logo
শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

  মুহাম্মদ ইয়াকুব   ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০  

কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্মে চিন্তা চেতনা ও বিশ্বাসের প্রভাব

আপসহীন সংগ্রামী কবি নজরুল চাকচিক্যময় পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তিনি বেঁচে আছেন তাবৎ জগতের স্বাধীনচেতা মানুষের হৃদয়ে। নজরুল সময়কে ধারণ করলেও পরবর্তী মহাকালই নজরুলকে ধারণ করতে বাধ্য হবে।

কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্মে চিন্তা চেতনা ও বিশ্বাসের প্রভাব
সাম্রাজ্যবাদী ও দখলদার অপশক্তির মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম নজরুল। মূলত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের প্রত্যেকটি শব্দ এক একটি পারমাণবিক বোমার কাজ করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নজরুলের কবিতায় দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এমনকি স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর যে স্স্নোগানটি পারমাণবিক বোমার চেয়ে বেশি কার্যকর ছিল, সেই 'জয় বাংলা' স্স্নোগান নজরুলের কবিতা থেকে নিয়েছিলেন সর্বকালের সেরা এই বাঙালি নেতা।

দ্রোহের কবি নজরুল এমন একটি নাম যার মরদেহ বহন করেছিলেন ওই সময়ের চার প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় শীর্ষ ব্যক্তিরা, যেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নামাজে জানাজা আদায়ের পর জাতীয় পতাকামন্ডিত নজরুলের মরদেহ বহন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যান ওই সময়কার বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়াল অ্যাডমিরাল এমএইচ খান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এজি মাহমুদ। আজীবন সংগ্রামী ও চিরস্বাধীনচেতা এক মহামানবের মহাকাব্যিক বিদায় এই মহাবীরের প্রাপ্যই ছিল। নজরুল সমগ্র বিশ্বের আপামর মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয়, বরণীয় হয়ে মহাকালের মহাবিস্ময় হিসেবে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন।

২৪ মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ, ১১ জ্যেষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। অল্প বয়সেই ইসলামের মৌলিক আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান বাংলা সাহিত্যের ধূমকেতু নজরুল, যা পরে তার সাহিত্যকর্মকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। মূলত তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাসাহিত্যে সফলতার সঙ্গে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন। বাংলায় ইসলামী গানের যাত্রা শুরু হয়েছিল নজরুলের হাত ধরে। নিজস্ব ধর্মীয় চেতনা অক্ষুণ্ন রেখেও যে মানবতাবাদী হওয়া যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কাজী নজরুল ইসলাম।

ইসলাম একটি সার্বজনীন জীবনব্যবস্থার নাম। ইসলামের সাম্যবাদী মন্ত্র অন্য যে কোনো তন্ত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র। ইসলামের গণ ভিত্তিকে নজরুল মূল্যায়ন করেছেন এভাবে-

'ইসলামের সত্যিকার প্রাণশক্তি; গণশক্তি, গণতন্ত্রবাদ, সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সমান অধিকারবাদ। ইসলামের এই অভিনবত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব আমি তো স্বীকার করিই, যারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী নন, তারাও স্বীকার করেন।'

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নজরুল যেসব কথা বলেছেন বা সেসব কাজ করেছেন, তেমনটি দেড় হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে কেউই করতে বা বলতে পারেননি! সাম্যবাদ ও মানবিকতার বোধ জাগানো আহ্বান জানিয়ে নজরুল বলেছেন-

'অবতার-পয়গম্বর কেউ বলেননি, আমি হিন্দুর জন্য এসেছি, আমি মুসলমানের জন্য এসেছি, আমি ক্রিশ্চিয়ানের জন্য এসেছি। তারা বলেছেন, আমরা মানুষের জন্য এসেছি- আলোর মতো, সকলের জন্য।'

নজরুল সাম্যবাদী ঝান্ডা উঁচু করে রেখেছিলেন এই উপমহাদেশে। নজরুল কালী দেবীকে নিয়েও অসংখ্য শ্যামাসংগীত রচনা করেছিলেন। এমনকি কোনো হিন্দু কবিও নজরুলের সমানসংখ্যক শ্যামাসংগীত রচনা করতে পারেননি।

ব্রিটিশ শাসকদের মনোরঞ্জনে যখন হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায় পা চাটতে ব্যস্ত। এমনকি পরস্পর একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছিল- কার চেয়ে কে বেশি পা চাটতে পারে! তখন ধূমকেতুর মতো নজরুলের আবির্ভাব পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ভুলে সাম্রাজ্যবাদের গদিতে আঘাত করার দুর্দান্ত সাহস জুগিয়েছিল। নজরুলের সাম্যবাদী অনেক সাহিত্যকর্ম তৎকালীন মুসলিম সমাজের গোঁড়া একটি অংশ সহ্য করতে পারেনি। তারা নজরুলকে কাফের আখ্যায়িত করেছিল। অথচ নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যেটির জন্য নজরুল সমগ্র বিশ্বসাহিত্যে নজরুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সেই 'অগ্নিবীণা'র অর্ধেক কবিতাই ইসলামী আদর্শকে লালন করে লেখা কবিতা। এমনকি পরবর্তীতে নজরুল রচনা করেন মহানবীর (স.) জীবনীনির্ভর কাব্যগ্রন্থ 'মরু ভাস্কর'। নজরুল যে ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে হিন্দু বা কাফের নন সে প্রসঙ্গে নিজেই বলেছেন-

'কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনোটাই না। আমি শুধু হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।'

এখানেই স্পষ্ট হয়ে গেছে নজরুলের প্রকৃত বিশ্বাসগত পরিচয়।

নজরুল উপমহাদেশের এমন একজন বলিষ্ঠ কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী যার মতো উদার ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন কোনো সাহিত্যিক এখনো পর্যন্ত পৃথিবার আলো দেখেনি, হোক সে মুসলমান, হোক হিন্দু, হোক বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান! নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে নয়, নিজের স্বতন্ত্র চিন্তা ও চেতনাকে সযত্নে লালন করে তিনি ঐক্যবদ্ধ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

ধর্মান্ধ উগ্রবাদীরা সব ধর্মের জন্যই শুধু নয়, সমগ্র মানবতার জন্যই হুমকিস্বরূপ। ধর্মান্ধরা প্রকৃতপক্ষে ধার্মিক নয়। সকল ধর্মের ধর্মান্ধদের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নজরুলের বক্তব্য-

'ইহারা ধর্ম-মাতাল। ইহারা সত্যের আলো পান করে নাই, শাস্ত্রের অ্যালকোহল পান করিয়াছে।'

এসব সাম্যবাদী স্স্নোগানের পাশাপাশি তিনি নিজের বিশ্বাসের কথা দ্বিধাহীন চিত্তে প্রকাশ করেছেন। ১৯৩৩ সালে কয়েকজন ইসলামী লেখকের সঙ্গে নজরুল কোরআনের শেষের দিকের আটত্রিশটি সুরা অনুবাদ করে 'কাব্য আমপারা' নামে প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থটি আলেমদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে নিজেকে তিনি ইসলামের খাদেম (খাদেমুল ইসলাম) বলে উলেস্নখ করেন।

নজরুলের অসংখ্য কবিতায় ইসলামের প্রতি তার অনুরাগ ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছে। যেমন-

'আলস্না পরম প্রিয়তম মোর আলস্না তো দূরে নয়।

নিত্য আমারে জড়াইয়া থাকে পরম সে প্রেমময়।'

'আমি আলস্নার সৈনিক, মোর কোনো বাধা-ভয় নাই।

তাহার তেজের তলোয়ারে সব বন্ধন কেটে যাই।

তুফান আমার জন্মের সাথী, আমি বিপস্নবী হাওয়া

'জেহাদ', 'জেহাদ', 'বিপস্নব', 'বিদ্রোহ', মোর গান গাওয়া!'

ধর্মীয় বিশ্বাসগতভাবে নজরুল ছিলেন একজন খাঁটি তৌহিদবাদী মুসলিম। একাত্ম্যবাদের প্রতি অটল বিশ্বাসের কথা ফুটে ওঠে তার 'খেয়াপারের তরণী' কবিতায়-

'কান্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মালস্না

দাঁড়ি মুখে সারি গান লা-শরিক আলস্নাহ।'

মহরমে কথিত ত্যাগের আত্মঘাতী মিছিল 'তাজিয়া'র অসারতা প্রমাণ করে নজরুল লিখেছেন-

'ফিরে এলো আজ সেই মহররম মাহিনা,

ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।'

নজরুল তার ইমান রক্ষা ও ইমানি চেতনাকে সুদৃঢ় করার মানসিকতায় রচনা করে গেছেন অজস্র ইসলামী গান-

'বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা

শির উঁচু করি মুসলমান।

দাওয়াত এসেছে নয়া জমানার

ভাঙা কিলায় ওড়ে নিশান।

মুখেতে কলেমা হাতে তলোয়ার

বুকে ইসলামী জোশ দুর্বার

হৃদয়ে লইয়া এশক আলাহর

চল আগে চল বাজে বিষাণ।'

মানবতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয়ও তুচ্ছ হয়ে যায়। বিষয়টি সঠিক, যৌক্তিক ও শাস্ত্রসিদ্ধ! ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের বিপক্ষে উপমহাদেশের মানুষকে ধর্ম পরিচয় পিছনে রেখে ঐক্যবদ্ধ করার সুমহান প্রয়াস-

"অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,

কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ।

হিন্দু না ওর মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসা কোন জন?

কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা'র! .....

কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,

বাঙালির খুনে লাল হ'ল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!

ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর।'

নিজের প্রতিবাদী সত্তা ও কলমের তেজ উপস্থাপন করে নিজের পরিচয় উপস্থাপন করেছেন-

'আমি ভেঙে করি সব চুরমার'

নিজের কলমের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে কবির উক্তি-

'প্রার্থনা করো-যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস

যেন লেখা হয় আমার রক্তলেখায় তাদের সর্বনাশ'

শুধু বয়স্কদের জাগানোর কাজই করেননি নজরুল। শিশুদেরও জাগ্রত করার সফল প্রয়াস চালিয়ে গেছেন আজীবন। শিশুতোষ কবিতায় সাবলীল উপমা-রূপকের সাহায্যে ভবিষ্যতের দেশপ্রেমিক গড়ে তোলার প্রয়াস চালিয়েছেন- 'আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে'

কালোত্তীর্ণ এই কিংবদন্তি কবি সমালোচনাকারীদের দাঁত ভাঙা জবাব দিয়ে বলেন-

'আজটা সত্য নয়, কটা দিন তাহা

ইতিহাস আছে আছে ভবিষ্যৎ'

নজরুলের সেই জবাবটিই আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে নজরুলের সত্যের মাপকাঠি বুদ্ধিদীপ্ত উক্তিটি।

১৯৪২ সালে বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাকশক্তিহীন ও বুদ্ধিহীন হয়ে বাকি জীবনের ৩৪টি বসন্ত অতিক্রম করেন নীরবতায়। সাকুল্যে মাত্র ২০ বছরের সাহিত্যচর্চা নজরুলকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিদের বিজয় লাভের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে পরিচিতি লাভ করে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। কবির বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটে। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানের সরকারি আদেশ জারি করা হয়।

যথেষ্ট চিকিৎসা সত্ত্বেও নজরুলের স্বাস্থ্যের বিশেষ কোনো উন্নতি হয়নি। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে কবির সবচেয়ে ছোট ছেলে এবং বিখ্যাত গিটারবাদক কাজী অনিরুদ্ধ মৃতু্যবরণ করে। ১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতে শুরু করে। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট বিদ্রোহী কবি পৃথিবী হতে চিরবিদায় গ্রহণ করেন। নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন-

'মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই

যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।'

কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তার সমাধি রচিত হয়।

আপসহীন সংগ্রামী কবি নজরুল চাকচিক্যময় পৃথিবী হতে বিদায় নিলেও তিনি বেঁচে আছেন তাবৎ জগতের স্বাধীনচেতা মানুষের হৃদয়ে। নজরুল সময়কে ধারণ করলেও পরবর্তী মহাকালই নজরুলকে ধারণ করতে বাধ্য হবে। যতদিন পৃথিবী থাকবে, শোষণ, নির্যাতন, বৈষম্য থাকবে, সাম্রাজ্যবাদ আর আধিপাত্যবাদ থাকবে ততদিন নজরুল থাকবেন সাম্রাজ্যবাদীদের ভয়াবহ আতঙ্ক ও স্বাধীনতাকামীদের প্রেরণার উৎস হিসেবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে