logo
  • Thu, 20 Sep, 2018

  রহমান হোসেন   ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

আলোর পথে এসো

আলোর পথে এসো
তরুণদের মনোজগৎ কৌত‚হলে ভরা মডেল : প্রিমা ও ফাহিমা
বাংলাদেশে ইয়াবা, মদ, গঁাজা, চরস, ভাং, আফিম, হেরোইন, ভায়াগ্রা, ফেনসিডিল, পেথিড্রিন, ঘুমের ওষুধ, ট্রাংকুলাইজার, সিডাক্সেন, ডায়াজিপাম, ডেক্সপোটেন্ট প্রভৃতি মাদকদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের কৌত‚হল বেশি থাকে। আর তরুণদের মনোজগৎ তো কৌত‚হলে ভরা। কৌত‚হলবসেই তরুণরা প্রথমে এগুলোর সংস্পশের্ আসে। তারপর এক ধরনের ফিলিংস তাদের মধ্যে কাজ করে। এভাবে তারা আস্তে আস্তে ভিড়ে যায় এই জগতের সঙ্গে। ভিড়ে যাওয়ার পর সহজে আর সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব হয় না।

আমাদের দেশে মাদক ব্যবসা আগেও হয়েছে এখনো হচ্ছে। তবে এখন এটি উদ্বেগজনক পযাের্য় পেঁৗছে গেছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিদিন এর ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। মাদকদ্রব্য এখন খুব সহজেই পাওয়া যায়। মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ার এটি একটি বড় কারণ। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সমাজের ক্ষমতাবান কিছু মানুষ। পুলিশ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদরা পযর্ন্ত জড়িত বলে জানা যায়।

সন্তানের সঙ্গে বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজন বন্ধুত্ব। আমরা সন্তানদের বন্ধু হতে পারি না। বন্ধু হতে হলে খোলামন নিয়ে তার সঙ্গে মিশতে হবে। সচেতনভাবে হোক আর অবচেতনভাবেই হোক আমরা শুধু শাসন করি আমাদের সন্তানদের। কিন্তু শুধু শাসন করলে তো আর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না। সন্তান যেমন তার ক্লাসমেট বা বন্ধুর সঙ্গে খোলামেলা সবকিছু শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বাবা-মাকেও সেই মানসিকতা নিয়ে সন্তানের সঙ্গে মিশতে হবে যাতে বন্ধুদের সে যা বলে সেগুলো বাবা-মাকেও বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের এরকম সম্পকর্ তৈরি হলে সন্তান কিন্তু তখন নেশার হাতছানি পেলে তাও শেয়ার করবে। এবং এটি জানার পর সন্তানের সঙ্গে দুবর্্যবহার না করে ভালো ব্যবহার করেই তাকে নেশার হাতছানি থেকে মুক্ত করে ভালো কোনো কিছুর সংস্পশের্ নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সন্তানের ভালোলাগা বা আগ্রহটাকে ডাইভাটর্ করে অন্য ভালোলাগা তৈরি করতে হবে। সুস্থ কিছু তার সামনে হাজির করতে হবে। ভালো বিকল্প তাকে দিতে হবে। কোনটি ভালো আর কোনটি খারাপ তা তাকে জানাতে হবে। তবে অবশ্যই সেটি জোর করে নয়, ভালোবেসে। মানুষ ভালোবাসার কাঙ্গাল আর শিশুরা আরো বেশি কাঙ্গাল। ভালোবেসেই একটি শিশুকে তার ভুল পথ থেকে তাকে সরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য দরকার ধৈযর্ এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবতর্ন।

যেসব তরুণ ইতোমধ্যেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের কোনোভাবেই ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা যাবে না। তাদের প্রতি সহানুভ‚তির হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এসব মাদকাসক্ত তরুণকে নিয়ে যেতে হবে পুনবার্সন কেন্দ্রে। সে ক্ষেত্রে তরুণকে সরাসরি সহযোগিতা না করা গেলে তার পরিবারকে পুনবার্সন কেন্দ্রের কথা বলতে হবে। যে কোনোভাবেই হোক এসব তরুণকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজন সৃজনশীলতা। সৃষ্টিশীল কাজ-কমের্র সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে জড়িত করা খুবই জরুরি। স্বতঃস্ফ‚তর্তা এবং সৃষ্টিশীলতা দিয়ে অনেক বড় কিছু অজর্ন করা সম্ভব। সে তুলনায় তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত করা তো কোনো ব্যাপারই নয়।

তরুণকে তো বটেই যে কোনো মানুষকে যদি স্বতঃস্ফ‚তর্ভাবে কোনো কিছু করতে বলা হয়। সে কিন্তু অবশ্যই নতুন কিছু করবে এবং নিশ্চিতভাবে সৃষ্টিশীল কিছু করবে। নতুন কিছু করবে মানে প্রতিটি মানুষই আলাদা তাই সে আলাদা কিছু বা নতুন কিছু করবে। নতুন কিছু মানেই তো সৃজনশীলতা। এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোনো কোনো কাজ তরুণ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীল এবং উপকারী।

খেলাধুলা, বাগান করা, ছবি অঁাকা, গল্পের বই পড়া, কবিতা আবৃত্তি, গল্প লেখা, কবিতা লেখা, গান শেখা, নতুন নতুন সুর সৃষ্টি করা প্রভৃতি হতে পারে তরুণদের জন্য সৃজনশীল। এবং এসব কাজের সঙ্গে তরুণদের সংশ্লিষ্ট করতে হবে। যেখানে সৃষ্টির নেশা তাকে পেয়ে বসবে। অন্য কোনো নেশার হাতছানি তার কাছে গৌণ হয়ে যাবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু যে নিজের সমস্যা তৈরি করে তা নয় পুরো পরিবারে তৈরি করে অশান্তি। পরিবারের প্রতিটি ব্যক্তিকে এর মাশুল গুণতে হয়। তরুণদের মধ্যে যারা শিক্ষাথীর্ তারা ক্লাস মিস করে, স্কুল-কলেজে অনিয়মিত হয়ে যায় এমনকি পড়াশোনা বাদ দিয়েও দেয়। মাদকাসক্ত তরুণদের শরীর দুবর্ল হয়ে যায়। এরা মনোযোগ রাখতে পারে না। এদের মধ্যে একা থাকার প্রবণতা তৈরি হয়। এরা নিজের চেহারা ও পোশাকের প্রতি যতœশীল থাকে না। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা থেকে শুরু করে এরা মা-বাবার কাছে যখন-তখন টাকা চায় এবং বাসাবাড়ি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করে দেয় মাদকদ্রব্য কেনার জন্য।

ভৌগোলিকভাবে আমাদের দেশটি মাদক ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক একটি দেশ। বাংলাদেশ ‘গোল্ডেন ট্রাইএঙ্গেল’ এবং ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’-এর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। গোল্ডেন ট্রাইএঙ্গেল হচ্ছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওসের মধ্যে অবস্থিত মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল। অন্যদিকে গোল্ডেন ক্রিসেন্ট হচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরানের মধ্যে অবস্থিত মাদক উৎপাদনকারী সবচেয়ে বিখ্যাত অঞ্চল।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে