logo
  • Wed, 24 Oct, 2018

  কেয়া ইসলাম   ০১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

আলোর পথে যাত্রা

আলোর পথে যাত্রা
তারুণ্যের আবেগের মাত্রা অনেক বেশি মডেল : সোমা ভ‚মি, ছবি : এসডি ক্লিক
হতাশার আর একটি ভয়ঙ্কর ফল হচ্ছে মাদক সেবন। অন্যভাবে বললে বলা যায়, মাদকদ্রব্য সেবনের পেছনে হতাশা একটি বড় বিষয়। হতাশা ভুলে থাকার জন্য মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলেও একটি সময় আসে যখন মাদক নিজেই তাকে আরো হতাশার বালুচরে নিক্ষেপ করে। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি তরুণ সম্ভাবনাময় প্রাণ অকালে ঝরে যায়। একপযাের্য় সমাজে নষ্ট তরুণ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আত্মহত্যাকে সব সমস্যা সমাধানের পথ হিসেবে বাতলে নেয় সে। যদিও আত্মহত্যা যে কোনো কিছুর সমাধান নয়Ñ তা জেনেও সে তখন আর সেখান থেকে বের হতে পারে না।

তবে এটা ঠিক, নানা কারণে অনেক সময় নিজেকে অসহায় মনে হয়। হতাশা এসে মনে জুড়ে বসে ঠিক কোলের শিশুটির মতো; যদিও হতাশার পরিণতি কোলের শিশুর মতো নিষ্পাপ নয়। তাহলে তাকে কোল থেকে নামানোর উপায় কী? উপায় হচ্ছে, মানসিক এ অসুস্থতাকে আড়ালে না রেখে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিদের শরণাপন্ন হওয়া। সেই সঙ্গে ভালো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গঠনমূলক কমর্কাÐে নিজেকে সম্পৃক্ত করা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, উৎসাহব্যঞ্জক সিনেমা বা নাটক দেখা এবং গল্পের বই পড়া ইত্যাদি কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও এ ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা করবেন।

হতাশার ফল কখনই সুখের নয়। একজন হতাশাগ্রস্ত তরুণ সমাজের বোঝাস্বরূপ। কারণ সে কোনো গঠনমূলক কমের্ নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে না এবং সব সময় ঋণাত্মক চিন্তা দ্বারা তাড়িত হয়। ফলে একাকিত্ব একসময় তার নিত্যসঙ্গী হয়ে দঁাড়ায়। জীবন তার কাছে অথর্হীন মনে হয়। তাই জীবনের দেনা-পাওনা সে চুকিয়ে দিতে চায় নিজের জীবন সংহারের মতো নিষ্ঠুর এবং বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে। ইংল্যান্ডে ২০০১ সালে প্রকাশিত এক জরিপে তরুণ বয়সে আত্মহত্যার জন্য সুস্পষ্টভাবে হতাশাকে দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২৭টি আত্মহত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পেয়েছেন, ১৯টি ঘটনা (৭০%) মানসিক অসুস্থতার কারণে হয়েছে; যার মধ্যে ১৫টিই (৫৬%) ঘটেছে হতাশার কারণে।

কবিতায় ভাষায় যা প্রকাশে বিসদৃশ লাগে বাস্তবে তা এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। কারণ দুঃখে ভেঙে পড়া বা থমকে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। সে তুলনায় ‘বেশ সুখে আছি’ বলতে পারা মানুষের সংখ্যা কমছেই। জীবনে সুখ পেতে গেলে সমস্যাসংকুল পথ বেয়েই আমাদের তার সন্ধান করতে হবে। হতাশ হয়ে পাততাড়ি গোটানোর কোনো সুযোগ নেই এখানে। যিনি তার চলার পথে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশের জের ধরে অপ্রাপ্তির ছেঁায়াকে ছায়া বানিয়ে নিজের কায়াকে পরিশ্রান্ত করে তুলবেন তিনি সহজেই হতাশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাবেন। বের হওয়ার উপায় সেখানে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

যদিও পারিপাশ্বির্ক অবস্থা থেকে নেয়া শিক্ষা, উপলব্ধি ও অনুভ‚তিকে কাজে লাগিয়ে লব্ধ জ্ঞান দ্বারা একজন পূণর্বয়স্ক মানুষ হতাশার অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। কিন্তু বয়সে যারা তরুণ তাদের পক্ষে হতাশার নিকশ কালো অন্ধকার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কিছুটা কঠিন বৈকি। কারণ তারুণ্যের আবেগের মাত্রা অনেক বেশি। ফলে তাদের কাছে যুক্তির চেয়ে আবেগ, বাস্তবতার চেয়ে কল্পনা প্রাধান্য পায় বেশি। দৃশ্যত এ কারণে তাদের হতাশা এক ভিন্ন মাত্রা পায়। হতাশার এ বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে অনেক সময় তা আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক চ‚ড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ বলছে, পৃথিবীতে প্রায় ১২১ মিলিয়ন বা ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হতাশায় ভুগছে, যদিও এ হতাশাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ২৫ ভাগের নিচে যথাযথ চিকিৎসার আওতায় আসার সুযোগ পায়। তাহলে বাদ বাকি ৭৫% মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। এমন অবস্থায় কোনো ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য যদি টালমাটাল হয়ে পড়ে তাহলে তার অবস্থা তো সঙ্গিন হয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়।

শুধু আমেরিকায়ই প্রায় ১৪.৮ মিলিয়ন বা প্রায় দেড় কোটি মানুষ হতাশায় ভুগছে। অথবা এভাবে বলা যায়, ১৮ বছর বয়সের ঊধ্বের্ মোট জনসংখ্যার ৬.৭% হতাশায় নিমজ্জিত। (সূত্র : ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, আমেরিকা)।

অন্যদিকে, সব গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি হতাশায় ভোগে; পুরুষ ও নারীর অনুপাততুল্যে যা ১:২। দেখা গেছে, বয়ঃপ্রাপ্তির আগে ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় একটু বেশি হতাশায় ভুগলেও পরবতীর্ সময়ে হতাশায় ভোগা নারীর সংখ্যা আশ্চযর্জনকভাবে বেড়ে যায় এবং পরবতীর্ ৩৫ থেকে ৪০ বছর পযর্ন্ত একজন নারীর জীবনে তা উচ্চমাগের্ থাকে।

কিন্তু এ হতাশার কারণ ও উৎস কী? একই সমস্যাসংকুল সমাজে বাস করে কেউ অল্প হতাশা থেকে গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হলেও অনেকে আবার তা থেকে মুক্ত আছে কিভাবেÑ এ প্রশ্নও নিশ্চয়ই মনে আসে? গবেষণা বলছে, আমরা ঠিক কেন হতাশায় নিমজ্জিত হই তার কারণ এখনো অপরিষ্কার। তবে বলা হয়, উত্তরাধিকারসূত্র বা বংশগত এবং পরিবেশগত কারণে মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়। পরিবেশগত কারণের মধ্যে অশিক্ষা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য প্রধানতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। যদিও তারুণ্যের হতাশার কারণ হিসেবে প্রেম প্রত্যাখ্যাত হওয়া, পরীক্ষায় খারাপ ফল এবং প্রেম বা ভালোবাসার সম্পকের্ ফাটল ইত্যাদি বিষয়কেও যুক্ত করে নিতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা যারা তরুণ তাদের সমাজকে দেয়ার আছে অনেক কিছু। জীবনে হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ থাকবেই। নিরন্তর প্রবহমান সুখ বা দুঃখ বলে কিছু নেই। তাই কোনো কিছু নিয়েই চ‚ড়ান্তভাবে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তা ছাড়া অহেতুক ভাবনা যেমন, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। এ ধরনের বাজে চিন্তা মন থেকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে হবে।

চলার পথে সব বাধা-বিঘœকে অতিক্রম করে, হতাশাকে দূরে রেখে তারুণ্য তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পেঁৗছে যাবে এটাই তারুণ্যের ধমর্। ভুলে গেলে চলবে না, জীবন চলার পথ কখনই মসৃণ নয়। কারো জন্যই তা মসৃণ ছিলও না। প্রত্যেক সফল মানুষ নিজ নিজ কমর্, যোগ্যতা ও গুণে তার বন্ধুর পথকে মসৃণ ও সহজ করে তুলেছেন। অনেক তরুণ আছে যারা অন্যের সাফল্য দেখে নিজে কেন পারছে না তা ভেবে অযথাই হতাশার মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। এ ধরনের ক্ষুদ্র চিন্তা থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে