logo
রোববার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫

  মো. ইব্রাহিম খলিল   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

হলুদ খামে চিরকুট

হলুদ খামে চিরকুট
আমি আর নূরী প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পযর্ন্ত দুজনে এক সঙ্গে পড়ালেখা করছি। ওর সাথে আমার ঘনিষ্ঠ ভাবও ছিল। চেহারা ছিল প্যঁাচার মতো, কণ্ঠস্বর ছিল মিষ্টি, দেখতে যেন অপূবর্! ত্বক যে, এত কোমল টোকা দিলেই রক্ত ঝরবে।

দুষ্টমিতে একটু বাড়তি। তবে পড়ালেখা ছিল তীক্ষè মেধাবী। নূরীর বাবা কোথায় জানি চাকরি করত। পরিবার নিয়ে থাকতো আবাসিকে। নূরী কান্নাস্বরে বলল: পায়েল বাবাকে তো বদলী করেছে, আমাদের চলে যেতে হবে। পায়েল: কি বলছ? আবেগ ঘন হৃদয়ে হঠাৎ লোড শেডিং! এই ভাবে চলে যাবে?

নূরী, আর কি দেখা হবে না? সে বলল: কি জানি, ভাগ্যে যদি থাকে হতেও পারে। তবে, তার সঙ্গে আমার একমাত্র বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছুই ছিল না। নূরী চলে যাওয়ার পর কয়েকদিন ক্লাসে খারাপ লাগছিল। ঠিক এক সপ্তাহ পর ডাকপিয়ন বলল: পায়েল সাহেব, নূরীর চিরকুট। আমি যেন উদ্বেগে জেগে উঠি! হলুদ খাম খুলে দেখি, নূরীর অনুলিপি।

লিখেছে, পায়েল আশা করি ভালোই আছ। আমি জানি কয়েকদিন মন খারাপ লাগবে। কারণ মানুষ ক্ষণস্থায়ী জীব। আমি ভালো, তবে মানসিক অবস্থার অবনতি। কয়দিন পর ঠিক হয়ে যাবে তুমি মন ভেঙ্গনা। ভালো করে লেখাপড়া কর, স্বাস্থ্যের প্রতি যতœ নিউ। আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো। স্মৃতি বিজড়িত ফেরত খাম পাঠিও। সবাইকে নিয়ে ভালো থেকো, কেমন।

বরাবর,

নূরী, আশা করি ভালোই আছ। শুধু আমি ভালো নেই। কারণ, তুমি চলে যাওয়ায় আমি নিস্তেজ হয়ে গেলাম। জিরি পথে দুজনের আড্ডাটা মনে পড়ছে। নূরী, তুমি বলেছিলে সেদিন। আমার কারণে তোমার কোনো ক্ষতি হলে সেটার দায়ভার কি আমি নেব কিনা?

পায়েল: শোন নূরী, আমি তো চাই না। আমার কারণে তুমি এমন কোনো আঘাত পাও। আমার কারণে তোমার জীবনের কোনো ক্ষতি হবে, এমনকি চরিত্র তো গঠন করিনি। তোমার যে কোনো ক্ষতি হবে না, এমন আত্মবিশ্বাস আমার প্রতি রাখতে পার।

আমি চাই, তুমি পড়ালেখা করে জীবন মজবুত করে গড়ে তোলো। আমিও যেন মাস্টাসর্ শেষে নিজেকে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তবে, তুমি এমন কোনো প্রতিশ্রæতি নেবে না, চট্টলায় আর আসবে না। আমায় ভালোবাসবে না। তোমাকে যে আমি ভালোবাসি সেটা কি নতুন কথা?

দেখ তোমার আমার ভালোবাসা হলো এমন, তুমি শুধু আমায় মনে রাখবে। আর পরস্পরগুলো নিয়ে কথোপকথন করব। আমরা কখন কি করব তা সময় বলে দেবে। যখন তোমার জন্য প্রস্তাব পাঠাব, তখন তুমি তোমার পিতা-মাতাকে দুজনের বিষয়টি অবহিত করবে। প্রয়োজনে আমি তোমার জন্য যুদ্ধ করব।

আমার জীবনে কাউকে যদি মন দিয়ে থাকি, সে হলো তুমি। এখন তুমি শুধু একটি কথাই বলবে, আই লাভ ইউ; শোনো মন যদি খারাপ হয় আমার সাথে শেয়ার করবে, কেমন। শোনো নূরী কাউকে জোর করে ভালোবাসা যায় না। আমি যে তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি আমার অন্তরটা একবার দেখাতে পারলে তুমি বিশ্বাস করতে।

তোমাকে নিয়ে আমি বেঁচে থাকি, তুমি কি চাও না? আমাকে না বলে তুমি ব্যতিক্রম কিছু করো না। তাহলে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে। তুমি আমার জীবনের শুরু এবং শেষ। নূরী টাকা কড়িতে সুখ নেই, মনের সুখ হলো প্রকৃত সুখ। তোমাকে না পেয়ে যদি মরেও যাই কবরে আমার কলিজাটা পচবে না, থেকে যাবে। তবে মনে রেখো নূরী, শেষ বিচারের দিনও আমি তোমার কাছে এই প্রত্যাশায় দঁাড়িয়ে থাকব, ইনশাআল্লাহ।

আর সেদিন হলেও তোমাকে আমার ভালোবাসার মাশুল দিতেই হবে, এই চিরকুট পাঠানোর পর আর কোনো খবরও পেলাম না। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে!

অনুরূপ নবম শ্রেণি থাকাকালে দুই সহপাঠীকে বন্ধু বানাতে চেয়েছিলাম। ওদের দুজনকে হাটে, মাঠে ও ঘাটে অনগর্ল আমার পাশে পাশে রেখে, পাঞ্জাগানা নামায়, কোরআন তিলাওয়াত শিখিয়েছি। পরে তারা উভয়ে এক এক স্বদেশ ত্যাগ করে প্রভাসজীবনে চলে যায়।

অথচ ওরা যাওয়ার সময় পতিমধ্যে আমার সঙ্গে দেখাও হয়। কিন্তু ওরা আমাকে দেখে। তবে, একটুও তো বলেনি, দোস্ত আমি গেলাম, ভালো থাকিস আর দোয়া করিস। এখনও পযর্ন্ত একবার ফোনও করেনি।

দ্বিতীয় জন যাওয়ার ছয় মাস পর দুবার ফোন করে, এখন আর কোনো খবর নিই না। এটাই কি বন্ধুর পরিচয়?

একা চ‚ড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষার পর সহপাঠীদের সঙ্গে ভ্রমণে গিয়েছিলাম, চট্টগ্রাম চা-বাগান। আমাকে রেখে সহপাঠীরা অন্যদিকে ঘোরাফেরা করছে। তাদের খঁুজতে গিয়ে দেখতে পেলাম, ছোটভাইকে নিয়ে চা-বাগান ভ্রমণ করছে নূরী।

কিন্তু শারীরিক অবস্থার যেন অবনতি। চেনা চেনা লাগছে তবে, তবুও অচেনা। সে বলল: ইজ কুইজ মি? পায়েল : হ্যঁা বলুন, নূরী কি যেন বলবেন? পায়েল : না না এমনি দেখছিলাম। নূরী বলল : আপনি কি পায়েল? হ্যঁা আমি পায়েল। নূরী, হ্যঁা এই তো, আমার মনে পড়েছে! আমি সেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পযর্ন্ত যে, একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি। আপনার মনে পড়ছে? পায়েল: হ্যঁা নতুন করে পরিচয় আবার, সেই নূরীর সঙ্গে। চা-বাগানে দেখার পর আর কখনো পরিচয় মেলেনি। কোথায় যেন হারিয়ে গেল সে। জানি না, পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে, জীবনের কোনো এক সময় কখন যে আবার দেখা হবে, সে নূরীর সঙ্গে।

আমার জীবনে কখনো এমন কোনো নন্দিনী, দ্বিতীয় আর একটি আসবে? সে তার পরশ দিয়ে আমায় ভালোবাসার হাতছানি দেবে। তাকে নিয়ে বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হবো। থাকব চিরকাল দুজনে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে