logo
শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

  যাযাদি হেলথ ডেস্ক   ০৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

গভার্বস্থায় প্রথম তিন মাস সতকর্তা অবলম্বন করুন

গভার্বস্থায় প্রথম তিন মাস সতকর্তা অবলম্বন করুন
যদিও অনেকটাই বোঝা যায় না, কিন্তু গভার্বস্থার প্রথম তিন মাস যে কোনো মায়ের কাছেই ভীষণ জাদুকরি বলেই মনে হয়। নতুন প্রাণের আগমনের খবর উদ্বেলিত করে তোলে নতুন মায়ের জীবন। শুধু মায়ের জন্য নয়, সন্তানের জন্যও এই সময়টি খুবই গুরুত্বপূণর্ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তাই দরকার সচেতনতার। যেহেতু সন্তানের একদম প্রথম পযার্য় এটি, তাই মাকে হতে হবে অনেক বেশি সতকর্।

কিন্তু বললেই তো আর সতকর্ হওয়া যায় না, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই মায়েরা বুঝতে পারেন না যে কি হচ্ছে বা কি হতে পারে। অনেকেরই নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পকের্ সঠিক জ্ঞান থাকে না, জানা থাকে না কিসে সন্তানের ভালো বা খারাপ হতে পারে।

তাই সন্তান গভর্ধারণের এই প্রথম পযার্য়টি অনেকের জন্যই হতে পারে ক্ষতিকারক, যদি সঠিক যতœ না হয়। সন্তান গভর্ধারণের প্রথম পযাের্য়র মায়েদের শারীরিক অবস্থা সবকিছু নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

প্রথমেই জেনে নিন আপনি প্রেগন্যান্ট কি না। আজকাল প্রেগন্যান্সি কিট কিনতে পাওয়া যায়। তা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এসব কিট দিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ পরীক্ষাই সঠিক হয় বলে ধরা হয়। তবে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে চাইলে ডাক্তারের পরামশের্ আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নিশ্চিত তো হওয়া গেল, এখন জানা যাক পরবতীর্ পদক্ষেপগুলো সম্পকের্।

একবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে গেলে এর পর থেকে সাবধানে চলাফেরা করুন। অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, ধূমপান থেকে দূরে থাকুন, তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেমনই হোক না কেন। কারণ এই সময় এসব জিনিস অন্য যে কোনো কিছুর থেকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে বাচ্চার।

যেহেতু আপনি অন্তঃসত্ত¡া, তাই আপনাকে সবসময় ডাক্তারের পরামশর্ অনুযায়ী চলতে হবে। অতিসত্বর একজন ডাক্তার নিবার্চন করুন। ডাক্তার নিবার্চন করার আগে কিছু জিনিস মনে রাখবেন। যেমনÑ ডাক্তারের সঙ্গে যে কোনো সময় যোগাযোগ করা সম্ভব কিনা, যে কোনো দরকারে তাকে পাওয়া যাবে কিনা। সেই সঙ্গে দূরত্বটাও খেয়াল রাখবেন। যেহেতু আপনি অন্তঃসত্ত¡া তাই এ সময় বেশি চলাচল করতে পারবেন না। কেননা তা বাচ্চার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই ডাক্তারের কাছে অল্প সময়ে যেন পৌঁছানো যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

অন্তঃসত্ত¡া হওয়ার কারণে শরীরে বেশকিছু হরমোন পরিবতর্ন ঘটে। যার ফলে বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খেতে না পারা, শরীর খারাপ ভাব হতে পারে। তবে সবাইকে যে এ সব পরিস্থিতি পার করতে হয় তাও নয়, অনেক মায়ের মধ্যেই এসবের কোনোটি বা কখনো কখনো একটিও উপসগর্ দেখা যায় না। এমন কিছু হলে ভয় পাবেন না, আবার না হলেও ভয় পাবেন না। বেশি বমি হলে সকালে উঠে লেবু পানি খেতে পারেন। আর মাথা বেশি ঘোরালে শুয়ে পড়–ন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে।

এ ছাড়া হরমোন ঘটিত পরিবতের্নর কারণে এ সময় স্তনের আকারে পরিবতর্ন হওয়া শুরু হয় ধীরে ধীরে। সেই কারণে স্তনে ব্যথা হবে ও স্তন নরম হয়ে যাবে। এমনটা হলে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন এই পরিবতর্ন আপনার সন্তানের জন্য জরুরি। সন্তান গভের্ ধারণ করার ফলে কিছু শারীরিক পরিবতর্নও ঘটে। যেহেতু সন্তান জরায়ুতে ধারণ করা হয় ও জরায়ুর অবস্থান থাকে প্রস্রাবের নালীর উপরে, তাই বাচ্চার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জরায়ু প্রস্রাবের নালীর উপরে কিছু চাপ ফেলে। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এই সমস্যা প্রথম ৩ মাস এবং শেষ ৩ মাসের মধ্যেই প্রবল থাকে।

এ ছাড়া অনেক অন্তঃসত্ত¡া নারীরই রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, আবার কারও বা কমে যেতে পারে। সেই সঙ্গে দেখা দিতে পারে সুগারের সমস্যা। তাই সন্তানের গভর্ধারণের পরপর ডাক্তারের পরামশের্ সব কিছুর পরীক্ষা একবার করে নিয়ে দেখতে হবে গভার্বস্থা স্বাভাবিক আছে কিনা। এমন কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে।

বুক জ্বালা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে অনেক মায়ের। অন্তঃসত্ত¡া নারীর খাবার হজম হতে ও পেট খালি হতে অন্য নারীদের তুলনায় বেশি সময় লাগে, কারণ গভার্বস্থা বাচ্চার খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে সময় লাগে একটু বেশি। কিন্তু এই কারণটাই গভর্বতী নারীর জন্য হয়ে যায় কষ্টের কারণ। এর ফলেই গভর্বতী নারী শিকার হতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্য ও বুক জ্বালা করা রোগের। ঘাবড়ে যাবেন না। দরকার পড়লে ডাক্তারের পরামশের্ কোন ওষুধ সেবন করতে পারেন।

এ ছাড়া একজন গভর্বতী নারী গভর্ধারণ করেছেন এটা জানার পরে আনন্দিত, উদ্বিগ্ন, প্রফুল্ল ও ক্লান্ত ইত্যাদি সব ধরনের অনুভ‚তি অনুভব করেন। এতসব কিছু এক সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটাও একটা বড় ব্যাপার হয়ে দেখা দেয়। অনেকেই ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারেন না নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে। ফলে শিকার হন মুড সুইংয়ের। সেই সঙ্গে নানারকম ‘হরমোনাল চেঞ্জ’-এর কারণে রাগ বা খারাপ লাগা অনুভ‚ত হতে পারে। এমন কিছু হলে অধিক উত্তেজনা পরিহার করে চলতে হবে। কারণ বেশি উত্তেজনা গভর্স্থ সন্তানের জন্য ভালো নয়।

সঙ্গীর সাথে সম্পকের্র ক্ষেত্রে একটু ধৈযর্ ধরুন। মনে রাখতে হবে আপনি যেমন মা হচ্ছেন, তেমনই তিনিও বাবা হচ্ছেন। তার কোনো ভুল দেখতে পেলে তার সঙ্গে রাগারাগী না করে সাহায্য করুন, সেই সঙ্গে আপনার কোনো কিছু খারাপ লাগলে তাকে জানাতে ভুলবেন না।

মনে রাখবেন আপনি যে কাজ করছেন তা ‘প্রেগন্যান্সি সেফ’ কিনা জেনে নিন। ভারী কোনো কাজ একদম করতে যাবেন না। মনে রাখবেন প্রথম তিন মাস খুব সাবধানী হতে হবে কারণ এই তিন মাসেই অ্যাবরশনের হার সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সঙ্গে এমন খাবার খাবেন না যা বাচ্চার জন্য খারাপ হবে। পেঁপে, আনারসের সঙ্গে সঙ্গে কঁাচা বা আধা সিদ্ধ প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম এসব পরিহার করে চলতে হবে। প্রোটিন ভালো করে রান্না করে তবেই খাবেন। সেই সঙ্গে গলিত চিজ বা এই জাতীয় খাবারও পরিহার করে চলবেন। প্রথম ৩ মাস খেতে কষ্ট হয়, কিছু খেতে ইচ্ছা করে না তাও বাচ্চার কথা চিন্তা করে যতটা সম্ভব ততটা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

ডাক্তারের পরামশর্ মোতাবেক কোনো ওষুধ খাবার থাকলে তা খাবেন। এমনকি গ্যাসের সমস্যা বা মাথাব্যথা বা জ্বর হলেও ডাক্তারের পরামশর্ ছাড়া ওষুধ খেতে যাবেন না। এতে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। ঘুমের সময় বাড়িয়ে দিন। দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া সারাদিনের কাজের ফঁাকে ফঁাকে হালকা বিশ্রাম নিতে পারেন।

মনে রাখবেন সন্তান সবার কাছেই মূল্যবান। সবাই চাইবে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে। তাই কষ্ট হলেও সন্তানের ভালোর জন্য সাবধানে সবকিছু মেনে চলার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। বিশ্রামে থাকুন, উত্তেজিত থাকবেন না, সেই সঙ্গে উদ্বেগ না হয় এমন কিছু করবেন না ও ভয় পাবেন না। সব থেকে বড় কথা হলো নিজের খেয়াল রাখুন। আপনি ভালো থাকলেই আপনার সন্তানও ভালো থাকবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে