logo
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

লক্ষ্য যাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এইচএসসি পরীক্ষা শেষে সবারই মূল লক্ষ্য থাকে মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়া। এর বাইরে কৃষি সেক্টরে যে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে সেটা অনেকেরই অজানা। আমাদের সমাজে কৃষির প্রতি নেতিবাচক ধারণা আছে এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। কৃষি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে যেহেতু বিজ্ঞাননির্ভর পড়াশোনা হয়, সে ক্ষেত্রে চান্স পেতে হলে প্রয়োজন হয় উচ্চ জিপিএ এবং সঙ্গে ভালো প্রস্তুতি। তবে ভর্তি পরীক্ষার দুর্ভোগকে কমিয়ে আনতে এবারই প্রথম দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি প্রধান ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিতভাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর একযোগে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে বাকি দেড় মাস সঠিক উপায়ে পড়াশোনা করতে হবে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- হাবিবুর রনি

লক্ষ্য যাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
রসায়ন

রসায়ন, শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি ভীতির নাম। যদিও ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য এ বিষয়ের গুরুত্ব অনেক। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় রসায়নের মার্কসের ওপর তোমাদের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে। রসায়নের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিটি বিষয়ের ওপর স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে, তবেই যে কোনো বই থেকে যে কোনোভাবে প্রশ্ন এলে তোমরা সহজেই সমাধান করতে পারবে। যারা বিক্রিয়া ভয় পাও, তারা প্রথমেই নামধারী বিক্রিয়াগুলোর তাপমাত্রা, চাপ, প্রভাবক পড়ে ফেলবে। এর সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ধ্রম্নবকগুলোর নাম ও একক পড়বে। জৈব যৌগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তুতপ্রণালি রয়েছে, সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যৌগ ও মৌলের (গ্রম্নপ-১, গ্রম্নপ-২) পারমাণবিক ভর, গলনাংক ও স্ফুটনাংক পড়বে। বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তরের নাম, এদের তাপমাত্রা, দূরত্ব, বিভিন্ন গ্যাসের পরিমাণ মনে রাখবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রিজারভেটিসের নাম, এদের কাজ, পারমাণবিক মডেলের আবিষ্কারকের নাম ও সাল পড়তে হবে। সর্বোপরি রসায়নে ভালো করতে হলে অবশ্যই প্রতিটি বিষয় শেষ করার পর ওই বিষয়ের বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করবে- যা তোমাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দুই-ই বৃদ্ধি করবে। এ ক্ষেত্রে তোমরা নেটওয়ার্ক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি গাইডের সাহায্য নিতে পার। সুতরাং, বারবার মূল পাঠ্যবই পড়া, বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান ও কৌশলে তা মনে রেখে পরীক্ষা দেয়ার মাধ্যমেই কেবল রসায়নে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

শিহাব খান

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

জীববিজ্ঞান

মেডিকেল আর কৃষিতে ভর্তি প্রস্তুতি অনেকটা একই। তাই যারা মেডিকেলে প্রস্তুতি নেয় তাদের প্রায় ৮০% কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি হয়ে যায়। আর যারা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকে তাদের একটু জীববিজ্ঞানে ভালো করলেই হয়ে যায়। তবে এবার যেহেতু কৃষি সংক্রান্ত সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্র্তি পরীক্ষা হবে সেহেতু বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রশ্ন কিছুটা ভিন্ন হবে এটা বলাই যায়। জীববিজ্ঞানে সাধারণত দুটি অংশ থেকে মোট ৩০টি প্রশ্ন করা হয়। যার মধ্যে উদ্ভিদ বিজ্ঞান থেকে ১৫টি এবং প্রাণিবিজ্ঞান থেকে ১৫টি প্রশ্ন আসে। উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকে প্রথমে ছক, পার্থক্য, বৈশিষ্ট্য পড়তে হবে। প্রাণিবিজ্ঞানের মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র অধ্যায়টিতে বিভিন্ন হাড়ের নাম শর্টকাট পদ্ধতিতে মনে রাখতে পার। ভালো নম্বর পেতে হলে উদ্ভিদবিজ্ঞানের অনুজীব, নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব এই অধ্যায়গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। শেষে একটি কথাই বলব, পরিশ্রম করে যাও বুদ্ধিদীপ্তভাবে, সফলতা আসবেই।

মো. ফরহাদ ইসলাম

শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

পদার্থ ও গণিত

খাদ্য সংকটময় পৃথিবীতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে এখন কৃষি শিক্ষাতে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় মোটামুটি একটা নম্বর পেলেই চান্স পাওয়া খুব সহজ। এবার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে একটু ভালো করতে পারলেই তুলনামূলক ভালো বিষয় পাওয়া সহজ হবে। তাই দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে পালস্না দিতে শেষ সময়ে কৌশলগতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে চান্স পাওয়া কোনো ব্যাপারই না। পদার্থ ও গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে একটু কৌশলে পড়তে হবে। পদার্থতে ২০টি ও গণিতে ২০টি করে নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন থাকবে। কৃষি বিষয়টা যেমন সহজ তেমনি ভর্তির সময় পদার্থ ও গণিতের অংকটাইপের নৈর্ব্যত্তিকগুলোও অনেক সহজ হয়। প্রশ্নগুলো অধিকাংশই বোর্ড বইয়ের বেসিক ও ছোট সূত্রগুলো থেকে থাকে। পদার্থ ও গণিতের ছোট সূত্রগুলো অবশ্যই মুখস্থ রাখতে হবে। পদার্থে বিশেষ করে বিজ্ঞানীদের নাম ও সাল আয়ত্তে রাখতে হবে। পদার্থের ক্ষেত্রে তপন ও ইসহাক স্যারের মূল বইগুলো ভালো করে আয়ত্তে রাখবে। পরিশেষে শুভকামনা ও দোয়া রইল সব ভর্তি পরীক্ষার্থীর জন্য। তবে একটা বিষয়, পরীক্ষার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত অবশ্যই চ্যাটিং, ফেসবুকিং এমনকি স্মার্টফোন থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

ইমরান খান

শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইংরেজি

কৃষিই কৃষ্টি, কৃষিই সমৃদ্ধি। কৃষিকে ঘিরেই মানুষের সভ্যতার জাগরণ শুরু। কৃষিবিদদের জয়জয়কার পুরো বিশ্বব্যাপী। ইতোমধ্যেই হয়তো তোমরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যাবতীয় তথ্যাদি জেনে ফেলেছ। আশা করছি, প্রস্তুতিও নিচ্ছ তুমুল গতিতে। তোমাদের প্রস্তুতিকে আর একটু অগ্রসর করতে ইংরেজি বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিতে চাই। পরীক্ষায় পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গণিতে মোটামুটি সবাই ভালো করে। কারণ প্রস্তুতির বেশিরভাগ সময়টাই কাটে এসব বিষয় নিয়ে, কেউ ইংরেজিতে তেমন জোর দেয় না। কিন্তু যারা একটু ইংরেজিতে ভালো করে, দিন শেষে তারাই এগিয়ে থাকে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এবার ইংরেজি বিষয় থেকে ১০ মার্কসের প্রশ্ন থাকবে। যার মধ্যে বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে বেসিক গ্রামার থেকে। এর মধ্যে জরমযঃ ভড়ৎস ড়ভ াবৎন, ংবহঃবহপব, চৎবঢ়ড়ংরঃরড়হ, ঘধৎৎধঃরড়হ, ঠড়রপব পযধহমব, ঝুহড়হুস ্‌ অহঃড়হুস, ঞৎধহংষধঃরড়হ প্রতিটি অংশ থেকে ১-২ করে প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে প্রতিটি অংশের ব্যতিক্রমগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ভালো করে পড়লেই খুব সহজে ৭-৮ মার্কস পেতে পারো। মনে রাখতে হবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল পড়াশোনা, তাই তোমাদের প্রিপারেশনটাও টেকনিক্যাল হতে হবে। একটু ভাগ ভাগ করে প্রতিটা বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সবশেষে একটা কথাই বলব, মা-বাবার কথা ও মহান সৃষ্টিকর্তার নাম বুকে ধারণ করে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নাও, সাফল্য তোমার পেছনেই তাড়া করবে।

দিপঙ্কর অধিকারী

শিক্ষার্থী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে