logo
শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

  আকরাম হোসাইন   ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নাট্য-আড্ডা রোমন্থনে লোকজমেলা

নাট্য-আড্ডা রোমন্থনে লোকজমেলা
নাটক হচ্ছে শিল্পের আদি শাখা। যুগ যুগ ধরে মানুষকে মানবিক, বুদ্ধিদীপ্ত করার প্রয়াসে নাট্যচর্চা হয়ে আসছে। স্রষ্টা আর সৃষ্টির অপূর্ব মেলবন্ধন নাটক। স্র্রষ্টা তার কল্পনা দিয়ে বাস্তবতায় ফুটিয়ে তোলেন মানবজীবনের নানা দিক। তার কল্পনার তুলিতে দর্শকদের সামনে বাস্তবতার রূপায়ন ঘটান শিল্পীরা। সৃষ্ট কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে ফুটে ওঠে সমাজের নানা প্রতিচ্ছবি। আর দূরীভূত হয় ভেদাভেদ, সম্প্রীতি গড়ে ওঠে এ পরিশীলিত শিল্পের চর্চায়।

নাটক, নাট্য উপকরণ, প্রদর্শনী, নাটকের গান, নাট্য-আড্ডা, বৈঠক, বইমেলাসহ নানা আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী নাট্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়। দুই বাংলার থিয়েটার কর্মীদের নিয়ে গত ৪ ও ৫ মার্চ প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার পত্রিকা 'আনর্ত' এর আয়োজন করে।

গ্রম্নপ থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, থিয়েটারের মানুষ সবাই মিলিত হয়েছিলেন নাট্যমেলায়। নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, লিয়াকত আলী লাকী, অংশুমান ভৌমিক, মলয় কুমার ভৌমিক, বিপস্নব বালাসহ দুই বাংলার ২০টি নাট্যদলের জনপ্রিয় প্রায় ৬০ জন নাট্যব্যক্তিত্ব এইমেলায় জমায়েত হন। তা ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আসেন মেলায়। মেলা ঘিরে যেন মিলনমেলায় পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

'আনর্ত' সম্পাদক ও নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমান রাজুর সভাপতিত্বে নাট্যমেলার প্রথম দিন সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে মেলাটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়া প্রমুখ। উদ্বোধন পর্ব শেষে একটি শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

পরে ১২টায় আসাদ সরকারের সঞ্চালনায় দেশের খ্যাতনামা নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, লিয়াকত আলী লাকী, রহমান রাজুর অংশগ্রহণে থিয়েটারের নৈপথ্য ও প্রত্যক্ষ মানুষ উপেক্ষায় সম্ভাবনায় সূত্ব শীর্ষক 'আনর্তবৈঠক-১ শুরু হয়, এরপর ২টায় আনর্ত-স্বীকৃতি প্রদান, বিকেল সাড়ে ৩টায় নাট্যগবেষক সাইদুর রহমান লিপনের উপস্থাপনা এবং নাট্যজন ইস্রাফিল শাহিন ও শাহমান মৈশানের আলোচনায় 'মনো-দেহের রূপায়ণ অভিজ্ঞতায় মণিপুরী রাসনৃত্য' এক জাতিতাত্তিক নাট্যকলা অনুসন্ধান নাট্যকথা-১, রবীদ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোনালিসা চ্যাটার্জির উপস্থাপনা এবং নাট্যজন বিপস্নব বালা ও আশিস গোস্বামীর আলোচনায় 'বাংলা থিয়েটারে নারী অস্তিত্বের সংগ্রাম: আরশি ও মনসামঙ্গল' নাট্যকথা-২, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবলীনা ত্রিপাঠীর উপস্থাপনা এবং নাট্যজন মলয় ভৌমিক ও অংশুমান ভৌমিকের আলোচনায় 'নাট্যগবেষণা: পড়ে বোঝার থেকে করে বোঝার পথে' নাট্যকথা-৩ অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় নটনতীর ভূমিগীতি: অন্যরকম গানের আসর, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মলয় ভৌমিকের নির্দেশনা ও অনুশীলন নাট্যদলের প্রযোজনায় 'বুদেরামের কূপে পড়া' নাটকের মাধ্যমে প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নাট্যমেলার দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় সৌহার্দ্য বিনিময়: থিয়েটারের মানুষে-মানুষে', দুপুর ১২টায় আসাদ সরকার ও সুমনা সরকারের সঞ্চালনায় দেশের খ্যাতনামা নাট্যজন লাকী ইনাম, ওয়াহিদা মলিস্নক জলি, সালাউদ্দীন লাভলু, রহমত আলীর অংশগ্রহণে 'মঞ্চ-অভিজ্ঞতা পর্দায়: সহায়ক নাকি অন্তরায়' শীর্ষক 'আনর্তবৈঠক-২' অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় আরিফ হায়দারের সঞ্চালনায় নাট্যজন মামুনুর রশীদ, সুজন কান্তি দে, রশীদ হারুন, সাজেদুল আওয়াল, বাবুল বিশ্বাস, অনন্ত হীরা, মাসুম রেজা, প্রশান্ত হালদার, তাপু শহীদ, কাজী সাঈদ হোসেন দুলাল, কামার উলস্নাহ সরকারের অংশগ্রহণে 'থিয়েটার করিয়া কি হইবে- যদি কিছু হয় তবে চাই স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় শীর্ষক 'আনর্তবৈঠক-৩ অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল ৫টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে 'নটনঢীর ভূমিনীতি: অন্যরকম গানের আসর', 'বেহুলা আমি ও সতীত্ব' এবং সাইদুলের দলের পরিবেশনায় কেচ্ছানাট্য 'বেলাবতী কইন্যা' প্রদর্শনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মেলায় আরও ছিল থিয়েটার উপকরণ নিয়ে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের পাশে চার যুগের উপস্থাপনা শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীও। এই প্রদর্শনীতে ১৯৭৩ এ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত জনপ্রিয় দেশি-বিদেশি মঞ্চ নাটকের উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের ১৯০টি চিত্র স্থান পায়। এতে চার যুগের থিয়েটারের বিবর্তন, উন্নয়নসহ বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়েছে।

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, নাটক যে শিল্পের অংশ, মানুষকে মানবিক করার অংশ, বুদ্ধিবিত্ত করার অংশ। এই বিষয়টি মানুষকে বোঝানো কঠিন। এ কারণে নাটক নিগৃহীত হয়, রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা নাটককে গুরুত্ব দিতে চান না। তাই পরিশীলিত শিল্পের চর্চার কারণেই নাটককে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, আনর্ত একটি মঞ্চ এই মঞ্চ থেকে আমরা চিৎকার করে বলতে চাই পৃথিবী অসাম্প্রদায়িক হোক, ভেদাভেদ নাই হয়ে যাক, যুদ্ধ পালিয়ে যাক, সম্প্রীতি বাড়ুক।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে