logo
শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

স্বপ্নের ক্যাম্পাসের গল্পগুলো

ছুটি মানেই এক প্রকার আনন্দ, ছুটি মানেই অন্যরকম প্রশান্তি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই শব্দটা বড়ই দুর্লভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে থাকাকালে সবসময় ভাবে, কবে ছুটি পাব? আর ঈদের ছুটিতে বাসায় যাওয়ার এত আনন্দের মধ্যে ক্যাম্পাসকে মিস করার প্রশ্ন অনেকের মনে নাও আসতে পারে। তবুও ছুটিতে বাসায় থাকাকালে শত ব্যস্ততার মধ্যেও হুট করে মনে পড়ে যায় প্রিয় ক্যাম্পাসকে, মনে পড়ে যায় প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো। এবারের ঈদের ছুটিতে প্রিয় ক্যাম্পাসকে কে কীভাবে মিস করেছেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিস করা গল্পগুলো জানার চেষ্টা করেছেন হাবিবুর রনি...

মিস করি প্রিয় সাইকেলটি

দূষিত রাজধানীতে সবুজে ঘেরা বিশুদ্ধ বাতাসে পরিপূর্ণ শান্ত ও ছোট্ট ক্যাম্পাস আমারটি। ক্লাস, প্রাকটিক্যাল, অ্যাসাইনমেন্টের চাপে এক মুহূর্ত অবকাশ নেই এখানে। সবসময় মনে হয় কবে ছুটি পাব! কিন্তু এই আনন্দ কেন যেন বাড়ি যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্তই থাকে। বাড়িতে পা রাখার পর মনে হয় কি যেন একটা নেই, কিছু একটা যেন খুব মিস করছি। ছুটিতে বাসায় এলে মিস করি ফজরের নামাজের পর ভোরবেলা ক্যাম্পাসের অ্যাগ্রোনোমি ফিল্ডে ঘাসের ওপর খালি পায়ে প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটা, মিস করি পাশের চন্দ্রিমা উদ্যানে নিয়মিত ব্যায়াম করে ফিরে সারাদিন ফুরফুরে মেজাজে দিন পার করা। এছাড়া মিস করি প্রিয় বন্ধুদের যাদের সঙ্গে সারাদিন খুনসুটি লেগেই থাকে, মিস করি মাঝেমধ্যে হুটহাট করে ভালো রেস্টুরেন্টে গ্রিল-নান খেতে যাওয়া। সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা মিস করি সেটা হলো আমার সাইকেল। জ্যামপূর্ণ ঢাকায় দ্রম্নতগতিতে সাইকেল চালিয়ে হাতিরঝিলে একা একা গিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে আবার দ্রম্নতগতিতে টিউশনিতে যাওয়া। আমি ক্যাম্পাসে কি করি না করি, বেশির ভাগই আমার প্রিয় বন্ধুরা জানে। যে মানুষ সবসময় আমার ভালো চায়, বিপদে-আপদে পরামর্শ দেয়, সুসময়ে প্রচন্ড খুশি হয়, দুঃসময়ে তাদের কাছে পাওয়া যায় তাদের কি আর এক মুহূর্ত ভুলে থাকা যায়? ছুটিতে বাসায় এলে এসব কিছুই যেন বেশি মিস হয়। ক্যাম্পাস জীবনের অর্ধেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। আর খুব বেশি দিন নেই। একদিন এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব আর অনেক মিস করব স্মৃতিঘেরা স্বপ্নময় এই ক্যাম্পাসটিকে।

ইমরান খান

শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মিস করি রাত জাগা নির্ঘুম আড্ডাগুলোকে

ছুটিতে বাসায় থাকাকালে মনে মনে ভাবি এমনি এক সময় ক্যাম্পাস সারাদিন কতটা জমজমাট, কতটা ব্যস্ত থাকত। কিন্তু ছুটিতে হলগুলো খালি করে সবাই যখন একে একে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় চলে আসি তখন ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে মরুভূমির মতো। এসময় ক্যাম্পাসের মামাদের চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ ক'দিনের জন্য অবসর নেয়। ছুটিতে বাসায় এসে সবাই যখন রাত ৮-৯টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে, তখন ক্যাম্পাসের রাতজাগা নির্ঘুম আড্ডাগুলোকে যেন খুব বেশি মিস হয়। এসময় মনে পড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে রঙিন পালতোলা নৌকার কথা। অজান্তেই মনে হয় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলছি এত দূরে থেকেও। আর মনে না হয়ে উপায় আছে? চার-পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাম্পাস জীবনে আমার কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে, কত আবেগের ও ভালোবাসার জায়গা দখল করে আছে তা কেবল তখনই বোঝা যায় যখন কিনা ক'দিনের ছুটিতে বাসায় আসি।

মাহমুদা সুলতানা নূপুর

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মিস করি প্রিয় শিক্ষকদের ক্লাসগুলোকে

জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষার প্রাঙ্গণ হলো আমার ক্যাম্পাস। এটিই আমার দ্বিতীয় বাড়ি। ক্যাম্পাস ছুটিতে বাসায় এলে সব থেকে যে বিষয়টা বেশি মিস করি তা হলো প্রিয় শিক্ষকদের ক্লাসগুলো। আর মিস করি ক্যাম্পাসের স্নিগ্ধময় সকালে বান্ধবীদের সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাসটা ঘুরে বেড়ানো। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা আর সময় কাটানোর আনন্দ একরকম, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ ভিন্নরকম। দুটোই আমার কাছে প্রিয়। তবে ক্যাম্পাসে থাকাকালে বন্ধুদের সঙ্গে হুটহাট পস্ন্যান করে ঘুরতে যাওয়া, হলের ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা, বন্ধুদের জন্মদিন পালন করা, সবাই মিলে ক্যাম্পাসের আম, লিচুগাছ থেকে আম, লিচু পাড়িয়ে নানা রকম রেসিপি তৈরি করা, কখনও গল্প করে সারারাত পার করে দেয়া- বাসায় এলে এগুলোই যেন খুব বেশি করে মিস হয়। যখন ছুটি শেষে ক্যাম্পাসের মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করি তখন মনে অন্যরকম শান্তির পরশ জাগে, বাতাসে যেন অন্যরকম সুখ পাই। মনে হয়, এই তো আমার প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে পড়েছি। এই ক'টা দিন তোমাকে খুব বেশিই মিস করেছি।

নুজহাত মুনতাহেনা

শিক্ষার্থী, আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ

মিস করি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা

আর হাতিরঝিলের ঠান্ডা বাতাস

ঈদের ছুটি মানেই 'স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার'। অবশ্য এই স্বপ্নটার সংজ্ঞা একটু অন্যরকম। এই স্বপ্নের মধ্যে থাকে দীর্ঘ অপেক্ষা, টিউশনের টাকায় বাবা-মা'সহ পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করার উত্তেজনা, থাকে যান্ত্রিকতায় অবসাদগ্রস্ত শরীরটা কয়েকটা দিন নির্মল বাতাসে জিড়িয়ে নেয়ার আকাঙ্ক্ষা। যতই বাড়ি যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই এই স্বপ্নটা যেন বাস্তব হয়ে ওঠে। কিন্তু এই বাস্তবতার মধ্যে আরেকটি বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হলো ক্লাস, ল্যাব, সিটি পরীক্ষা কিংবা প্রেজেন্টেশনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিত্যদিনের কর্মকান্ডগুলোকে মিস করার বিড়ম্বনা। ক্যাম্পাস ছুটির দিন থেকে নিজেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মনে হতে থাকে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর যেমন হঠাৎ করে রক্তের পস্নাটিলেট সংখ্যা কমে যায় তেমনই হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ঈদের ছুটিতে বাসায় এলে সবচেয়ে বেশি মিস করি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাবাজি, একে অন্যকে পচানো আর মধ্যরাতে হাতিরঝিলের ঠান্ডা বাতাস।

সোহাগ জামিল

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

মিস করি প্রিয় বন্ধুদের

আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করি তারা ক্যাম্পাসকে মনে করি দ্বিতীয় বাড়ি। কারণ বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয় এই ক্যাম্পাসে, থাকতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে। সবুজ-শ্যামল ও ছায়াঘেরা পরিবেশে অবস্থিত আমার ছোট্ট ক্যাম্পাসটি। ক্যাম্পাসের লিচু বাগান, বাবুই চত্বর, টিএসসি সব জায়গায়ই যেন মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। এখানকার হলগুলো এক একটি ভালোবাসার প্রতীক। ভালোবাসা যেমন অনেক রঙের হয় ঠিক তেমনি হলগুলো এক একটি রং, সৌন্দর্যে উদ্দীপ্ত। এই হলগুলোতে বন্ধুদের সঙ্গে থাকাটা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলতে হয়। হাসি-কান্না, দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নেয়া নিতান্তই চলে অবিরাম গতিতে। আর যখন ক্যাম্পাসের ছুটিতে বাসায় চলে আসি ঠিক তখনি মিস করি ক্যাম্পাসে কাটানো দিনগুলো। বাসায় কাটানো এই অল্প সময় যেন অনেক দিন মনে হয়। এসময় মিস করি বন্ধুদের সঙ্গে রাতের বেলা ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি, দল বেঁধে দশমাইলে যাওয়া, উদয় দার দোকানের হট লেমন চা, সাইফের সঙ্গে আধ্যাত্মিক বিষয়ে আলোচনা ও ফেলুদার গল্পগুলোর পর্যালোচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটে মান্নান, সাকিব, জাকারিয়া, তানজিল ও মেহেদির সঙ্গে আড্ডা। ক্লাসের ফাঁকে লিমু, পিংকি, সুস্মিত ও শাওনের সঙ্গে বসে ফোনে লুডু খেলা এবং যে হেরে যাবে তার কাছ থেকে ট্রিট নেয়া। ছুটিতে বাড়িতে এলে মনে করি ওদের কথা আর ভাবি আমার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করেছে এই বন্ধুগুলোই।

মোসাব্বির হোসেন সুমন

শিক্ষার্থী, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে