logo
  • Sat, 17 Nov, 2018

  সুজন সাজু   ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

পুজোর খুশি সবার মাঝে

পুজোর খুশি সবার মাঝে
চারিদিকে সাজ সাজ রব। হই হুল্লোড় আনন্দে মাতোয়ারা ছোট-বড় সবাই। পুজোর সাজে সেজে উঠেছে গ্রামের প্রতিটি মÐপবাড়ি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের মÐপেও তৈরি হচ্ছে পুজোর অবকাঠামো। মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত খড়-মাটির মিশ্রণে মায়ের অবয়ব গড়ে তুলতে। সঙ্গে আছে ল²ী, সরস্বতী, কাতির্ক, গণেশ ও অন্য বাহনগুলো। রং-তুলির অঁাচড়ে অপূবর্ সাজে সাজিয়ে তুলতে অহনির্শ ব্যতিব্যস্ত। ঘুম নামক জিনিসটিও তাদের কাছে এখন যেন সহজলভ্য নয়। সবার মধ্যে আনন্দ আর উদ্দীপনার শেষ নেই। পুজোর দিনটি যতই ঘনিয়ে আসছে ততই খুশির সীমা অতিক্রম করছে। ছোটদের প্রত্যাশার বাতি হচ্ছে আলো থেকে আলোকিত। পুড়বে আতশবাজি, ফুটাবে গ্যাসের বেলুন, মÐপ আঙিনায় মেলার পসরা সাজিয়ে বসবে দোকানিরা। পাওয়া যাবে মুড়ি মোয়া, মিষ্টি-মিঠাইসহ হরেকরকম সহজ লভ্য খানাপিনা ও নানা রকম খেলনাপাতি। বাবা-কাকারা দেবে পুজো উপলক্ষে মেলার হাতখরচ। ছুটি দিয়েছে স্কুল, আসবে না প্রাইভেট টিচারও। দিনের শেষে যখন রাত হবে রঙে রঙিন বাতি জ্বলবে ঝিকিমিকির ঝলকে। আহা, কত না আনন্দধারা! এমন খুশির ঢেউ যদি প্রতি মাসে মাসে থাকত কতই না মজার হতো। ভাবনাগুলো হৃদয় কোণে ঢেউয়ের পর ঢেউ যেন জোয়ারের প্লাবন বইছে। কখন যে ঘনিয়ে আসবে পূজার ক্ষণটি যেন তর সইছে না ¯িœগ্ধা, সুমিষ্টের। মামা, নিয়ে আসবে নতুন জামা। দিদাও পাঠাবে মেলার হাতখরচ। পাড়ার কাকা, পিসিরাও কিনে দেবে মেলা থেকে বেলুন বঁাশি। ¯িœগ্ধা ছড়া কাটে মুখে মুখেÑ নতুন জুতো নতুন জামা, কিনবে দিদা আনবে মামা, গায়ে দেব ঘুরবো বেশ, পুজোর খুশি হয় না শেষ। দেবে দাদু বাবা-মা’য়, প্রতি বছর পুজোয় পাই, আসলে পুজো পেখম মেলে, যায় হারিয়ে দিগন্ত রেলে। এভাবে ভাবতে ভাবতে কাছে চলে এলো পূজার ক্ষণ। কালই মহাষষ্ঠি, মায়ের পূজার যাবতীয় আয়োজন পরিপূণর্। রঙিন সাজে সাজিয়ে উঠলো পুরো মÐপবাড়ি। আসলে দুগার্ পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় দেবী (শুক্লপক্ষ) পক্ষের শুভ মহালয়ার মধ্যদিয়ে। প্রতিপদ, দ্বিতীয়া এভাবে পঞ্চমী তিথি পযর্ন্ত মায়ের প্রতিমা গঠনশৈলী, বিভিন্ন সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজা পবর্। আর মহাষষ্ঠীতে শুভারম্ভ হয়ে পূজার মূলপবর্ চলে মহানবমী পযর্ন্ত। চারদিকে মাইকের আওয়াজ, ঢোলের বাদ্য, শঙ্খের ধ্বনিতে প্রকম্পিত পুলকিত পরিবেশ। পাড়ার সবাই পূজার আনুষঙ্গিকতা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। ছোটরাও নেই পিছিয়ে। এক দৌড়ে পূজামÐপে তো আরেক দৌড়ে বাড়ি। কখনো ফুটাচ্ছে বেলুন, কখনো আতশবাজি আবার কখনো এটা-সেটা খাচ্ছে দল বেঁধে মিলে। ¯িœগ্ধা, সুমিষ্ট, দীপা, নীপা, নিশা, উমির্, নিলয় সবাই এক দলীয় বন্ধু জোট। এক সঙ্গে ছোটাছুটি, দৌড়াদৌড়ি, বাজি পোড়ানো যেন দুরন্ত দলীয় কোরাস। দিনের শেষে যখন ঘনিয়ে এলো সন্ধ্যা পুরো মÐপবাড়ি রঙে রঙিনে আলোকিত। নতুন জামা-জুতো পরে সবাই হাজির মÐপে। চলছে সন্ধ্যা আরতি, সুগন্ধি ধূপে মÐপস্থানে ম-ম সুবাসে সুবাসিত পরিবেশ। পুরোহিত মশাই অঘর্্য নিবেদনে ফলে-ফুলে মায়ের পূজায় নিবেদিত। মÐপ আঙিনায় চলছে ছোট-বড় সবার ধ্যানমগ্ন আরতি প্রাথর্না। দলে দলে আসছে মায়ের ভক্ত স্বজনরা। মায়ের চরণে প্রণতি জানাচ্ছে। বড়রা কেউ কেউ দিচ্ছে মায়ের প্রসাদ। ধনী,গরিব যেন কোনো ভেদাভেদ নেই এই মহামিলনমেলায়। মায়ের দশের্ন যে যার মতো করে মনোবাঞ্ছা কামনায় মিনতি ঢালছে করজোড়ে। এভাবে আনন্দ উদ্দীপনায় কখন যে নবমী পেরিয়ে বিজয়া দশমী চলে এলো টেরও পাওয়া যায়নি। দশমী মানে মাকে বিদায় দেয়ার পালা। রীতি অনুযায়ী অশ্রæজলে ঠিকই মাকে বিদায় দিতে হয়। দুগার্ মাকে বিসজের্নর মধ্যদিয়ে টানা চারদিনের পূজার আনুষ্ঠানিকতার আনন্দ ঘটে পরিসমাপ্তি। আবার অপেক্ষায় থাকি আগামী বছর এই শারদ ক্ষণেই মা দুগার্ আসবে মতের্্য বেড়াতে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে