logo
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

  তৌহিদুর রহমান   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

নতুন বই

নতুন বই
জুরানপুরের গল্প

এবারের বইমেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য ভবন বিশাল এক উপন্যাস নিয়ে এসেছে। ৩২৬ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি লিখেছেন কবি ও কথাশিল্পী আরিফ মঈনুদ্দীন। যার ইতোমধ্যে কবিতা, গল্প ও উপন্যাস মিলিয়ে ২২টির মতো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকদের জন্য সব থেকে সুখের বিষয় হলো আরিফ মঈনুদ্দীনের লেখা গদ্য সম্পর্কে প্রয়াত ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের মূল্যায়ন। আরিফের প্রথম গল্পগ্রন্থ 'অপ্সরা' প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ অল্প কথায় চমৎকার ভূমিকা লিখে দিয়েছেন ওই বইটির। তিনি লিখেছেন, 'আরিফ মঈনুদ্দীনের একটি গল্প সংকলন। প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। লেখককে আন্তরিক অভিনন্দন। আমার সৌভাগ্য- তিনি আমাকে তার গল্পগুলো আগেই পড়তে দিয়েছিলেন। আমি আগ্রহ এবং আনন্দ নিয়ে পড়েছি।

আরিফ মঈনুদ্দীনের গদ্য চমৎকার। কাহিনি তৈরির কলাকৌশলও তিনি ভালো জানেন। লেখকের প্রধান যে গুণ- চারপাশের মানুষের প্রতি মমতা, তা তার আছে। কাজেই গদ্যের কঠিন ভূমিতে তার পদচারণা সহজ ও স্বাভাবিক হওয়ারই কথা। তাকে অভিনন্দন। তার হাতে সোনার ফসল ফলুক এই শুভ কামনা।'

বিশাল ক্যানভাসে লেখা এই উপন্যাসটি পড়ে আমাদের কণ্ঠেও হুমায়ূন আহমেদের কথার প্রতিধ্বনিই থেকে থেকে বেজে যাচ্ছে। ঘটনার ঘনঘটা এই উপন্যাসের পাঠককে চুম্বকের মতো টেনে ধরে রাখবে। কাহিনি তৈরির কলাকৌশলে পারদর্শী আরিফ মঈনুদ্দীন একটির পর একটি ঘটনাকে যেভাবে মালার মতো গেঁথেছেন। তা পাঠককে মোহাবিষ্ট করে রাখবে নিঃসন্দেহে। একটি শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পাঠক নাওয়া-খাওয়া ভুলে বইতে ডুবে থাকবেন এটাই প্রতিপাদ্য।

উপন্যাসের নায়ক জন্মপরিচয়হীন। যদিও শেষ পর্যন্ত তার জন্মপরিচয় উদঘাটিত হবে। তবে অনেক চড়াই-উতরাই তাকে পার হতে হবে। এক নিঃসন্তান দম্পতির ঘরে মানুষ হওয়া নায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স পাস করেছে। এখানে পড়ালেখার এক ফাঁকে সতীর্থ একটি মেয়ের সঙ্গে তার ভাব হয়। শুধুমাত্র জন্মপরিচয় নেই বলেই সাবেক কেবিনেট সচিব তার এই মেয়েকে নায়কের সঙ্গে বিয়ে দেননি। নায়ক মনের দুঃখে আত্মহত্যার হাত থেকে বেঁচে নিজের অজান্তেই জুরানপুর চলে আসে। জুরানপুর আসার পর এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আধুনিকতার নান্দনিক স্পর্শ তাকে মুগ্ধ করে। এই মুগ্ধতাই তাকে এখানে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি শেখানোর কাজে ব্যাপৃত করে। প্রাসঙ্গিকভাবে এসে যায় এই চমৎকার পরিবেশের স্থপতির নাম, তার পারিবারিক ঐতিহ্য, নিজের এবং পরিবারের অবদানের কথা। ৩২৬ পৃষ্ঠার দীর্ঘ উপন্যাসের পরতে পরতে বারবার উঠে আসে এই ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া পরিবারের প্রাণপুরুষের নাম। তিনি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া।

জুরানপুর নামের এই গ্রামে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস নিয়ে ৩৩টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যা প্রতিষ্ঠার মূলে তার অবদান অনস্বীকার্য। এখানে যে সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে উঠেছে সেই পরিবেশই উপন্যাসের নায়ক শামীম জামানকে চরম এবং পরমভাবে আকৃষ্ট করেছে। এই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আরও একটি বিষয় আছে, তা হলো এতিমখানা এবং মাদ্রাসা। কেননা, নায়ক শামীম জামানের মনটা এতিমখানার আবহের সঙ্গে দারুণভাবে অনুভূতিপ্রবণ।

এই উপন্যাসে সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের বেশ কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেমন মানুষ জন্মিলেই মানুষ হয় না- মানুষ হতে হয়। কুড়িয়ে পাওয়া শামীম এমন এক পরিবারের হাতে পড়েছে, যারা তাকে সত্যিকার একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। শামীমের জীবন একটি সঠিক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত- যা তাকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে। নায়িকা সানজানার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হলেও সে এই অবনতির ঘটনাকে পাত্তা দিয়ে বড় করেনি। ফলে এক সময় শামীমের চরিত্রের মাহাত্ম্য তারা টের পায়।

নায়িকা সানজানার বাবা সাবেক কেবিনেট সচিব জীবনে এক পয়সা ঘুষ খাননি। এটাও একটা শিক্ষা- যা তিনি পৈতৃকসূত্রে পেয়েছেন। অনৈতিক কোনো কাজ তিনি করেননি। কেন করেননি বা তাকে করতে হয়নি- তা এই উপন্যাসের একটি চমৎকার বিষয় হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে।

ঘটনার এমন জমজমাট অবস্থার সঙ্গে এর পাত্রপাত্রীরা এমনভাবে জড়িত যে, পাঠক এক সময় তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবেন নিজের অজান্তেই। দেখা যাবে উপন্যাস পড়তে গিয়ে এক সময় শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু পাঠক আক্ষেপ করে বলবেন, আহা! আরও তো লেখা যেত!

লেখক আরিফ মঈনুদ্দীনের সূক্ষ্ণ দৃষ্টির প্রতিফলন দেখে আমরা মুগ্ধ হই। কারণ তিনি সমাজের কিছুই উপেক্ষা করেন না। যেমন ফুটপাতের চা দোকান থেকে অট্টালিকার রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত সবই তার দৃষ্টিতে বিভিন্নমুখী বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। যার যা ভূমিকা তা তিনি তার কলমে অনন্য মহিমায় ফুটিয়ে তুলতে সিদ্ধহস্ত। ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ আরিফের লেখার বিষয়ে মন্তব্যে বলেছিলেন-চারপাশের মানুষের প্রতি আরিফ মঈনুদ্দীনের মমতা আছে। মৌলিক লেখকদের এই বিশেষ গুণ নিয়ে যে লেখকের জন্ম, তার তো পেছন ফিরে তাকানোর কথা না। আমরা আশা করব, তার হাতে সোনার ফসল আরও ফলবে। 'জুরানপুরের গল্প' উপন্যাসের গদ্যে আরিফ মঈনুদ্দীন যে সাবলীলতা উপহার দিয়েছেন, তা পাঠকদের কাছে উপভোগ্য হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। নায়কের জীবনের উত্থান-পতন-উত্থানের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকারা একাত্ম্য হয়ে যাবেন এই আশা করাই যায়। লেখক যখন পাঠককে ধরে রাখার মতো অবস্থার সৃষ্টি করেন, তখনই সার্থকতা তার পায়ে চুমু খায়। এর সঙ্গে বাস্তবের নানা সঙ্গ-অনুসঙ্গ যুক্ত হয়ে যে মহাসড়ক নির্মাণ করে সেই সড়কে লেখকের হাত ধরে তার পাঠক-পাঠিকারা হেঁটে চলে এবং সারা জীবন একসঙ্গে হেঁটে হেঁটে জীবন উপভোগ করতে চায়। তাইতো পাঠকরা এমন কাউকে খোঁজেন অর্থাৎ এমন লেখককে খোঁজেন যারা পাঠকদের রসাস্বাদনে ভূমিকা রাখতে পারেন। এই মর্মে বাংলাসাহিত্যের শক্তিমান কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, 'সাহিত্য রসের ব্যাপার। তাত্ত্বিক বিচারে দেখা যাবে অনেক বইয়ের মধ্যে অনেক বড় বড় কথা আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রসের সৃষ্টি হলো না বলে তার পাঠযোগ্যতা থাকে না এবং এক সময় তা হারিয়ে যায়। কাজেই সাহিত্যের শেষ কথা হচ্ছে রসের সৃষ্টি'।

সুনীল বাবুর কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা বলতে পারি, লেখক আরিফ মঈনুদ্দীনের 'জুরানপুরের গল্প' উপন্যাসটিতে আমরা পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধের যে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করি, তা এই সাহিত্য কর্মটিকে আলাদা মাহাত্ম্য উপহার দিয়েছে। সুতরাং গদ্যের কঠিন ভূমিতে তার পদচারণা যে সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে তা আমরা ইতোমধ্যে টের পেয়ে গেছি। লেখককে পাঠকদের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। বইটির অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ করেছেন মাসুম রহমান। বইমেলায় বিশ্বসাহিত্য ভবনের প্যাভিলিয়ন নম্বর ২৪-এ বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

সালাম সালেহ উদদীন

নিভৃতে নির্বাসনে

মিলটন সফি গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে আবির্ভূত হওয়া একজন কবি ও কথাসাহিত্যিক। মূলত কবি হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসলেও সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে রয়েছে তার সাবলীল বিচরণ। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ''কালোপুরুষ" প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। পরের বছরই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ''একটি স্বপ্নস্নাত নারীর জন্য প্রার্থনা"। অতঃপর হঠাৎ করেই নির্বাসন। যখন শব্দে ও ছন্দে, চিত্রকল্পে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। কবিতাপ্রাণ এই মানুষটি শুধু কবি-ই হতে চেয়েছিলেন, কবিতাকে ভালোবেসে হেঁটেছেন যোজন যোজন দূর। হাতের মুঠোয় নিয়েছেন ভালোবাসা, জীবনের অপ্রাপ্তিকে একেছেন কবিতার রঙে।

সেই মানুষটাই ১৫ বছর ছিলেন কবিতা থেকে অনেক অনেক দূরে। কেন এই নির্বাসন, জানতে চাইলে তিনি জানান, মনের মধ্যে অনেক কথা জমা, সেই জমে থাকা কথাগুলো কখন যেন কবিতা হয়ে থরে থরে জমতে থাকে পড়ার টেবিলে। এর মধ্যে কিছু লেখা পত্রিকায়ও ছাপা হতে লাগলো। ছাপার অক্ষরে মনের কথাগুলো ছুয়ে দেখি আর বিস্মিত হই। যে কথাগুলো মনের মধ্যে জমতে জমতে এক সময় চাপা পড়ে যাচ্ছিল অথবা বলব বলব করেও বলা হয়ে ওঠেনি কিংবা পারিনি, সেই কথাগুলো বলতে পারার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। মনে হয়েছিল এবেলা না বলতে পারলে হয়তো আর কখনোই বলা হয়ে উঠবে না। সেকথাগুলো জানাতেই বই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং দু'বছর চেষ্টার পর বইটা প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৪ সালে এবং পরের বছরই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থটা এসেছিল। জানি না এই শহরের মানুষ আমার সেই গোপন কথার খোঁজ নিয়েছিল কি না। জানি, কেউ জানেনি, অথবা জানবেও না। তারপর থেকে আর প্রকাশ করতে ইচ্ছে হলো না। পড়ে রইলাম নিভৃতে নির্বাসনে এবং সবার চোখের আড়ালে। এভাবেই দিন মাস বছর চলে গেছে এক লহমায়। তাই ১৫ বছরের যাপিত জীবনের গল্পটা আমার কাছে খুব দীর্ঘ নয়। ভেঙেচুরে নিজেকে গড়তে চেয়েছি বারবার, পারিনি। শেষ অব্দি কবিতার জয় হয়েছে।

তা ছাড়া খুব বেশি কবিতা আমি লিখতে পারি না। নিয়ম করে কখনো আমার লেখা হয়ে উঠে না। তাই চাইলেও হয়তো অনেক বই আমি বের করতে পারতাম না। হৃদয়ে যে কবিতার বাস তাকে মস্তিষ্ক দিয়ে বুঝতে চাইনি কখনো। শ্রেণি সংগ্রাম, জীবন ও প্রকৃতি, প্রেম ও নারী তার কবিতার মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বারবার। তবুও বলতে চাই, কবিতা বেঁচে থাকুক, ভালো থাকুক। কবিতার রঙে সাজাই পৃথিবী। বইটি প্রকাশ করেছে শিখা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন চারু পিন্টু।

জামান আশরাফ

পরিবেশবিষয়ক দুটি বই

প্রকৃতি ও পরিবেশের মাঝেই আমাদের বসবাস। এই পৃথিবী নামক গ্রহে জীবন ধারণের উপাদান ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে! যতই দিন যাচ্ছে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু বাড়ছে না এই ভূখন্ডের আয়তন। আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান অক্সিজেন আমরা পাই প্রকৃতি থেকে। যদি এই প্রকৃতি অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তাহলে সমগ্র প্রাণীকুলের কী হবে ভাবা যায়? অসহনীয় দূষণ ও অতিরিক্ত কার্বন নির্গমনের কারণে ক্রমাগত এই গ্রহ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে! আর বোবা দর্শকের মতো আমরা এই ধ্বংসলীলা দেখছি। সদ্য প্রকাশিত বই দুটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও তার বিভিন্ন উপাদানের খুব সুন্দর ও সহজ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। কীভাবে আমরাই ধীরে ধীরে গলা টিপে হত্যা করছি এই শহর, এই দেশ, এই পৃথিবীর সুস্থ পরিবেশ! এই পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়ে কম আন্দোলন হয়নি! পরিবেশের ওপর দুটি বই হলো যথাক্রমে: ১. 'নগর পরিবেশের বিচিত্র প্রসঙ্গ' ২. 'প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রসঙ্গ'। পাঠক এই বই দুটি পড়লে জানতে পারবেন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সম্ভাবনা ও ভারসাম্য হারানোর কথা। কতটা নির্মমভাবে আমরা নষ্ট করছি প্রাণপ্রিয় এই স্বদেশের প্রকৃতি। সুজলা-সুফলা এই বাংলাদেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দেশকে বাঁচাতে হবে আমাদেরই। এখনো সময় আছে সচেতন হওয়ার। পরিবেশ সচেতনতা তৈরি ও দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা বনাঞ্চল, নদনদী, খালবিল, সমুদ্র, পাহাড় রক্ষা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

\হদৈনন্দিন বিভিন্ন দূষণের কারণে সামগ্রিক পরিবেশ জীবন ধারণের অপরিহার্য উপাদান হারাচ্ছে। আমাদের অসচেতনতা ও দেশপ্রেমের অভাববোধই দেশকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে, যেদিকে আমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে! প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের দূষণের কারণে দূষিত হয়ে উঠছে বাতাস, পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। এই বই দুটিতে প্রধান এসব সমস্যাবলী নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে প্রতিরোধের পথও। আমাদের প্রত্যেকেরই ওই বই দুইটি পড়া উচিত! আধুনিক এই যুগে এসে আমরা আমাদের চারপাশ যেভাবে দূষিত করছি, আমাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে জলবায়ু দুর্যোগকে যেভাবে স্বাগত জানাচ্ছি তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বসবাসেরযোগ্য একটি ভূখন্ড পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে! তাই আমাদের মাতৃভূমিকে বাঁচাতে হলে আমাদের আরো অনেক সচেতন হতে হবে। বই দুটি প্রকাশ করেছে 'বইপত্র প্রকাশন'। বর্তমানে সর্বত্র বই দুইটি পাওয়া যাচ্ছে। 'রকমারি ডট.কমে'ও বই দুটি অর্ডার দিলে পাওয়া যাবে।

নগর পরিবেশের বিচিত্র প্রসঙ্গ, প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রসঙ্গ (প্রকাশকাল: ২০২০)

লেখক : সাধন সরকার

প্রকাশনী : বইপত্র প্রকাশন (বাংলাবাজার, ঢাকা)।

মূল্য : ১৯৫ টাকা (নগর পরিবেশের বিচিত্র প্রসঙ্গ), ২৩৪ টাকা (প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রসঙ্গ)

প্রচ্ছদ: হাবিব খান

\হ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে