logo
রোববার ১৬ জুন, ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২১ মে ২০১৯, ০০:০০  

জার্মানি

নতুন অভিবাসন নীতির খসড়া উত্থাপন

নতুন অভিবাসন নীতির খসড়া উত্থাপন
দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা অভিবাসন আইনের খসড়া সংসদে উত্থাপন করেছে জার্মান সরকার। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন, দক্ষ শ্রমিকদের আকৃষ্ট করতে আইনের যথেষ্ট সংস্কার হয়নি।

৯ মে জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে দক্ষ শ্রমিকদের অভিবাসনে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া উত্থাপনের পর তুমুল বিতর্ক হয়। নতুন প্রস্তাবে পাঁচ মাস আগেই মন্ত্রিসভার সায় পেয়েছিলেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। কয়েক বছর ধরেই জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে দক্ষ শ্রমিকের অভাবের কথা বলে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য কারিগরি খাতেও রয়েছে যথেষ্ট জনবল সংকট। জার্মানিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। তাদের জন্য সেবা খাতেও প্রয়োজন প্রচুর লোক।

ঐতিহাসিক মোড়

রক্ষণশীল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্স্ট সেহোফার বুন্ডেসটাগে খসড়া উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত আইনে কারা, কী শর্তে জার্মানিতে কাজ করতে আসতে পারবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে খুব সতর্কতার সঙ্গে তিনি এটিও জানিয়ে দিয়েছেন, জার্মানিতে অভিবাসননীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও চাকরির বাজারের অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে তা যে-কোনো সময় পাল্টে ফেলা যাবে।

এতদিন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কাউকে চাকরি দিতে হলে আগে সেই কাজে ইউরোপের কোনো যোগ্য নাগরিককে না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হতো। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে সে বাধ্যবাধকতা আর রাখা হচ্ছে না। খসড়া প্রস্তাবে এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে। এই আইন পাস হলে কারিগরি দক্ষতা থাকা অভিবাসীদের জার্মানিতে আসা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো।

শ্রমিক হিসেবে মেনে নেয়ার প্রস্তাব

জার্মান শ্রমমন্ত্রী হুব্যার্টুস হাইল আরেকটি প্রস্তাবে অভিবাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া কিছু প্রত্যাশীকেও মেনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যেসব অভিবাসনপ্রত্যাশী রাষ্ট্র-অনুমোদিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, বা সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ করেন, জার্মান ভাষা শিখেছেন এবং এরই মধ্যে ১৮ মাস ব্যক্তিগত খরচ বহন করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন, তাদের এই স্ট্যাটাস দেয়া যেতে পারে।

প্রো অ্যাসাইলের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলছে, এ প্রস্তাবে কেবল জার্মানির অর্থনৈতিক স্বার্থের কথাই বিবেচনা করা হচ্ছে, এর ফলে জার্মানিতে অভিবাসনে আগ্রহীদের খুব একটা লাভ হবে না।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরাও এই প্রস্তাব নিয়ে তেমন একটা উচ্ছ্বাসের কিছু দেখছেন না। ওসনার্বু্যক ইউনিভার্সিটির অভিবাসন আইনের অধ্যাপক থমাস গ্রস বলছেন, 'এত নিয়ন্ত্রিত আইনের কোনো মানে নেই। অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীরই কী হবে, তা এখনো মীমাংসা করা হয়নি। তারা অনেক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কাজের অনুমতি পাবেন। কিন্তু এটা রেসিডেন্স পারমিট নয়, বরং দ্বিতীয় শ্রেণির অনিশ্চিত এক অনুমতি। খুব অল্প কিছু লোকের ওপর এটা প্রযোজ্য হবে।'

তবে স্বভাবতই অন্য সবার চেয়ে ঠিক বিপরীত মন্তব্য এসেছে কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড- এএফডির পক্ষ থেকে। দলটির প্রতিনিধি গোটপ্রিড কুরিও মনে করেন, এই প্রস্তাবিত আইন কেবল আরও 'অদক্ষ দরিদ্র শ্রমিকদের অভিবাসনে উৎসাহিত' করবে।

নতুন আইনটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। সরকার অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আইন কার্যকরে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে আগামী জানুয়ারিতে আইন কার্যকর করতে চাইলে তা পাস করতে হবে এই গ্রীষ্মেই।

য় ডয়েচে ভেলে অবলম্বনে
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে