logo
বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬

  আলী হোসেন চৌধুরী   ২৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

নারীর মনোজগৎ ও নারী স্বাধীনতায় বাধা

পুরুষের উচিত সবার আগে নারীর মন বোঝার চেষ্টা করা। হোক সে কন্যা, ভগিনী বা স্ত্রী। হোক তিনি মা। কথায় বলে মন ভাঙা মসজিদ ভাঙা সমান। মনের ওপর আঘাত করা মানে কাচের দ্রব্যের ওপর আঘাত করা। মাটির পাত্র ভেঙে রাস্তায় ছড়িয়ে দেয়া। আগ্রার তাজমহলকে ধসিয়ে যমুনায় ফেলা। গতিশীল ও চিররহস্যে ঘেরা নারীমনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে, বন্ধুত্বের খুনসুটি ও গভীরতা দিয়ে। কঠোর অনুশাসনের ফল হয় ভয়াবহ। পৃথিবীতে মনের সুখই বড় সুখ। নারীকে সে সুখ দিতে পারে পুরুষই- এ অস্থির ভঙ্গুর অবক্ষয়গ্রস্ত আত্মকেন্দ্রিক লোভী পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তেমন পুরুষ কোথায়?

'নারী হয়ে জন্মানো পাপ'- এই বোধ যদি নারীর মধ্যে সারাক্ষণ জাগ্রত থাকে বা রাখা হয়, তবে নারীমন সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও পরিবার নানা অনুশাসনের মাধ্যমে নারীর স্বাধীনতা রহিত করার কারণেই নারীমন কুচকে যায়। নারীর মনের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা বা তার মনকে শাসন করা সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই বিপজ্জনক কাজটি যখন পুরুষ করতে যায় তখনই নারী হয় বিপথে পা বাড়ায়, না হয় আত্মহননের পথ বেছে নেয়। সুতরাং নারীর মন বোঝা পুরুষের পক্ষে সবচেয়ে কঠিন কাজ।

নারীমন এক অনন্ত রহস্যের জালে আবদ্ধ। এই রহস্যের কিনারা খুঁজে পাওয়া কিংবা এটা ভেদ করা পুরুষের পক্ষে অসম্ভব। এমনিতেই নারী এক রহস্যের আধার। আর নারীমন আরও রহস্যময়। এই রহস্যের জোগান কখনো কখনো পুরুষ নিজেও দিয়ে থাকে। নারীর মনকে আকাশের সঙ্গে তুলনা করা যায়। আকাশের রহস্য ভেদ করা যেমন কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি, একইভাবে নারীমনের রহস্য ভেদ করা কোনো পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আকাশ ঘন ঘন রং বদলায়। অসীম আকাশের রহস্য মানুষ সহজে বুঝতে পারে না, কেবল বোকা দৃষ্টি নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঠিক একইভাবে দীর্ঘদিন নারীর সঙ্গলাভ করে কিংবা নারীর সঙ্গে ঘর করে নারীর মন না বুঝে বেশির ভাগ পুরুষ মাথায় হাত দিয়ে বোকা হয়ে বসে থাকে। নারী আসলে কী চায় একজন পুরুষের পক্ষে তা আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। গাড়ি, বাড়ি, টাকা, শাড়ি, গহনা, অলঙ্কার, মুখরোচক দামি খাবার এসবই কেবল একজন নারীর চাওয়া নয়, এসবই বাহ্যিক চাহিদা। এর বাইরেও নারীর চাইবার অনেক কিছু রয়েছে। আর সেই চাওয়া চির রহস্যে ঘেরা। এ চাওয়া হচ্ছে অন্তর্গত চাওয়া। যা নারী খুব কমই পুরুষের কাছে প্রকাশ করে, অথবা পুরুষ তা বুঝতে পারে।

বেশির ভাগ নারীই ভেতরে ভেতরে লালন করে দুঃখ ও নিঃসঙ্গতা, তার জীবন থাকে অবসাদে ভরা। আসলে নারীর প্রধান দুঃখ তার মনের, শরীরের নয়। সে মনকে যেভাবে মেলে ধরতে চায় ঠিক সেভাবে পারে না। জন্মের পর থেকে একজন নারীর বেড়ে ওঠা বড় হওয়া এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পারিবারিক ধাপ তাকে অতিক্রম করতে হয়। নারী একেকটি ধাপ অতিক্রম করে আর তার মন আরও একবার সঙ্কুচিত হয়ে যায়। পরিবারে একজন পুরুষ সদস্য পিতা-মাতা অভিভাবকদের কাছে যে আবদার করে এবং তা পূরণ হয়, নারীর ক্ষেত্রে তা হয় না। তাকে খাদ্যে, পোশাকে এমনকি জীবনযাপনের প্রতিটি স্তরে ঠকানো হয়। পরিবারের প্রতিটি পুরুষ সদস্য তার মনোজগৎকে শাসন করতে চায়। পরিবারই তাকে বৃত্ত এঁকে দিয়ে বলে এর বাইরে তুমি যেতে পারবে না। স্কুল-কলেজে গেলেও তুমি কারও সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারবে না। কারণ তুমি মেয়ে। বৃত্তবন্দি জীবনের বাইরে পা দেয়াই তোমার জন্য পাপ। যারা এ বৃত্ত এঁকে সারাজীবন নারীকে ভেতরে রাখতে চায়, তারাই নারীর প্রধান শত্রম্ন। ফলে সঙ্কীর্ণ ও সঙ্কুচিত মন নিয়ে নারী বেশিদূর এগোতে পারে না। মনের রহস্য ফাঁস করার বা নিজের মনকে মেলে ধরার সে সুযোগ পায় না। মূলত পুরুষই তাকে সে সুযোগ দেয় না। বাবার ঘর থেকে স্বামীর ঘরে যখন যায়, সেখানেও সে রহস্যের বেড়াজালে আরও অধিক মাত্রায় জড়িয়ে পড়ে। কারণ পরিবারের অনুশাসনের চেয়ে স্বামীর সংসারে সে আরও কঠিন অনুশাসনের মধ্যে পড়ে যায়। শ্বশুর-শাশুড়ি এবং স্বামীর রক্তচক্ষুর ওপর তার নতুন জীবন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এক সময় ভেঙে পড়ে। এমন অবস্থায় তার মনোজগৎকে মেলে ধরার সুযোগ কোথায়। স্বামী যদি তাকে স্বাধীনতা না দেয়, বন্ধুর মতো আচরণ না করে, হাসি-তামাশা, সুখ-দুঃখের অংশীদার না হয়ে কেবল শরীরের অংশীদার হয়- তাহলে তো স্ত্রী প্রাণ খুলে স্বামীর সঙ্গে কোনো কথাই বলতে পারবে না। সবকিছু পেয়েও তার মনে হবে সে কিছুই পায়নি। তখন তার ভেতরটা হু-হু করে কেঁদে উঠবে। এমন জটিল ও মানবেতর অবস্থায় একজন নারীর পক্ষে তার মনের দরজা খুলে দেয়া সম্ভব নয়। পিতা-মাতা স্বামী রাশভারী ও রাগী হওয়ার কারণে এবং পারিবারিক ও সামাজিক কঠিন অনুশাসনের কারণে এ দেশের ৯০ ভাগ নারী মনের দিক থেকে অসুখী ও বিষাদময়। আর এর প্রধান কারণ পুরুষ। অথচ পুরুষের মন জয় করার জন্য তাকে অনবরত মিথ্যা কথা বলতে হয়, নিতে হয় নানা ছলনার আশ্রয়। আর সারা দিন অভিনয় করা তো সাধারণ ব্যাপার। স্বামী কর্মস্থল থেকে বাসায় এলে সেজেগুঁজে ভালো খাবার তৈরি করে অপেক্ষা করতে হয়, মন না চাইলেও কৃত্রিম হাসি দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হয়। স্বামী যা বলে তাই শুনতে ও করতে হয়। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের মহিলা বেশ সক্রিয়। এক. যারা অসহায় ও নিরীহ। দুই. যেসব নারী স্বামীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করে এমনকি শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়, তারাই স্বামীকে খুশি করার জন্য সর্বক্ষণ অভিনয় করে বা ছলনার আশ্রয় নেয়। মনভোলানো হৃদয় জুড়ানো সব কথা বলে। ভালো ভালো খাবার তৈরি করে, স্বামীকে নানা উপহার দেয়, স্বামীবিহীন তার নিঃসঙ্গতার কথা বলে আরও কত কী।

যেসব পুরুষ নারী মনস্তত্ত্ব কিছু বোঝে তারা নারীর কাছে আদরণীয় এবং বিশেষ মর্যাদার পাত্র। তারাই মূলত নারীর স্বপ্নপুরুষ। যেসব পুরুষ হাস্যরসের জোগান দিতে ও প্রাণখোলা আড্ডায় মেতে উঠতে পারে এবং নারী সম্পর্কে সব সময় অতিরঞ্জিত ইতিবাচক কথা বলে তারা দ্রম্নতই নারীর পছন্দের তালিকায় উঠে আসে। কেবল তারাই নারী মনোজগতের দরজা খুলে দিতে পারে। আর নারীও তাদের কাছে মুক্ত বিহঙ্গের মতো পাখা মেলে ধরে। যেমন একজন নারীকে যদি বলা হয়, আমি জীবনে অনেক নারী দেখেছি, কিন্তু আপনার মতো ভদ্র, মার্জিত সুন্দর, সাদা হাস্যোজ্জ্বল নারী দেখিনি। আপনার মতো গুছিয়ে কোনো নারীই কথা বলতে পারে না। যদি আপনি নদী অথবা প্রকৃতির কাছে যান তবে আরও মোহনীয় হয়ে উঠবেন। আপনার সংস্পর্শে প্রকৃতিও আরও মোহনীয় হয়ে উঠবে। আমি আপনার স্বামী বা অন্য বন্ধুদের প্রতিপক্ষ নই, কেবল এটুকুই বলতে চাই, আমি আপনার যে কোনো বিপদের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। যদি আপনার কোনো উপকারে আসতে পারি, তবে নিজেকে কৃতার্থ মনে করব। আপনার জীবনকে স্তব্ধ করা বা থামিয়ে দেয়া আমার কাজ নয়, ছায়াসঙ্গী হিসেবে সহযোগিতার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে আপনার জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার কাজ। আপনার জীবনসংসার সুখের ও মধুর হোক এটাই আমার একান্ত প্রত্যাশা। এসব কথার প্রমাণ যদি একজন নারী তার কোনো পুরুষ বন্ধুর কাছ থেকে পায় তবে সে সম্পর্কের দিক থেকে তার স্বামীকে অতিক্রম করবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ নারীর মনের দরজা যিনি খুলে দিতে পারবে সেই প্রধান পুরুষ।

এবার কয়েকটি ঘটনার কথা বলি।

১. মেয়েটির নাম ডালিয়া। ইডেন কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করেছে। একজন শৌখিন সংগীতশিল্পী ও স্বপ্নবাজ নারী। বিয়ে হয়েছে দশ বছর হলো। স্বামীর সংসারে যেদিন সে প্রবেশ করেছে সেদিনই তার স্বপ্নভঙ্গ হয়। সে সারাজীবন খুঁজেছিল একজন স্বপ্ন পুরুষকে, সে পেয়েছিল। কিন্তু বাসর রাতেই তার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। সে ভেবেছিল বাসর রাতে স্বামীর বুকে মাথা রেখে তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা বলবে। বাকি জীবন দুজনে কীভাবে কাটাবে তার জীবনছক তৈরি করবে। স্বামী আদর ভালোবাসায় তার জীবন ভরিয়ে দেবে। না, স্বামীধন এসবের ধারেকাছেও গেলেন না। তিনি কথার ফুলঝুরি না ছড়িয়ে, স্বপ্ন না দেখিয়ে সারারাত কেবল শরীর দখল করে রাখলেন- যেন সে গণধর্ষণের শিকার হলো। গত দশ বছর তার স্বামী তার সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলেননি। কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাননি, এমনকি বিয়ের পরপরই তার গান বন্ধ করে দিয়েছেন।

২. অন্য এক মেয়ের কথা জানি, নাম রীতা। বাসর ঘরে স্বামী তাকে জিজ্ঞেস করেছে, বিয়ের আগে তার সঙ্গে অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল কিনা। মেয়েটি অকপটে বলেছে, না তেমন না, তবে তার চাচাতো ভাই একদিন তার ঠোঁটে চুমো খেয়েছিল। চাচাতো ভাই চুমো খেয়েছিল, এই অপরাধে তার স্বামী বিয়ের পাঁচ বছরে একবারও চুমো খায়নি।

৩. বিয়ের তিন মাসের মাথায় সোনিয়ার স্বামী বিদেশে চলে যায়। সোনিয়া যৌথ পরিবারে শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুর, দেবরের সঙ্গে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যার পরপরই তাকে দরোজা, জানালা বন্ধ করে ঘুমাতে যেতে হয়। এক মহাতঙ্কের মধ্যে তার রাত কাটে। বিয়ের পর সে জেনেছে, এই বাড়ির যে সুন্দরী কাজের মেয়ে তার সঙ্গে বাড়ির সব পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে, এমনকি তার স্বামীর সঙ্গেও। এ কথা শোনার পর তার সমস্ত শরীর কাটা দিয়ে ওঠে। তার ধারণা সে যদি অরক্ষিত অবস্থায় ঘুমাতে যায় তবে শ্বশুর, ভাসুর, দেবর যে কেউ তার ওপর উপগত হতে পারে। স্বামী যেহেতু একই পথের যাত্রী, তাই স্বামীকেও তার মানসিক সমস্যাটি জানাতে পারছে না। সে প্রায় নির্ঘুম রাত কাটায়। বাইরে কোনো শব্দ হলেই আঁতকে ওঠে। সে জানে না কতদিন এভাবে পার করবে।

৪. পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবনে মন্টির স্বামীর সঙ্গে কখনো ঝগড়া হয়নি। তারপরও একদিন সে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেল। তার আত্মহত্যার বেশ কদিন পর তার বান্ধবীর মাধ্যমে জানা গেল, স্বামী কখনোই তার সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলতো না। তার মনোজগতের খোঁজখবর নিত না। বহু দিন বাইরে ঘোরাতে নেয়ার কথা বললেও তাকে নেয়নি। অথচ শাড়ি, গহনা টাকা-পয়সার অভাব ছিল না। সব পাওয়া সত্ত্বেও মন্টির মনটি মরুভূমিতে পরিণত হয়েছিল। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল তার, তাই সে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যার মাধ্যমে তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়।

৫. আত্মহত্যা করে কলেজছাত্রী ইশানা। তার কাছে নিজের জীবন ও বেঁচে থাকা নিরর্থক মনে হয়েছে বলেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যার কারণ তার বাবা-মা। দুজনের মধ্যে সারাক্ষণ ঝগড়া লেগেই থাকতো, সব সময় সংসারে অশান্তি হতো। এর গভীর প্রভাব পড়ে মন্টির মনোজগতে। পরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

৬. গত বছরের শুরুতে ফরিদা খাতুন নামের এক গ্রাম্যবধূ আত্মহত্যা করে। তার কারণ ঠুনকো। সে প্রতিবেশী এক মেয়ের সঙ্গে হলে সিনেমা দেখতে যেতে চেয়েছিল। স্বামী তাকে কেবল বারণই করেনি পিটিয়েছে, পরে সে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করে।

উলিস্নখিত ঘটনাগুলো সবই নারীর মনোজগতের ব্যাপার। পুরুষ যদি এ জগৎকে অনুশাসন করে কিংবা একেবারেই খোঁজ-খবর না রাখে তবে নারীজীবন বিষিয়ে উঠবে। এর ফলে সে মনের প্রশান্তির জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আত্মহত্যা থেকে শুরু করে ভেগে যেতে পারে অন্য পুরুষের সঙ্গেও। এই ভেগে যাওয়া কেবল শরীরী ব্যাপার নয়, এর সম্পর্কসূত্র কেবল অর্থনীতির ওপরও নয়। এর বড় অংশজুড়ে আছে মন।

পুরুষের উচিত সবার আগে নারীর মন বোঝার চেষ্টা করা। হোক সে কন্যা, ভগিনী বা স্ত্রী। হোক তিনি মা। কথায় বলে মন ভাঙা মসজিদ ভাঙা সমান। মনের ওপর আঘাত করা মানে কাঁচের দ্রব্যের ওপর আঘাত করা। মাটির পাত্র ভেঙে রাস্তায় ছড়িয়ে দেয়া। আগ্রার তাজমহলকে ধসিয়ে যমুনায় ফেলা। গতিশীল ও চিররহস্যে ঘেরা নারীমনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে, বন্ধুত্বের খুনসুটি ও গভীরতা দিয়ে। কঠোর অনুশাসনের ফল হয় ভয়াবহ। পৃথিবীতে মনের সুখই বড় সুখ। নারীকে সে সুখ দিতে পারে পুরুষই- এ অস্থির ভঙ্গুর অবক্ষয়গ্রস্ত আত্মকেন্দ্রিক লোভী পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তেমন পুরুষ কোথায়?
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে