logo
শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

  য় যাযাদি হেলথ ডেস্ক   ২৩ জুন ২০১৮, ০০:০০  

ছাতা শুধু রোদের তাপ থেকেই রক্ষা করে না

ছাতা শরীরকে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকেও বঁাচায়। ছাতা ব্যবহারে মাথার চুল ক্ষতিগ্রস্ত আবহাওয়া থেকে রক্ষা পায়। বাইরে খোলা জায়গায় উড়ে বেড়ানো ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে। সবোর্পরি ছাতা আমাদের বিরূপ পরিবেশ থেকে রক্ষা করে...

ছাতা শুধু রোদের তাপ  থেকেই রক্ষা করে না
একবার ভাবুন তো আপনার প্রিয় সঙ্গীটির কথা; যে রোদ কিংবা বৃষ্টির হাত থেকে আপনাকে বঁাচায়, যার ছায়াতলে নিশ্চিন্তে পথ চলতে পারেন, যাকে ছাড়া গ্রীষ্ম-বষার্র দিনগুলো একদমই চলে না। সেই রোদ-বৃষ্টির সঙ্গী ছাতার কথাই বলছি।

রোদ অনেকটাই বাঙালির গা সওয়া। রোদে পুড়তে রাজি, তবু মাথার ওপর ছাতা মেলতে গড়িমসির কোনো শেষ নেই। তবে যেখন মাথায় বৃষ্টির ফেঁঁাা পড়ে, সেই গা-ছাড়া ভাবটি আর থাকে না। তখন ঘরের কোণে থাকা ছাতাটির কথা মনে পড়ে।

ছাতাকে ইংরেজিতে আমব্রেলা বলা হয়। যা ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে। আমব্রা মানে ছায়া। সেই ছায়া থেকে ছাতার উৎপত্তি। চীনেই প্রথম ছাতার প্রচলন শুরু হয়। ১৮০০ সালের পর থেকে ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছাতার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যা আজ পযর্ন্ত চালু আছে।

গ্রীষ্মের আগমনী ধ্বনি প্রকৃতিতে বাজতে না বাজতেই শুরু হয়ে যায় ধুলার ওড়াউড়ি। বৈশাখী হাওয়া বলেই হয়তো তার এই ঔদ্ধত্যপনা। চৈত্রে প্রকৃতি থাকে একেবারে শুষ্ক। তাই এই সময় রোদের প্রকোপ একটু বেশিই থাকে। আর ধরণী হয়ে ওঠে তাপদাহ। শরীরকে প্রখর রোদ থেকে বঁাচাতে ছাতার প্রয়োজন হয়।

ছাতা শুধু রোদের তাপ থেকেই রক্ষা করে না, শরীরকে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকেও বঁাচায়। ছাতা ব্যবহারে মাথার চুল ক্ষতিগ্রস্ত আবহাওয়া থেকে রক্ষা পায়। বাইরে খোলা জায়গায় উড়ে বেড়ানো ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে। সবোর্পরি ছাতা আমাদের বিরূপ পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। তাই নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি বাচ্চাদেরও ছোটবেলা থেকে ছাতা ব্যবহারে আগ্রহী করে তোলা উচিত।

গ্রীষ্ম কিংবা বষার্র ভরসা; সেকথা আমাদের সবারই জানা। আমাদের দেশে আবহাওয়ার কোনো ঠিক নেই। এই বুঝি মুখ ভার, এই আবার ভাজা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আকাশে সূযের্র হাসি দেখে ছাতার তোয়াক্কা না করেই বেরিয়েছেন ঘরের বাইরে, হঠাৎ এক পসলা বৃষ্টি ভিজিয়ে দিতে পারে আপনাকে।

আর এই বৃষ্টিতে ভিজলে ঠাÐা কিংবা জ্বর হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার প্রিয় পোশাকটিও। একটু সচেতন হলে কিন্তু আপনাকে এতটা ঝক্কি পোহাতে হবে না। বেরুনোর সময় খেয়াল করে ছাতাটি সঙ্গে রাখুন। দেখবেন প্রয়োজনে কাজে দিচ্ছে।

এক সময় বৃষ্টি আর রোদের হাত থেকে বঁাচতে ছাতা ব্যবহার হলেও এখন ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গও বটে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও এখন বাহারি রঙ ও ডিজাইনের ছাতা ব্যবহার করছে।

ছাতা কেনার সময় বিবেচনায় রাখুন আপনার বয়স ও ব্যক্তিত্বকে। কারণ চল্লিশোধ্বর্ একজন লোকের হাতে গোলাপি ছাতা যেমন বেমানান, তেমনি টিনএজারদের হাতে লম্বা ডঁাটের ছাতাও মানায় না।

আজকাল পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করেন। তবে, রঙ ও ডিজাইনের পাশাপাশি ভালো মানের ছাতা কেনার দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত। অনেক সময় দেখা যায়, বাতাসের তীব্রতায় ছাতা উল্টে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মুখোমুখি হতে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির। সামনে আসছে বৃষ্টির মৌসুম, তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে শক্ত-মজবুত ছাতাকে করে নিন আপনার সঙ্গী।

ছাতা ব্যবহারেও একটু সচেতন হওয়া জরুরি। ছাতা ব্যবহারের পর ভালো করে তা সংরক্ষণ করুন, না হলে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাজারে নানা রঙ আর আকৃতির স্টাইলিশ ছাতা পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েরা লাল, সবুজ, হালকা কমলা, বেগুনি, বিভিন্ন প্রিন্টের পাতার নকশা ইত্যাদি রঙের ও ডিজাইনের ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। আর পোশাকের সঙ্গে মিল রেখেও ছাতার রঙ বেছে নিতে পারেন। ছেলেরা ব্যবহার করতে পারেন গাঢ় সবুজ, চকোলেট, ব্রাউন ও নীল রঙের ছাতা।

তবে ক্রেতা হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত, মান, সেলাই, কাপড় ও টেকসই স্টিল দেখে কেনা। তাতে দাম একটু বেশি পড়লেও টিকবে অনেক দিন।

দেশি ছাতার মধ্যে শরীফ ও এটলাসের ছাতার জনপ্রিয়তা বেশি। এ ছাড়া রহমান, স্টামফোডর্, দত্ত, মুন, ফিলিপস, চেরি, ব্রাদাসর্, মাটির্ন, অ্যাপেক্স, নওয়াব, গোল্ডফিশ ইত্যাদি ব্র্যান্ডের ছাতা পাওয়া যায়। বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে পাবেন- এটলাস, ফিলিপস, ইউনিক, অলিম্পিক, ফুজি, চেরি, শংকর, ডাভ ইত্যাদি।

কোথায় পাবেন : রাজধানীর নিউমাকের্ট, এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম মাকের্ট, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাক মাকের্ট, ফরচুন শপিং মল, কণর্ফুলী মাকের্ট, বেইলি স্টার, ওয়েস্টানর্ প্লাস, ওয়েস্টানর্ প্লাজাসহ বাজারে দেশি-বিদেশি এসব ছাতা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেগাশপেও ব্র্যান্ডের ছাতা পাবেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে