logo
মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

  আসিফ হাসান রাজু   ২৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

স্বপ্ন যখন 'এসডিজি' বাস্তবায়ন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে দেশেরে গন্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘের নজর কেড়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এমনই এক সংগঠনের নাম ওয়ার্ল্ড লিংকআপ।

স্বপ্ন যখন 'এসডিজি' বাস্তবায়ন
দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত। তাদের অধিকাংশের উদ্দেশ্যই হলো পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে একটি চাকরি। কিন্তু এই উদ্দেশ্য অধিকাংশের হলেও পুরো শিক্ষার্থীদের কি? কখনোই নয়। ভিন্নধর্মী কিছু শিক্ষার্থী আছে যাদের চিন্তাভাবনা একটু ভিন্ন ধরনের। এমনি চিন্তাধারায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক তরুণ স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীরা মিলে গড়ে তুলেছেন ভিন্ন ধর্মী এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যাদের মিশন ও ভিশন জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা। সদ্য জন্ম নেয়া সংগঠনটি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এরই মধ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে নজর কেড়েছে জাতিসংঘেরও। ইতোমধ্যে সংগঠনটি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত 'ওয়ার্ল্ড আরবান ফোরাম' এর সাত দিনব্যাপী নবম সম্মেলনে বিশ্বের দুইশত পঞ্চাশটি সংগঠনের মধ্যে আমন্ত্রিত হয় সেখানে জায়গা করে নেয়। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে যেখানে অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব বলে দেশের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন; ঠিক সেই মুহূর্তে এর বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছে সংগঠনটি। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড লিংকআপের কথা। সংগঠনটি সম্পর্কে কথা হয় এর প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিলস্নাহর সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বপ্নের কথা। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রপাণে। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করি তাদের অধিকাংশের স্বপ্ন থাকে একটি সস্মানজনক চাকরি। গতানুগতিক এ চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে দেশের জন্য কিছু করার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশ জাতির জন্য কিছু করতে পারাটা সব থেকে বেশি আনন্দের। সেই ইচ্ছা থেকেই মূলত সংগঠনটির চিন্তা মাথায় আসে। বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য এসডিজি বাস্তবায়ন একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোবাকেলায় যদি দেশকে একটু হলেও সাহায্য করতে পারি তাতেই আমরা সার্থক। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সংগঠনটি বিভিন্ন আন্তজার্তিক ও জাতীয় দিবসের্ যালি, বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, ফ্রি সেমিনার, আলোচনা সভা, গরিব, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যবস্ত্র ও ওধুষ বিতরণ, মাদকবিরোধী কর্মসূচি, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনা সৃষ্টিসহ বছরের প্রায় প্রত্যেকটা দিনই কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই আন্তজার্তিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করে সবার মাঝে এসডিজি সম্পর্কে জানানো, সচেতন করা ও বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করে উন্নত এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমানে 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি গোলের মধ্যে ১৩টি গোল নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। যার মধ্যে রয়েছে- 'নো পোভার্টি টিম, জিরো হাঙ্গার টিম, গুড হেলথ্‌ অ্যান্ড ওয়েল-বিং টিম, কোয়ালিটি এডুকেশন টিম, জেন্ডার ইকুয়ালিটি টিম, ক্লিন ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন টিম, ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ টিম, ইন্ডাস্ট্রি, ইনোভেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার টিম, রিডিউসড ইনইকুয়ালিটস টিম, সাসটেইনেবল সিটিস অ্যান্ড কমিউনিটিস, পিস অ্যান্ড জাস্টিস টিম, রিসপন্সিবল কনজামশন অ্যান্ড প্রোডাকশন টিম, ক্লাইমেট অ্যাকশান টিম।' এ ছাড়াও গোলগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ও বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে জারনালিজম ফর এসডিজি, ফটোগ্রাফি ফর এসডিজি, আইটি ফর এসডিজি, রিসার্স ফর এসডিজি, বিজনেস ফর এসডিজি টিম নামে পাঁচটি টিম কাজ করছে। ১৮টি টিমে বিভক্ত ১৫০ জন সক্রিয় সদস্য মিলে কাজ করে চলেছে উদ্যমী তরুণরা। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য হিসেবে আছেন আরো অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি বিভিন্ন আন্তজার্তিক ও জাতীয় দিবসের্ যালি, বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, ফ্রি সেমিনার, আলোচনা সভা, গরিব, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যবস্ত্র ও ওষুধ বিতরণ, মাদকবিরোধী কর্মসূচি, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনা সৃষ্টিসহ বছরের প্রায় প্রত্যেকটা দিনই কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে সংগঠনটি। সম্প্রতি 'তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে তারা। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। যার মন কাড়ানো বক্তব্য ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। যারা উদ্দীপনা ও উৎসাহ ফিরে পেয়েছেন, নিজেকে যুক্ত করেছেন দেশ গঠনে, আত্মনিয়োগ করেছেন স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বলে মনে করেন সংগঠনের অন্যতম সদস্য আসমা সুলতানা। তিনি আরো বলেন, আমি চাই যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রাণের এ সংগঠনটি সেটি যেন বাস্তবায়ন করতে পারে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে