logo
বুধবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

ধষর্ণ প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী ও শিশুর প্রতি নানারকম নিষ্ঠুর নিযার্তন-নিপীড়ন, লাঞ্ছনা-গঞ্জনার খবর প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেসব ঘৃণিত অপরাধের আলোচিত সংবাদ হচ্ছে ‘ধষর্ণ’। যদিও আমাদের দেশের আইনানুযায়ী ধষর্ণ একটি ফৌজদারি অপরাধ। যেখানে নারীদের বহুমাত্রিক সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। লিখেছেন মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী

ধষর্ণ প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা
দÐবিধি এবং নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনে সুস্পষ্টভাবে ধষের্ণর অপরাধ ও কঠোর শাস্তি সম্পকের্ বলা আছে। তারপরেও চারপাশে বিভিন্ন কায়দায় ধষের্ণর শিকার হচ্ছে নারীরা। এমনকি ববের্রাচিত ধষের্ণর পর ধষির্তাকে পৈশাচিকভাবে নিযার্তন ও হত্যা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধষের্ণর খবর অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে আসে না। আলোচনায় আসে না। বিচার চাওয়া হয় না। অপরাধী ধষর্কদের সাজা হয় না। কারণ ধষের্ণর পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবার সামাজিকতার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া অনেক সময়ে ধষের্কর ভয়ে অনেকেই আইনের আশ্রয় নেন না। নিলেও পুলিশিÑ ডাক্তারি হেনস্তা, কোটের্ নানা সমস্যা ও মামলার জটিলতা এবং দীঘর্সূত্রতার কারণে অনেকেই আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে চাই না।

আবার সঠিকভাবে আইন ও অধিকার সম্পকের্ না জানার কারণেও অনেক নারী পাচ্ছে না তাদের ন্যায্য আইনগত অধিকার। আবার এসব জানলেও অধিকার আদায়ে সোচ্চার কিংবা আইনের আশ্রয়ে যেতে চান না বিভিন্ন ঝামেলার কারণে। মূলত ধষির্তা নারীর আত্মসম্মান বা পারিবারিক মযার্দা রক্ষা, লোকলজ্জা, সমাজে রটে যাওয়ার ভয়, ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তা, জীবননাশের হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতা, হয়রানিসহ বিভিন্ন কারণ এর পেছনে কাজ করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ধষের্ণর আইনি সংজ্ঞা:

আমাদের দেশে বিদ্যমান ধষর্ণসংক্রান্ত আইনগুলো পযাের্লাচনা করে বলা যায়, যদি কোনো পুরুষ বৈধ বিবাহবন্ধন ছাড়া ষোল বছরের বেশি বয়সের কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদশর্ন করে বা প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায় করে যৌনসঙ্গম করলে অথবা ষোল বছরের কম বয়সের কোনো নারীর সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া যৌনসঙ্গম করলে তখন উক্ত নারীকে ধষর্ণ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সের বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলেও ধষর্ণ হবে। অন্য ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত ধষের্ণর অপরাধ প্রমাণের জন্য যৌনসঙ্গমে যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট বিবেচিত হবে। এখানে ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ বলতে সরাসরিভাবে অনিচ্ছুক বা আগ্রহী না হওয়া। আরও বোঝাবে, ঘুমন্ত অবস্থায় বা কোনো প্রকারে নেশাগ্রস্ত করে বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো নারীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করা। আর ‘সম্মতি ছাড়া’ বলতে, স্বাধীন বা স্বেচ্ছায় যৌনসঙ্গমে নারীর অনুমতি না দেয়া। ‘ভীতিপ্রদশর্ন’ বলতে, নারীকে কোনোভাবে মৃত্যুভয় বা মারাত্মক বা হালকা শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কোনো প্রকার আঘাত করা বা হুমকি প্রদশর্ন করে সম্মতি আদায় করে যৌনসঙ্গম করা। আইনে প্রতারণামূলক সম্মতি আদায় বলতে বোঝানো হচ্ছে, বিয়ে হয়েছে বা বিয়ে কাযর্কর আছে তথা পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটির স্বামী নয় এবং স্ত্রীলোক পুরুষলোকের সঙ্গে বৈধ বিবাহ হয়েছে বলে বিশ্বাস করে। বিবাহিত স্ত্রীর বয়স যদি তেরো বছরের বেশি হয় তাহলে ধষর্ণ হিসেবে গণ্য হবে না।

নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ ধারায় ধষর্ণ ও ধষর্ণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। উপধারা ১-এ শুধু ধষের্ণর শাস্তি সম্পকের্ বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধষর্ণ করেন তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদÐে দÐিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অথর্দÐে দÐিত হবেন। উপধারা ২-এ ধষর্ণজনিত কারণে ধষির্তা নারীর মৃত্যু হলে তার শাস্তি সম্পকের্ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক ধষর্ণ বা ওই ধষর্ণপরবতীর্ তার অন্য কোনো কাযর্কলাপের ফলে যদি ধষির্তা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদÐ বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদÐে দÐনীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অন্যূন এক লাখ টাকা অথর্দÐে দÐিত হতে পারেন।

উপধারা তিন-এ দলগতভাবে ধষর্ণ করলে তার শাস্তি সম্পকের্ বলা হয়েছে, যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধষর্ণ করে এবং ধষের্ণর ফলে ওই নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদÐে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদÐে দÐিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অথর্দÐেও দÐিত হতে পারেন। অথার্ৎ সবাই সমান অপরাধী। উপধারা ৪-এ বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নারী বা শিশুকে- (ক) ধষর্ণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে ওই ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদÐে দÐনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অথর্দÐে দÐনীয় হবেন; (খ) শুধুই ধষের্ণর চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি অনধিক দশ বছর সশ্রম কারাদÐে দÐনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অথর্দÐনীয় হবেন।

উপধারা পঁাচ অনুযায়ী, যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে কোনো নারী ধষির্ত হন, তাহলে যাদের হেফাজতে থাকাকালে ধষর্ণ সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা ধষির্ত নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যথর্তার জন্য অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পঁাচ বছর সশ্রম কারাদÐে দÐনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অথর্দÐে দÐনীয় হবেন।

উল্লেখ্য, আইনানুগভাবে ধষের্ণর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগকারী ধষির্তাকেই প্রমাণ করতে হয় এবং আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট সব সাক্ষ্য যথাসম্ভব সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়। কিন্তু পেশাগতভাবে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত কোনো নারী যদি ধষের্ণর অভিযোগ করে তাহলে সেই বিষয়ে তার নিজের বিবৃতি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয় না। তাকে ধষের্ণর অভিযোগ অত্যন্ত জোরালো সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়।

লেখক : আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ কোটর্,

ইমেইল ষষ.নৎধরযধহ@মধসরষ.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে