেন! কখনো কখনো সম্পকের্র মধ্যে কিছু ‘কারণ’ চলে আসে, যেগুলো অবহেলায় এবং অনাদরে প্রকট আকার ধারণ করে বলেই একটা সময় পরে সম্পকর্টাকে আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সবাই নিশ্চয় জানতে ইচ্ছুক কী সেই কারণগুলো, যার কারণে একটি ভালোবাসার সম্পকর্ ভেঙে যায় হাজারো মনঃকষ্টের বোঝা মাথায় নিয়ে!

বহু গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে সম্পকর্ ভেঙে যাওয়ার অথবা ডিভোসের্র প্রধান ও প্রথম কারণ হলো যোগাযোগের অভাব অথবা ‘কমিউনিকেশ গ্যাপ’। ইউনিভাসিির্ট ওয়াশিংটনের ডা. জন গটম্যান তার ২০ বছরের রিসাচের্র পরে প্রকাশ করেন যে, সম্পকর্ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে কমিউনিকেশন গ্যাপ সবাির্ধক গুরুত্ব পায়। এই যোগাযোগের অভাব থেকেই তৈরি হয় একে অন্যের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করা। যেটা অনেক সময় একে অন্যের প্রতি কটাক্ষ করা, খোটা দিয়ে কথা বলা, বৈষম্যমূলক আচরণ করার মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। বেশ কয়েকটি গবেষণা থেকে আরও দেখা গেছে, যেসব যুগলদের মধ্যে অবজ্ঞাভাব প্রকাশ পায় তারা একে অন্যকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা বন্ধ করে দেয়!

সম্পকর্ তৈরি হওয়ার পরে দুজন মানুষ একটি বিন্দু বা কেন্দ্রে এসে একসঙ্গে হয়। তাদের মধ্যে কিছু মিলের প্রেক্ষিতে তারা পরস্পরের সঙ্গে একসঙ্গে পথচলার, একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে শুধু একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমেই একটি সম্পকর্ থেমে থাকে না। সম্পকের্ সময়ের হাত ধরে এগিয়ে চলতে থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এই ক্ষেত্রে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন দুজন মানুষ ভিন্নভাবে নিজেদের গড়ে ওঠার জন্য কাজ করে! ভিন্নভাবে গড়ে ওঠা বলতেÑ দুজনের ভিন্ন পেশা, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্ন মতবাদ ইত্যাদি বোঝায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিন্ন পেশার কারণে সমস্যা দেখা দেয়। ভিন্ন কাজের ধরন, ভিন্ন টাইমিং এবং ভিন্নতা নিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করার ফলে অনেক সময় দুজনের মধ্যে অনেক বেশি মানসিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।

দুজনের প্রত্যাশা এবং অগ্রাধিকারে ভিন্নতা থাকলে বিষয়টা ঝামেলায় ফেলতে পারে।সম্পকের্ মাঝে দুজন মানুষের অনেক কিছুর মধ্যে মিল থাকলেও, ভিন্নতাও থাকবে অনেক কিছুর। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কারণ দুজন ভিন্ন মানুষের মধ্যে শতভাগ মিল পাওয়া কখনই সম্ভব নয়। তবে একটা সম্পকের্ দুজন মানুষের মধ্যে একদম প্রাথমিক কিছু ব্যাপারে মিল থাকার প্রয়োজন খুব বেশি। বিশেষ করে দুজন মানুষের অগ্রাধিকারের স্থান ও আশা-প্রত্যাশার ক্ষেত্র এক হওয়া খুব গুরুত্বপূণর্। প্রাথমিক এই দুটি স্থানে যদি দুজন মানুষের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয় তবে মনোমালিন্য ও সম্পকের্র মধ্যে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে অনেক ঘন ঘন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পকের্ থাকা দুজন মানুষ একে অন্যকে ভালোমতো চিনতে, জানতে ও বুঝতে শুরু করে। সম্পকর্ শুরুর আগে একটা মানুষকে যতটা জানা যায় কিম্বা চেনা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি চেনা ও বোঝা যায় সম্পকের্ জড়িয়ে পড়ার পরে। এরপর থেকেই লক্ষ্য করা যায় একে অন্যের মধ্যে কতটা অমিল বা বৈসাদৃশ্য রয়েছে! ভালোবাসার ও মমতার খাতিরে বেশির ভাগ সময় এই সব অমিলগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে দুজনের মধ্যে যেসব মিল রয়েছে সেগুলো নিয়ে অমিলগুলোকে ঢাকতে চেষ্টা করেন অনেক যুগল। যেমন : ‘সে আমাকে সময় দিচ্ছে, এটাই তো অনেক। তার দশর্ন আমার সঙ্গে না মিললেও চলবে!’ কিন্তু একটা সময় পরে এই অমিলের ক্ষেত্র থেকেই সমস্যা শুরু হয়। দুজন মানুষের চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস, দশর্ন, আবেগ-অনুভ‚তি, বুদ্ধিবৃত্তি ইত্যাদি একই মাপের না হলে এই অমিলের জায়গাগুলো থেকেই সম্পকের্র মধ্যে চির ধরা শুরু করে। দুজন মানুষের মধ্যে যখন অনেক বেশি বৈসাদৃশ্য দেখা দেয় তখনই সম্পকের্র মধ্যে চিড় ধরা শুরু করে। যে কোনো সম্পকের্র মূল ভিত্তি হলো ‘বিশ্বাস’। এই একটিমাত্র উপাদান ছাড়া একটা সম্পকর্ কখনই পরিপূণর্ভাবে দঁাড়াতে পারবে না এবং গড়ে উঠতে পারবে না। বিশ্বাসের ভিত যতটা গভীর, একটা সম্পকের্র মধ্যে বন্ধন তত বেশি মজবুত। তবে কোনো সম্পকের্র মধ্যে যদি প্রথম থেকেই বিশ্বাসের ঘাটতি থাকে, সন্দেহ ও অবিশ্বাস থাকে তবে সেই সম্পকর্ যতই রোমান্টিকতায় গড়ে উঠুক না কেন কখনই দীঘর্স্থায়ী হবে না!

কোনো একটি সম্পকের্র মধ্যে একজন যখন অন্যজনকে বিভিন্ন ভাবে ও উপায়ে আহত করে থাকে তখন সেটা অ্যাবিউজ বা অত্যাচার হয়ে দঁাড়ায়। মৌখিকভাবে (গালাগাল করা, কটূক্তি করা), আবেগ-অনুভ‚তিতে আঘাত করে, শারীরিকভাবে বিভিন্ন উপায়ে অত্যাচার করার মাধ্যমে সম্পকর্ নষ্ট হতে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যিনি তার সঙ্গীর ওপরে এমন ধরনের অত্যাচার করে থাকেন তিনি তার সঙ্গীকে কৌশলের মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে থাকেন, সঙ্গীকে বোঝান তার এই অত্যাচারের পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে! তবে একটা সময় পরে অন্য সঙ্গী ঠিকই সব কিছু বুঝে ফেলেন। যার ফলাফল রূপে সম্পকের্র মধ্যে ইতি চলে আসে দ্রæত।

কিছু সম্পকর্ অকালেই শেষ হয়ে যায় সঙ্গীর বেশকিছু বাজে অভ্যাসের জন্য। এই বাজে অভ্যাস বলতে নাক ডেকে ঘুমানো বোঝানো হচ্ছে না মোটেই। এমন কিছু বাজে অভ্যাস, যা কিনা একজন মানুষের জীবনের ওপরে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে। যেমন : অতিরিক্ত মিথ্যাচারিতা, জুয়া খেলা, মাদকদ্রব্য সেবন করা, মদ পান করা, অতিরিক্ত যৌন চাহিদা ইত্যাদি। এসব বাজে চারিত্রিক অভ্যাস শুধু তার নিজের জীবনের ওপরেই নয়, তার সঙ্গী মানুষটার জীবনের ওপরেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়।

কিছু সম্পকের্র ক্ষেত্রে দুজন মানুষ একসঙ্গে অনেকদিন পযর্ন্ত থাকার পরে একে অন্যের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাদের দুজনের মধ্যে কোনো ধরনের ভালোবাসা, সম্পকের্র টান, মমতা কিংবা আগ্রহ একেবারেই থাকে না। শুধু অভ্যাসের বশে দুজন মানুষ একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন। এমতাবস্থা থেকে অনেক ক্ষেত্রে সম্পকের্ক পুনজীির্বত করা গেলেও কিছু সম্পকের্র ক্ষেত্রে সেটাই সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে দেখা যায় সেই সম্পকের্র মধ্যে প্রতিশ্রæতি একেবারেই থাকে না। যার ফলে সম্পকের্র শেষ পরিণতি হয় বিচ্ছেদ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে