logo
বুধবার ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

  যাযাদি হেলথ ডেস্ক   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

বাতজ্বর ও হৃদরোগজনিত সমস্যা এবং প্রতিকার

বাতজ্বর অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাতজ্বর এবং বাতজ্বরজনিত হৃৎপিÐের অসুখ বিগত কয়েক দশকে উন্নত দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশে এর প্রাদুভার্ব এখনো অনেক বেশি।

বাতজ্বর ও হৃদরোগজনিত সমস্যা এবং প্রতিকার
বাতজ্বর অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাতজ্বর এবং বাতজ্বরজনিত হৃৎপিÐের অসুখ বিগত কয়েক দশকে উন্নত দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশে এর প্রাদুভার্ব এখনো অনেক বেশি। অনেক শিশুই জীবনের ঊষালগ্নে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করে কিংবা চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে অন্যের গলগ্রহে জীবনযাপন করে। উচ্চ রক্তচাপের পরই আমাদের দেশে বাতজ্বর হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এ রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু-কিশোর ও যুবক আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৭.৫ জন লোক এবং প্রতি হাজারে ৪ জন শিশু বাতজ্বর এবং বাতজ্বরজনিত রোগে ভুগছে। হাসপাতালে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে ভতির্ হয় এবং হাটর্ অপারেশনের শতকরা ৭০-৮০ ভাগ বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে হয়ে থাকে। বাতজ্বর কি? কেন হয়? কীভাবে চেনা যায়? এর বিস্তৃতি কতটা ব্যাপক? বাতজ্বরজনিত জটিলতা এবং কি করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পকের্ সংক্ষেপে এখানে আলোকপাত করা হলো:

বাতজ্বর কি?

অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চাদের গায়ে প্রায়ই জ্বর থাকে। জ্বরের সঙ্গে শরীরের ব্যথা হয় ও গিড়া ফুলে যায়। কোনো সময় একটি বড় গিড়া কিংবা একইসঙ্গে অনেক গিড়া আক্রান্ত হতে পারে। একবার হলে বারবার হতে থাকে। গিরা ব্যথার পরই যে উপসগির্ট দেখা দেয় তাহলো হৃৎপিÐের প্রদাহ। এ প্রদাহ সাধারণ লোকের পক্ষে বুঝে ওঠা এত সহজ নয়। তবে একজন সাধারণ লোক যা বুঝতে পারে তা হলোÑ বাচ্চার ঘন ঘন জ্বর হয়, বুক ধড়ফড় করে, শ্বাসকষ্ট হয়, বাচ্চা খেতে চায় না ইত্যাদি। যেহেতু বাচ্চার গায়ে প্রায় সময়ই জ্বর থাকে ও খাবারের অনীহার দরুন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাচ্চার স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে, বাচ্চা শুকিয়ে যায় এবং আশানুরূপ ওজন বাড়ে না। অনেক সময় দেখা যায় এ জাতীয় জ্বর হওয়ার আগে বাচ্চার গলাব্যথা করে। এ জ্বর সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের হয়ে থাকে। ৪ বছরের নিচের কিংবা ২২ বছরের ওপর বয়সী বাচ্চাদের বাতজ্বর খুবই কম হয়।

বাতজ্বর কেন হয়?

এ জ্বর প্রধানত বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোককাশ নামক এক ধরনের জীবাণু দ্বারা হয়। দারিদ্র্য, ঠাÐা স্যঁাতসেঁতে পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং অজ্ঞতাই এ রোগের প্রধান কারণ। যেসব শিশুর দীঘির্দন পঁাচড়া ও টনসিলের অসুখ থাকে তাদের বাতজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বাতজ্বরের উপসগর্গুলো

একটি বাচ্চার বাতজ্বর আছে কিনাÑ তা বোঝার উপায় হলো

১. শরীরে একদিকের গিরা একসঙ্গে ফুলে যাবে এবং ব্যথা করবে। তবে এমন হতে পারে যে, একটি গিরা একটু ভালো হচ্ছে অন্য একটি গিরা একই সময়ে আবার আক্রান্ত হচ্ছে। যাকে মাইগ্রেটিং আরথ্রাইটিশ বলা হয়।

২. সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ বিষয় হচ্ছে হাটের্র প্রদাহ, এর ফলে যেসব উপসগর্ দেখা দিতে পারে তা হলো-বুক ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

৩. নিয়ন্ত্রণহীন অঙ্গ সঞ্চালনÑ বিশেষ করে হাত এবং মুখ কোনো রকম উদ্দেশ্য ছাড়াই নড়াচড়া করবে। যাকে বলা হয় সিডেনহাম কোরিয়া। এর ফলে বাচ্চার হাতের লেখা বিঘিœত হতে পারে।

৪. অনেক সময় চামড়ার নিচে ছোট ছোট গুটি হয়।

৫. শরীরে বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে বুকে ও পিঠে লালচে বা গোলাপি বণের্র দাগ হতে পারে। যাকে ইরাইথেমা মাজিের্নটাম বলা হয়।

অন্যান্য উপসগর্

১. বাচ্চার ঘনঘন জ্বর থাকবে।

২. প্রায়ই কোনো না কোনো গিড়ার ব্যথা থাকবে।

৩. বুক ধড়ফড় করা বা বুকের ব্যথার ইতিহাস থাকবে।

৪. ইসিজি করলে হাটের্র কিছুটা পরিবতর্ন দেখা যাবে।

৫. রক্ত পরীক্ষা করলে রক্তের ঊঝঞ ও অঝঙ ঃরঃৎব স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশি হবে।

প্রথম ৫টি লক্ষণকে গুরুতর ও পরবতীর্ ৫টি লক্ষণকে ক্ষুদ্রতর লক্ষণ বলা হয়। বাতজ্বর নিণের্য়র জন্য এ লক্ষণগুলো খুবই দরকার। একটি বাচ্চার মধ্যে যদি কমপক্ষে প্রথম সারির দুটি লক্ষণ অথবা প্রথম সারির একটি লক্ষণ এবং দ্বিতীয় সারির দুটি লক্ষণ থাকে তবে আমরা তাকে বাতজ্বর বলে শনাক্ত করতে পারি। এগুলো ছাড়াও গলাব্যথা করা, গা ঘামানো, দুবর্লতাবোধ, হাটির্বট বেশি হওয়া, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, দিনে দিনে ওজন কমে যাওয়া, স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া ইত্যাদি অসুবিধাগুলোও দেখা দিতে পারে।

রোগের প্রাদুভার্ব

১৯২০ সালের পর থেকে পাশ্চাত্য বাতজ্বরের প্রাদুভার্ব কমে গেলেও আমাদের মতো স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত দেশে এ রোগের প্রাদুভার্ব অনেক বেশি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় প্রতি লাখে ১৫০ থেকে ২০০ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে উন্নত দেশে প্রতি লাখে ৫ জনেরও কম শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। আগে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশ প্রতি হাজারে ৪-৬ জন শিশু বাতজ্বর কিংবা বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে ভুগছে। সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের ফলে এ রোগের প্রাদুভার্ব অনেকটা কমে আসছে।

বাতজ্বর জটিলতা

বাতজ্বরজনিত জটিলতা বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূণর্ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। যেসব শিশুর বাতজ্বর হয় যদি সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসা এবং এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে এ জীবাণু অতি সহজেই হৃৎপিÐকে আক্রমণ করে। পরে হৃৎপিÐের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যায়; শিশু কমর্ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। এ রোগ একবার হয়ে গেলে সবসময় ওষুধের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। কখনো রোগী সম্পূণর্ সুস্থ হয় না। ওষুধে ভালো কাজ না হলে অপারেশনের মাধ্যমে হাটের্র ভাল্ব মেরামত করতে বা ভাল্ব বদলিয়ে ফেলতে হয়। সেটা খুবই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূণর্। তা ছাড়া অপারেশনের পরও সারা জীবন ওষুধ খেতে হয়।

আমাদের দেশে যত রোগী হৃদরোগজনিত কারণে হাসপাতালে ভতির্ হয় তার প্রায় অধেের্করই প্রাথমিক কারণ হলো বাতজ্বর। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে ভতির্ হয়। প্রথমেই বলেছি হাটর্ অপারেশনের ৭০-৮০ ভাগ বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে হয়ে থাকে। যার দরুন এ রোগকে বলা হয় ‘রিউমেটিক হাটর্ ডিজিজ’। হৃৎপিÐের জটিলতা ছাড়াও বারবার হাত-পায়ের গিড়া ব্যথা হওয়া এবং ফুলে যাওয়ার ফলে গিড়া শক্ত হয়ে যায়, এতে রোগী চলাফেরা করতে পারে না। অনেকেই চিরদিনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে একবার এ রোগ হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসা

ষ জ্বর ও ব্যথা দমন করার জন্য প্যারাসিটাম বা অ্যাসপ্রিন দিতে হবে নিদির্ষ্ট সময় পরপর।

ষ যদি কেবল গলাব্যথা থাকে তবে চযবহড়ীুসবঃযুষ ঢ়বহরপরষষরহ ১০ দিন দিতে হবে।

ষ কিছুদিনের জন্য পূণর্ বিশ্রামে থাকা দরকার হতে পারে, বিশেষ করে শিশুটির যদি হাটের্র প্রদাহ থাকে।

ষ যদি বাতজ্বর থাকে এবং হৃৎপিÐের কোনো উপসগর্ না থাকে তবে চযবহড়ীুসবঃু১ ঢ়বহরপরষষরহ অথবা ইবহুধঢ়বহ ঢ়বহরপরষষরহ ২২ বছর বয়স পযর্ন্ত অথবা শেষবার আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ৫ বছর পযর্ন্ত চিকিৎসা নিতে হবে।

ষ যদি বাতজ্বরের ফলে হৃৎপিÐের প্রদাহ দেখা দেয় তবে চযবহড়ীুসবঃয১ ঢ়বহরপরষষরহ অথবা ইবহুধঢ়বহ ঢ়বহরপরষষরহ ৩০ বছর বয়স পযর্ন্ত দিতে হবে।

ষ বাতজ্বরের ফলে যদি হৃৎপিÐের ভাল্ব আক্রান্ত হয় তবে সারাজীবন চিকিৎসা নিতে হবে।

ষ হাটের্র ভাল্ব যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে অপারেশন করে ভাল্ব পরিবতর্ন করতে হবে, যা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ এবং অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। পত্রিকা মাধ্যমে অনেককেই ছবিসহ আবেদন করতে দেখা যায় সাহায্যের জন্য। অনেকের আবার সে সুযোগও হয় না অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

বাতজ্বরের ক্ষেত্রে অজ্ঞতাবশত

অনেক সময় ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু লোক এসে ওষুধের দোকানে দোকানিকে বলেন, আমাকে কিছু বাতের বড়ি দিন। তখনই দোকানি লোকটিকে কিছু ংঃবৎড়রফ বা ঢ়ৎবফহরংড়ষড়হব ট্যাবলেট দিয়ে দেয়। ওই বড়ি খেলে ভালো লাগে এবং দ্রæত ব্যথার উপশম হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে ংঃবৎড়রফ একটি বড় স্থান দখল করে আছে। এটার ব্যবহার বিধি যেমন বিভিন্ন তেমনই এর পাশ্বর্ প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। এ ওষুধ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক নয়, আর যদি করতেই হয় তখন নিদির্ষ্ট নিয়মে ডাক্তারের পরামশর্মতো ব্যবহার করতে হবে। এ ওষুধের অনিয়মিত ব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

প্রতিরোধে উপায়

বাতজ্বর একটি মারাত্মক ব্যাধি। বাতজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আমাদের দেশে শত শত শিশু প্রতিবছর অকালে মৃত্যুবরণ করছে। যারা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকে তাদের অনেকেরই হৃৎপিÐ অকেজো হয়ে যায়। সমাজকে তারা কিছুই দিতে পারে না। যদিও বতর্মানে হৃৎপিÐের অপারেশন করা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়, কিন্তু কজনই বা এর খরচ বহন করতে পারে? আশার কথা এই যে, সম্প্রতি সরকারি এবং বেসরকারি পযাের্য় অনেক সংগঠনই বাতজ্বর সমস্যাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

বাতজ্বর এবং বাতজনিত হৃদরোগ বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা। কিন্তু এ রোগ প্রতিকার করা এতো কঠিন নয়। অসুখটি যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তবে শুধু পেনিসিলিন দ্বারা দীঘির্দন চিকিৎসার মাধ্যমেই এ বাতজ্বর এবং বাতজ্বরজনিত অন্যান্য সমস্যা অতি সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। এ জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতার খুবই প্রয়োজন। বাতজ্বরের উপসগর্গুলো দেখা দেয়ার ১-৩ সপ্তাহ আগে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগী গলাব্যথার অভিযোগ করে। তাই শিশুদের কোনো ধরনের গলাব্যথা হলে এবং এরসঙ্গে জ্বরের ভাব দেখা দিলে প্রত্যেক মা-বাবারই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং তার পরামশর্মতো চলতে হবে। অনেক সময় প্রাথমিক পযাের্য় রোগ ধরা পড়লেও অনেক মা-বাবাই পয়সা কিংবা স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে ডাক্তারের পরামশর্মতো দীঘির্দন পেনিসিলিন ব্যবহার করেন না এবং করলেও নিয়মিত নয়। ফলে শিশুটি অচিরেই রিউমেটিক হাটর্ ডিজিজে আক্রান্ত হয়। কারো কারো অকালমৃত্যু ঘটে। যারা বেঁচে থাকে তারা অনেকেই পঙ্গু হয়ে জীবনযাপন করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে হৃদরোগ তৃতীয় ঘাতক রোগ হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন হৃদরোগের মধ্যে আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপ, বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ এবং করোনারি হৃদরোগ প্রধান। অনেক উন্নত দেশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাতজ্বর প্রায় দূরীভ‚ত করা গেছে এবং অন্যান্য হৃদরোগ প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাতজ্বর এবং তার জটিলতা যেমন হাটির্ডজিজ, অকাল পঙ্গুত্ব যাতে আমাদের জরাগ্রস্ত করে না ফেলে, সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ রোগের যথাযথ চিকিৎসা ও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। জাপান সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর অধীনে বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে ১৯৮৮ সালে একটি জাতীয় কেন্দ্র স্থাপন করেছে। বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য এ কেন্দ্র একটি সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। এ জাতীয় কেন্দ্রের আওতায় ঢাকা শহরের সব বড় হাসপাতালকে সহযোগী কেন্দ্র এবং ঢাকার বাইরের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৩-৯৪ আথির্ক বছরে একে নিয়মিত জবাবহঁব অন্তভুর্ক্ত করে। এ ধরনের প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়ায় এটাই প্রথম। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর সঠিকভাবে বাতজ্বর নিণর্য় ও তার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে।

আমরা যদি এ মারাত্মক রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই তবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে।

১. সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে গলাব্যথা করলে, টনসিল ফুলে গেলে বা ফ্যারেনজাইটিস ইত্যাদি হলে ডাক্তারের পরামশর্ নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

২. স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে মাঝে চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে, যাদের টনসিলাইটিস বা ফ্যারেনজাইটিস আছে তাদের উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুল ঐবধষঃয ঈষরহরপং এ ব্যাপারে সম্যক ভ‚মিকা রাখতে পারে।

৩. বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হবে। নোংরা পরিবেশ দূর করতে হবে। জীবাণুমুক্ত পানি পানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

৪. রেডিও, টিভি এবং দৈনিক জাতীয় প্রচার মাধ্যমে এ রোগের ভয়াবহতা এবং প্রতিকারের উপায় প্রচার করতে হবে।

৫. সবোর্পরি সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে