logo
  • Thu, 18 Oct, 2018

  মাহমুদুর রহমান খান   ৩১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হুমায়ূন আহমেদ

বাংলা সাহিত্যের তরুণ এবং বিভিন্ন বয়সী পাঠকদের মনে যে নামটি আজও জায়গা করে আছে, তা হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হুমায়ূন আহমেদকে বলেছিলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের একটি শতাব্দীর সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক।’ তার মতে, ‘হুমায়ূন আহমেদ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চেয়েও জনপ্রিয় ছিলেন।’ তবে তিনি শুধু জনপ্রিয়ই নন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো বিখ্যাত লেখকদের মৃত্যুর পরবতীর্ সময়ে বাংলা সাহিত্যকে অন্ধকার থেকে টেনে তুলেছিলেন এক অনন্য স্থানে। পেয়েছেন বিপুল পাঠকপ্রিয়তা এবং সেই সঙ্গে প্রচুর পাঠক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। কবি আল মাহমুদ বলেন, ‘ঠাকুর ও নজরুলের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের একটি স্বণর্যুগ শেষ হয়েছে এবং আরেকটি শুরু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের মধ্য দিয়ে।’

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি উপন্যাস, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য এবং সায়েন্স ফিকশন মিলিয়ে প্রায় কয়েকশ’ বই লিখেছেন। তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘লীলাবতী’, ‘দেবী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘কবি’ ও ‘বাদশাহ নামদার’ ইত্যাদি তার জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। তার রচিত প্রথম সায়েন্স ফিকশন হচ্ছে ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’। অসাধারণ সব গল্প সৃষ্টি করায় তাকে গল্পের জাদুকর বলা হয়। এ ছাড়াও জীবদ্দশায় তিনি কিছু আত্মজীবনী গ্রন্থও রচনা করেছেন। বতর্মানে তার কিছু রচনা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে অন্তভুর্ক্ত রয়েছে।

তার রচিত মিসির আলি, হিমু, শুভ্র চরিত্রগুলো এখনো সমান জনপ্রিয়। তিনি চরিত্রের মাধ্যমে বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। চরিত্রগুলো পড়ার সময় পাঠকের মনে মায়া ও ভালোবাসা কাজ করে। এমনকি অনেক সময় তার সৃষ্টি খলনায়ক চরিত্রের প্রতিও পাঠকের মায়া জন্মে যায়। জনপ্রিয় লেখক ইমদাদুল হক মিলন তার সম্পকের্ বলেন, ‘তিনি বাংলা সাহিত্যের সবর্শক্তিমান সৃষ্টিকারী, যিনি তার সৃষ্ট চরিত্রের সব কাজ ও চিন্তা-ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করেন।’ মিসির আলি চরিত্রের প্রথম উপন্যাস ‘দেবী’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। পরে একে একে এই চরিত্র নিয়ে ‘নিশীথিনী’, ‘নিষাদ’, ‘অন্য ভুবন’ ইত্যাদিসহ আরও কিছু উপন্যাস লিখে ফেলেন। হিমু চরিত্রটির যাত্রা শুরু ১৯৯০ সালে ময়ূরাক্ষী উপন্যাস দিয়ে। এটি পাঠকপ্রেমিদের মনে খুব দ্রæত জায়গা করে নেয়। পরে একে একে ‘হিমু’, ‘পারাপার’, ‘এবং হিমু’, ‘হিমুর দ্বিতীয় প্রহর’সহ আরও অনেক হিমু চরিত্রের উপন্যাস প্রকাশিত হতে থাকে। যা বতর্মানে ‘হিমু সমগ্র’ নামে প্রথম ও দ্বিতীয় খÐে সংগৃহীত আছে।

প্রখ্যাত নাট্যকার এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান নিমার্তা নওয়াজিশ আলি খানের আহŸানে হুমায়ূন আহমেদ ‘প্রথম প্রহর’ নামে একটি নাটক রচনা করেন। যার পরিচালক ছিলেন নওয়াজিশ আলি খান। ১৯৮৩ সালে নাটকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হলে এটি খুব জনপ্রিয়তা পায়। পরে ‘অসময়’, ‘অযাত্রা’, ‘বিবাহ’, ‘এসো নিপবনে’, ‘নিমফুল’ নামক নাটকগুলো প্রচারিত হয়। ১৯৮৫ সালে ‘এইসব দিনরাত্রি’ নামে তার প্রথম ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়। এ ছাড়াও ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকগুলোও জনপ্রিয়তা লাভ করে। দিনরাত্রি নাটকের ‘টুনি’ চরিত্রকে বঁাচিয়ে রাখার জন্য টেলিভিশন দশর্কদের চিঠি আসতে থাকে তার বাসায়। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকটির বাকের ভাই চরিত্রটি বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র। নাটকে বাকের ভাইয়ের ফঁাসি রুখতে দশর্করা রাস্তায় ¯েøাগানসহ মিছিল পযর্ন্ত করেছিল। এ ছাড়াও একুশ শতাব্দীর শুরুর দশকে তার রচনা ও পরিচালনায় প্রচুর নাটক নিমির্ত হয় যার অধিকাংশই সফলতা লাভ করে।

জীবনের শেষ ভাগে জননন্দিত এই লেখক গাজীপুর জেলায় তার নিজের তৈরি করা বাগান বাড়ি নুহাশ পল্লীতে থাকতে ভালোবাসতেন। তার জীবনের এক বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে এই নুহাশ পল্লী। তিনি নিজের শৈল্পিক সৌন্দযর্ দিয়ে জীবদ্দশায় এটি সাজিয়েছেন। ২০১১ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে গেলে তার দেহে কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে। তারপর তিনি নিউইয়কের্র মেমোরিয়াল স্লোয়ান-কেটরিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নেন। ১২ দফায় কেমোথেরাপি নেয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু শরীরে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। কৃত্রিমভাবে লাইফ সাপোটের্ রাখার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়কর্ সময় ১১:২০ মিনিটে বেলেভ্যু হাসপাতালে তিনি সবাইকে কঁাদিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার প্রিয় নুহাশ পল্লীতে তিনি চিরতরে ঘুমিয়ে আছেন। আর তার সমাধির উপরে স্বচ্ছ কাচের মধ্যে জ্বলজ্বল করে লেখা রয়েছে ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে নিয়ো না নিয়ো না সরায়ে’ এপিটাফটি। খ্যাতনামা এই লেখকের ষষ্ঠ মৃত্যুবাষির্কীতে তার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সদস্য

জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম

খিলগঁাও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে