logo
মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

  রকিবুল ইসলাম   ২৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

শিশুতোষ গল্প

মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক

মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক
ছো ট একটা জলাশয়। জলাশয়ে পানি কম। সেখানে এক ব্যাঙ পরিবার বাস করে। মা-ব্যাঙ, বাবা-ব্যাঙ আর দুই পিচ্চি ব্যাঙ। পিচ্চি ব্যাঙ দুটি সারাদিন লাফালাফি করে। কাদাময় পানিটুকু পিচ্চিরা সারাদিন ঘোলা করে রাখে। মা-ব্যাঙ হাজার বলেও থামাতে পারে না। বাবা-ব্যাঙ আবার বিপরীত। পিচ্চিদের সঙ্গে নিয়ে বাবাও খেলায় মাতে।

সামনে সোমবার বৈশাখী মেলা। গ্রামের শেষপ্রান্তে রূপদীঘি। সেখানে বসে বৈশাখী মেলা। বৈশাখের এক তারিখে। প্রতিবছর। পিচ্চি ব্যাঙ দুটি খুশিতে লাফাতে থাকে। মা-বাবার সঙ্গে মেলায় যাবে। নাগরদোলায় উঠবে। নানান রকম খেলনা কিনবে। কত্ত মজা হবে। মজা আর মজা।

আশপাশের জলাশয় থেকে আরও পিচ্চি ব্যাঙ আসে। সবাই আনন্দে গান গায়। নাচ করে। পানিতে ডোবাডুবি করে। কাদা ছোড়ে। জলাশয়জুড়ে এখন শুধু মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক সুর। এমন সুর গ্রামের সব জলাশয়ে।

মেলার দিন। সবাই নতুন পোশাক পরেছে। পিচ্চি ব্যাঙ দুটিও নতুন জামা পরেছে। মাথায় পরেছে টোপর। বাবার হাত ধরেছে বড় পিচ্চি। মা-ব্যাঙও যাবে। মায়ের হাত ধরেছে ছোট পিচ্চি। কিন্তু হাত ধরে যেতে কি ভালো লাগে? হাত ছেড়ে পিচ্চি দুটি দৌড়াতে লাগল। দৌড় মানে লাফ। লাফাতে লাফাতে মেলায় পৌঁছে গেল।

মেলায় অনেক ব্যাঙ। মা-ব্যাঙ পিচ্চিদের ডেকে সাবধান করল। হারিয়ে যেতে পারে। তাই হারিয়ে গেলে এই গান গাইতে বলল।

'মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক

ঘুরে ঘুরে মেলা দ্যাখ।'

কত্ত রকম দোকান! দোকানে নানান ধরনের জিনিসপাতি। খেলনা, বাঁশি আর মজার মজার খাবার। পাশেই বসেছে পান্তার দোকান। ছোট পিচ্চি পান্তা খাবে। মা বললেন, তোমার সর্দি। পান্তা খেলে সর্দি বেড়ে যাবে। বড় পিচ্চি মন্ডা খাবে। বাবা দুজনকেই মন্ডা কিনে দিলেন।

এবার সামনে গেল। অনেক বড় নাগরদোলা। অনেক বাচ্চা সেখানে খেলছে। পিচ্চি ব্যাঙ দুটি উঠল। সাথে মা-বাবা।

আরেকটু সামনে গেল। চলছে সাপের খেলা। পিচ্চি ব্যাঙ ভয় পেল। মা বললেন, ভয় নেই। এগুলো কাগজের সাপ। পিচ্চি ব্যাঙ হাত ছোঁয়ালো। সত্যিই তো! কী মজা, কী মজা! আশপাশের সব ব্যাঙ হাসতে লাগল।

একটি ব্যাঙ সঙ সেজেছে। মাথায় পরেছে টোপর। মুখে আলপনা। রঙিন ঝালটের পোশাক। পিচ্চি ব্যাঙদের সঙ্গে মজা করছে। অভিনয় করছে।

মেলার মাঝখান। অনেক পিচ্চি ব্যাঙ। মুখোশ পরে ঘুরছে। পিচ্চি ব্যাঙ দুটি দৌড়ে মুখোশঅলার কাছে গেল। বাবাকে বলে মুখোশ কিনে নিলেন। তারপর মুখোশ পরে বাচ্চাদের সঙ্গে মিশে গেল।

মা-বাবা পাশেই কেনাকাটা করতে লাগল। পিচ্চি ব্যাঙ দুটি মুখোশ পরল। ছোট পিচ্চি নিল বাঘের মুখোশ। বড় পিচ্চি সাপের। খেলতে খেলতে ওরা অন্য ব্যাঙদের সঙ্গে মিশে গেল। সবার মুখে মুখোশ। বাঘ, সাপ, টিকটিকি, মাছ, পাখিসহ নানান সব মুখোশ। কোনো বাচ্চাকেই চেনার উপায় নেই। সবাই আনন্দ করতে লাগল। হৈ-হুলেস্নাড় আর চিৎকার চেঁচামেচিতে মেলার ময়দান মুখরিত।

এভাবে বেশকিছু সময় কাটল। পিচ্চি ব্যাঙ দুটোর মা-বাবা পিচ্চিদের নিতে এলো। কিন্তু পিচ্চিদের চিনতে পারল না। চিনবে কেমন করে, কেউ তো আর ব্যাঙ নেই! কেউ পাখি, কেউ মাছ, কেউ বা টিকটিকি। কেউ বাঘ, কেউ সাপ, কেউ বা অন্যকিছু।

মা-বাবা চিন্তায় পড়ে গেল। পিচ্চিদের তাহলে কেমন করে খুঁজে পাবে?

মা-ব্যাঙ গান ধরল-

'মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক

ঘুরে ঘুরে মেলা দ্যাখ।'

'মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক...

খেলতে খেলতে পিচ্চি ব্যাঙ দুটি ভুলেই গিয়েছিল। মায়ের গাওয়া গান তারা শুনতে পেল। তারপর দুজনে মা-বাবাকে খুঁজতে লাগল।

এক সময় মা-বাবাকে খুঁজে পেল। তারপর মুখোশ খুলে মা-বাবার সামনে দাঁড়ায়। মা-বাবা পিচ্চিদের বুকে জড়িয়ে নিল।

বড় পিচ্চি বলল, মা তুমি এই গানটা না গাইলে তো খুঁজেই পেতাম না।

ছোট পিচ্চি বলল, মা, চলো আমরা গানটা গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরি।

'মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক

ঘুরে ঘুরে মেলা দ্যাখ।'

'মক-পঁ্যাক, মক-পঁ্যাক...
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে