logo
  • Thu, 20 Sep, 2018

  ড. আশিস গোস্বামী   ০৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

লোক নাট্যদলের অন্তর ও বাহির

লোক নাট্যদলের অন্তর ও বাহির
আজ ৬ জুলাই লোকনাট্য দলের প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পূতির্ এবং ৩৮ বছর পদাপের্ণর মাহেন্দ্রক্ষণে কার কথা আগে বলব। লিয়াকত আলী লাকী না তার নাট্যদলÑ যার নাম লোকনাট্য দল। দেখতে দেখতে দলটির বয়স হয়ে গেল। একটা সংগঠনের ক্ষেত্রে সাইত্রিশ হয়তো বা তেমন কিছু না কিন্তু একটা মানুষের প্রায় গোটা জীবন। আবার সংগঠনের বয়স খুব বেশি নয় বলাটা কি ঠিক হবে। কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, কত কান্না অভিমান পেরিয়ে, কত নিন্দা-মন্দের পাহাড় ডিঙিয়ে সাইত্রিশ বছর টিকে থাকা যায়, তা দূরের মানুষরা বুঝবেন না। স্বাভাবিক জীবনযাপনের বাইরে যে কোনো কিছু নিয়ে আলাদা করে টিকে থাকা বড় কঠিন কাজ। অনেক ত্যাগ সেখানে লুকিয়ে থাকে। অনেক প্রতিদিনের চাওয়া-পাওয়া আর পাওয়া হয়ে ওঠে না। লাকীরও কী মনে হয়নি কখনো, দূর! আর নয়। খুব মনে হয়েছে। অনেকবার মনে হয়েছে। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে ওর পাথর্ক্য ছিল এইখানে যে, সে কোথায় যাবে? দলটি তৈরি করেছে সে, এ তার নিজের ঘর। তার চলে যাওয়া মানে ঘর ভেঙে নতুন ঘর বানাতে হবে। এ রকম উদাহরণ যে নেই তা নয়। যিনি দল তৈরি করেন তিনি দলে থাকতে পারেন নাÑ এমন উদাহরণ কম নেই। কিন্তু লিয়াকত আলী সেই জেদের কাছে জয়ী এখনো। আমার দল ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। এ আমার গড়া তিলোত্তমা। কতবার একা হয়ে পড়েছে আবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে নতুন উদ্যমে। নতুন ছেলেমেয়ে, নতুন মুখ নিয়ে পুরনো একাকী লিয়াকত আলী লাকী সাইত্রিশ বছর ধরে তার লোকনাট্য দলের তরী বইছেন। লাকী একজন ভালো সংগঠক বলেই দলটিকে নানা অসুবিধার মধ্যেও সজীব রাখতে পেরেছে। শুধু সংগঠক হিসেবে লোকনাট্য দলকে টিকিয়ে রাখাই তার কাছে চ্যালেঞ্জ নয়, সেই দলের আওতায় আর বহুবিধ কাজ করাটাই তার মূল উদ্দেশ্য। ওর মধ্যে সব সময় নতুন নতুন কাজের আইডিয়া থাকে। কথা বলে কম, অন্যের কথা বেশি শোনে। আর অধর্বাক্যে মতামত দিয়ে বলে, ‘দেখি কী করা যায়!’ এই লাকী অন্যের মতামতে প্রলুব্ধ হয় কম, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেয় কিন্তু নিয়ে ফেললে কাজ চলে তরতরিয়ে। এভাবেই নিজের নাট্যদলকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ধরনের কাজের সীমানা বাড়িয়ে দিয়েছে। আসলে, শুধু নিজের থিয়েটার নয় সামগ্রিক থিয়েটার পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়েই ওর ভাবনা। সেই উন্নয়ন শুধু দলীয় ক্ষেত্রে নয়, সামগ্রিক দেশের স্বাথের্ও হবে, এমন ভাবনাই ভাবতে চায় সে। তাই অভিনয়-মহড়া-দলের সংগঠনের পাশাপাশি জননাট্য আন্দোলন, ড্রামা ফর ক্যাপাবিলিটি, পিপল্স লিটল থিয়েটার, জাতীয় শিশু কিশোর নাট্যোৎসব, পিপল্স থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন, শিশু নাট্য পদক, মঞ্চকুঁড়ি পদক, জাতীয় শিশু কিশোর নাট্যোৎসব, স্কুল থিয়েটার কমর্সূচি, যুব থিয়েটার কমর্সূচি, পিপল্স রেপাটির্র থিয়েটার, নাট্যতথ্য ব্যাংক- এতসব কাজের বিস্তৃতি ঘটাতে পেরেছে সে, সব কাজ সাথর্ক বা সঠিকভাবে করে উঠতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে কথা হতে পারে, সমালোচিত হতে পারে, কিন্তু থিয়েটারকেন্দ্রিক এত বিচিত্র ভাবনা বিচিত্র কাজের পরিধিকে অস্বীকার করার উপায় নেই। লাকী অনায়াসেই পারত কেবল লোকনাট্য দলের ব্যানারে একের পর এক থিয়েটার প্রযোজনা করেই ক্ষান্ত হতে। কিন্তু লাকী সেটা পারত না, এখানেই লিয়াকত আলী লাকী ভিন্ন, এখানেই আমার গোপন গবর্ যে আমি তাকে চিনি, সে আমার পরিচিত জন। কমর্পাগল একটা মানুষ। এর কারণ সম্ভবত ওর রাজনৈতিক দীক্ষা। রাজনীতির পরিমÐলে বড় হওয়ার এক মস্তগুণ হলো, নিজের কাজকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা, নিজের ভাবনাকে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। লাকী সেটা পারে বলেই ওকে কেউ এখনো কাজের ক্ষেত্রে নত করতে পারেনি। ঠিক সহযাত্রী জুগিয়ে এনে কাজগুলো করে গেছে। আজ যদিও সে ক্ষমতাবান কিন্তু তা না হলেও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা সে করতই। ক্ষমতা সহযোগী হয়েছে, অনেক কাজকে সহজে করতে পেরেছে। কিন্তু ক্ষমতাশালী হলে শত্রæর সংখ্যাও যে বাড়ে এটা লাকীর থেকে ভালো আমরা জানি না। ভয়ংকর এক আড়াল নিতে হয় বন্ধু-স্বজন-পরিজনদের মধ্যে থেকেও। আর এই বিপদটা শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক থাকে না নাট্যদলটির ওপরেও বতার্য়। এসবের মধ্যে থেকেও লোকনাট্য দল সক্রিয়, মাঝেমধ্যে মনে হয় বেশি সক্রিয়, অন্য অনেক দলের তুলনায়।

এই সাইত্রিশ বছরে লোকনাট্য দলের মূল প্রযোজনার সংখ্যা বাইশ-তেইশ। ‘মূল’ বলছি এই কারণে যে, লোকনাট্য দলের আরও অনেক কমর্কাÐে আরো অনেকগুলো প্রযোজনা করেছে। সেসব মিলিয়ে প্রযোজনা সংখ্যা যা দঁাড়ায়, শত্রæর মুখে ছাই দেয়ার জন্য যথেষ্ট। সেসব মিলিয়ে প্রযোজনা তালিকাটা দেখলেই ঠাহর করা যায় কত কিসিমের প্রযোজনায় হাত দিয়েছে দলটি। নিজস্ব নাট্যকার না থাকায় পৃথিবী ঘুরে নানা জাতের নাট্যকার নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। নিজেদের দলের নাট্যকার থাকলে সুবিধে যেমন অসুবিধাও কম নেই। লাকীর কাছে একান্ত আপন কেউ নন সবাই আপন। তাই উইলিয়াম শেক্সপিয়র, ব্রেখট, মলিয়র, রবীন্দ্রনাথ থেকে মুনীর চৌধুরী, মোহিত চট্টোপাধ্যায় হয়ে ভারতেন্দু হরিশচন্দ্র পযর্ন্ত বিচরণ করেছে দলটি। সব প্রযোজনা কোনো পরিচালকই সফল করতে পারেন না, সফল হয় দু-একটি। যা তাকে বঁাচিয়ে রাখে ইতিহাসের কাছে। আবার এই দু-একটি সফলতা আসবে না যদি বহুবিধের যাত্রাভিসারী না হন। লিয়াকত আলী লাকী ওরফে লোকনাট্য দলও নানা ধরনের কাজ করতে করতেই ‘সোনাই মাধব’ বা ‘কঞ্জুস’ এর সাফল্য পেয়েছে। তার মানে এই নয় বাকি সব ফালতু। কোনটা ভালো, কোনটা ভালো কিন্তু দশর্ক ধন্য নয়, কোনোটা চ‚ড়ান্ত পরীক্ষামূলক আবার কোনোটা ব্যথর্। এই চলাটাই শেষ পযর্ন্ত সাফল্য আনে বা আজীবন সফল বলতে যা বোঝায় সেই সিদ্ধকাম না হতে পারেন কেউ কেউ কিন্তু চলাটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। তাহলে সামগ্রিক নাট্যচচাের্কই অসম্মান করা হবে। বাংলাদেশ জুড়ে যত থিয়েটার কমীর্র কাজ, তাদের আত্মত্যাগ মিশে আছে এই সাফল্য-ব্যথর্তার সরণিতে। এসব অস্বীকার করার অথর্ ইতিহাসকে অস্বীকার করা। জনপ্রিয়তা সাফল্যের মাপকাঠি হলেও একসূত্র মাপকাঠি ভেবে বাকি কাজের শ্রমকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। লোকনাট্য দলও এত কাজের মধ্যে কালোত্তীণর্ দুটি প্রযোজনায়, ‘সোনাই মাধব’ এবং ‘কঞ্জুস’, তার মানে আমি কিন্তু ভুলে গেলাম ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ‘হেলেন’, ‘অতঃপর হরেণ মÐল’ বা গরফংঁসসবৎ ঘরমযঃ উৎবধস-এর কথা? না, মোটেই তা নয়। এসবের জন্য মধ্য দিয়েই জন্মায় একটা সোনাই মাধব’ বা ‘কঞ্জুস’। লোকনাট্য দলের ওই দুটি প্রযোজনা আজ ইতিহাস। আমার কাছে ‘সোনাই মাধব’ চিরসুন্দর একটি প্রযোজনা। সম্ভবত ১৯৯৩-এ প্রথমে মঞ্চস্থ হয়। আবার ২০১৫ থেকে নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী নিয়ে পদাবলি যাত্রা হয়ে শুরু হয় অভিনয়। শুরু থেকেই প্রযোজনাটি দশর্ক অভিনন্দন পেয়েছে। আলাদা করে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি লিয়াকত আলী লাকীর অসাধারণ অভিনয়। লাকী সুগায়ক, সুঅভিনেতা। শরীর অতটা অভিনয় উপযোগী নয়। তা সে জানে। তাই বতর্মান প্রযোজনায় সেই শরীরকে নিপুণভাবে ব্যবহার করছে। গান আর অভিনয় দিয়ে লাকীর চরিত্র চিত্রন ঈষর্ণীয়। তাই প্রায় চব্বিশ বছর ধরে প্রযোজনাটি সমান জনপ্রিয়। আবার খুব প্রিয় প্রযোজনাগুলোর মধ্যে একটি এই ‘সোনাই মাধব’। জনপ্রিয়তার নিরিখে অবশ্য ‘কঞ্জুস’ অনেক বেশি এগিয়ে, সেই ১৯৮৮ থেকে নিয়মিত চলছে ‘কঞ্জুস’, অথার্ৎ প্রায় তিরিশ বছর ধরে একটি নাটকের প্রযোজনা চলাটা খুবই বিস্ময়কর। এই নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন ১৯৮০ হলেও দল দলীয় সংকটের কারণে অল্প কয়েকদিনের জন্য অভিনয় বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪-এর মধ্যে দুশো অভিনয়। আর এখন প্রায় সাতশো ছুঁই ছুঁই করছে। বস্তুত এক ইতিহাস। মলিয়রের নাটক অতিরঞ্জিত হয়েছে বলে একসময় তাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করা হয়েছে। নাটককে স্থূল প্রহসনে নামিয়ে আনা হয়েছে বলেও দায়ী করা হয়েছে তাকে। কিন্তু সময়ের পথ বেয়ে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন সবচেয়ে সবর্জনীন ও আধুনিক। ‘কঞ্জুস’ প্রযোজনা নিয়েও কানাঘুষা কম হয়নি। কিন্তু প্রায় তিরিশ বছর ধরে মঞ্চস্থ হয়ে চলছে যে প্রযোজনা তাকে কি আর সন্দেহের চোখে দেখা উচিত হবে। লোকনাট্য দলের নাট্য প্রযোজনার আলোচনায় আরও একটি প্রযোজনার কথা বারবার ফিরে ফিরে আসে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র নাট্যরূপায়ণকে লাকী নিজেও আলাদা জায়গা দিয়েছে। আর এই প্রযোজনা সম্পকের্ ক্রিটিকসের উক্তিই সম্ভবত শ্রেষ্ঠ উক্তিÑ ‘গৌতম ঘোষের পদ্মা নদীর মাঝি দেখলে চোখ জুড়ায় (চলচ্চিত্র)। লিয়াকত আলী লাকীর পদ্মা নদীর মাঝি দেখলে হৃদয় স্পশর্ করে’। লোকনাট্য দল তাদের প্রযোজনার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের নাট্যচচাের্ক কতখানি সমৃদ্ধ করতে পেরেছে- একথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। তবে সুপ্রযোজনাকারী দল হিসেবে ধীরে ধীরে একটি স্থায়িত্বের আসনের অধিকারী হয়ে থাকবে একথা বলা যায়। সচরাচর যে নাট্যদলগুলোকে ভালো নাট্যদল বলে নামোচ্চারণ করে থাকি সেখানে এসে যায় এই নামটিও-লোকনাট্য দল।

লোকনাট্য দলের আরও এক বড় কৃতিত্ব বলে মনে করি শিশুনাট্যের  প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভ‚মিকা পালনে। প্রায় সমান গুরুত্ব দিয়ে শিশু নাটক প্রযোজনা করা, উৎসব করা, দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতিবছর যাওয়া সব মিলিয়ে গুরুত্বপূণর্ কাজটি শুরু করেছে ১৯৯০ থেকে অথার্ৎ লোকনাট্য দল গঠনের সাত বছরের মধ্যে। ১৯৮৩ যদি ঠিকমতো কাজের শুরুয়াত ধরি, লাকী তখন শুধুই অভিনেতা-সংগঠক। তবে অচিরেই তাকে মূল দায়িত্ব নিতে হয়। শুরু থেকেই তার ভাবনায় শিশু নাট্যচচার্র অগ্রাধিকার ছিল। তাই লোকনাট্যের মধ্যে থেকেও শিশুদের নিয়ে নাট্যচচার্র গুরুত্ব মেনে স্বতন্ত্র একটি সংগঠন হিসেবেই গড়ে নিয়েছিল এই চচাের্ক। লোকনাট্য দলের চিলড্রেন্স থিয়েটার ট্রপ, পরে নাম পরিবতর্ন করে হয় ‘পিপল্স লিট্ল থিয়েটার’ (পিএলটি) এবং পিপল্স লিট্ল থিয়েটার কাযর্ক্রম সংগঠিত হতে থাকে পিপল্স থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের ছত্রছায়ায় ১৯৯০-এর ১ জানুয়ারি থেকে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থিয়েটারের মাধ্যমে শিক্ষাজ্ঞানকে শিশু-কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া, এই কাজটাকে একটি আন্দোলনের চেহারায় পেঁৗছে দেয়া সম্ভব হয়েছিল। এই কাজটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে বলেই মনে করি। এখানেই শেষ নয়Ñ লাকীর চাই নিত্য-নতুন কাজ, কাজের চ্যালেঞ্জ। আগেই জানিয়েছি, ওর মাথায় অনবরত ঘুরপাক খায় সাবির্ক থিয়েটার জগতের উন্নয়ন। তাই নানাবিধ পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন। বিশ্বনাট্য দিবস উদ্যাপন, জননাট্য আন্দোলন, ড্রামা ফর ক্যাপাবিলিটি এবং নাট্যতথ্য ব্যাংকের কাজগুলো সে করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাজই বাংলাদেশ থিয়েটার নতুন সংযোজন। ফলে প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পূতির্ এবং ৩৮ বছরের পদাপের্ণ লোকশিক্ষায় নিবেদিত লিয়াকত আলী লাকীর লোকনাট্য দলের অন্তর ও বাহির।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে