logo
  • Thu, 16 Aug, 2018

  আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

আগামী নিবার্চনের হালখাতা

বাংলাদেশে নিবার্চনের দিনে একটি দিক সাধারণ স্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই দিকটি হলো সরকারি দলের সমথর্কদের প্রকাশ্যে জালভোট দেয়া, বিরোধী দলের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করা আর প্রিসাইডিং কমর্কতাের্দর বটগাছের মতো চুপ করে বসিয়ে রাখা ও পুলিশ কমর্কতাের্দর নীরব দশের্কর ভূমিকা পালন করা। উপরিউক্ত দিকটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠানে প্রক্রিয়া নিদের্শ করে না এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার এ বিষয়ে নিজেদের বিপক্ষ মতামত প্রকাশ করেছে।

আগামী নিবার্চনের হালখাতা
বাংলাদেশের আগামী নিবার্চন প্রায় দোর প্রান্তে এসে গেছে বলা যায়। নিবার্চনের আগে নিবার্চনী প্রচারণা নিবার্চন সম্পকের্ মানুষকে অগ্রিম সংবাদ পেঁৗছে দেয়। বতর্মান নিবার্চনের ক্ষেত্রে এখনো সেই লক্ষণটি লক্ষ্য করা যায়নি। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দু-একটি পাড়ার দেয়ালে বিশাল আকারের পোস্টার লক্ষ্য করা গেলেও বিরোধী দল অথবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তেমন সাড়া প্রায় অনুপস্থিত বলা চলে।

বাংলাদেশে নিবার্চনের সময় ভোটদানের প্রকৃতি, সরকারি দলের অবস্থান, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আথর্-সামাজিক-রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী। এর সঙ্গে যুক্ত করা যায় সবাির্ধক গুরুত্বপূণর্ নিবার্চন কমিশন।

আওয়ামী লীগ বিগত দু’বার সাধারণ নিবার্চনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনায় অগ্রসরমান। সরকারি দলের খ্যাতি বা অখ্যাতি অনেকাংশে নিভর্রশীল দেশের সামাজিক, আথির্ক ও রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল বা অস্থিতিশীল কী-না, তা পযের্বক্ষণের ওপর। বতর্মান সরকারের সময়ে তিনটি দিক জনসাধারণের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে বা লক্ষ্যগোচর হয়েছে বলা যায়। এই তিনটি দিক হলো: ঢাকার একাধিক অংশে ফ্লাইওভার নিমার্ণ করার পর রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম না কমলেও এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত সহজসাধ্য হওয়ার সময় হ্রাস হয়েছে। এক্ষেত্রে একটি অন্তরায় হলো শহর আগেই পূণার্ঙ্গভাবে গড়ে ওঠায় সবর্ত্র ফ্লাইওভার নিমার্ণ করে যানজট কমানো সম্ভব নয়। বতর্মান সরকারের দ্বিতীয় কৃতিত্ব হলো দেশীয় অথের্ পদ্মা সেতু নিমাের্ণ অগ্রসর হওয়া। পদ্মা সেতু এখনো সম্পূণর্ হয়নি, কিন্তু সম্পূণর্ হওয়ার পর দেশের একটি অংশের সঙ্গে অন্য অংশের যাতায়াত ত্বরাম্বিত ও সহজ হবে। তৃতীয় একটি সাফল্যের দিক হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিক্ষেপ। এটাও বাংলাদেশের মতো ছোট একটা রাষ্ট্রের উন্নতির দিক চিহ্নিত করে। আর একটা দিক উল্লেখ না করলে দেশের পরিবতর্ন বোঝা যাবে না। সেটা হলো ডিজিটাল বাংলাদেশকে প্রযুক্তির দিক থেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

উপরিউক্ত দিকগুলো বাংলাদেশের উন্নতির বাহক হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেনি। দীঘির্দন থেকে এখানে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি থেকে বা রাস্তা থেকে রাজনৈতিক কমির্ বা নেতাদের ধরে নেওয়ার পর তাদের সম্পকের্ আর কোনো সংবাদ উদ্ধার করা যায়নি। এই দিকটি মানবিকতা বিরোধী বলে দেশে ও বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। বতর্মান বিরোধী দলকে সম্পূণর্ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে তাদের মিটিং, মিছিল করতে না দিয়ে। সরকার নিজের দল বা সমথর্ক দলের সদস্যদের রাস্তায় বেরুতে দিলেও বিরোধী দল বিএনপিকে এই স্বাধীনতা ভোগ করতে দেখা যায়নি।

আগামী সাধারণ নিবার্চনে সরকারি দল নিজেদের প্রস্তুত করলেও বিরোধী দল বিএনপি সেক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়নি। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অফাের্নজ ট্রাস্টের জন্য কারাবন্দি ও এখন পযর্ন্ত জামিন না পাওয়ায় দলের ভেতরে আগের মতো শৃঙ্খলার অভাব। দল চলছে কয়েকজন আত্মত্যাগী নেতার জন্য। তাছাড়া দলের মধ্যে বিরোধ থাকলেও তা সম্পূণর্ নিয়ন্ত্রিত হয়নি। এ ছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত কুড়ি দলের জোটের মধ্যেও যে অসন্তোষ নেই, তা নয়। জোটভুক্ত বিভিন্ন দল চিন্তা করে নিবার্চনে জয়ী হলে তাদের মন্ত্রিত্ব দেবার দিকটি সম্পকের্। সম্ভবত বিএনপি দীঘির্দন থেকে চিন্তা করছিল জামায়াতকে বাদ দিয়ে একাকী চলার রাজনৈতিক মনোভাব। এর ফলে তাদের সঙ্গে জামায়াতের একটা পাথর্ক্য দেখা দিয়েছে। তার প্রমাণ সিলেট সিটি করপোরেশন নিবার্চনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রাথীর্ দেয়া।

বতর্মানে যে কটা সিটি করপোরেশন নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার সব কটাতেই সরকারি প্রাথীর্ নিবাির্চত হয়েছেন অনেক ভোটে। বতর্মানে সরকারের মতো বিরোধী দলের লক্ষ্য রাজশাহী ও সিলেটে সিটি নিবার্চনে জয়ী হওয়া।

বাংলাদেশে নিবার্চনের দিনে একটি দিক সাধারণ স্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই দিকটি হলো সরকারি দলের সমথর্কদের প্রকাশ্যে জালভোট দেয়া, বিরোধী দলের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করা আর প্রিসাইডিং কমর্কতাের্দর বটগাছের মতো চুপ করে বসিয়ে রাখা ও পুলিশ কমর্কতাের্দর নীরব দশের্কর ভূমিকা পালন করা। উপরিউক্ত দিকটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠানে প্রক্রিয়া নিদের্শ করে না এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার এ বিষয়ে নিজেদের বিপক্ষ মতামত প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের সচিব সম্প্রতি এবং আগেও মনোভাব প্রকাশ করেছেন যে, সাধারণ নিবার্চনে বিএনপি জয়ী হলে দেশে রক্তের নদী বয়ে যাবে, লাশের পাহাড় হয়ে যাবে। এখানে একটি গুরুত্বপূণর্ প্রশ্ন হলো, বিএনপির নিবার্চন-বিজয়ী সম্পকের্ তার এই মন্তব্য কেন? তিনি কী ভাবছেন যে, তার সরকারের আমলে যেভাবে বিএনপির ওপর দমননীতি চালানো হচ্ছে, তারা জয়ী হলে এর প্রতিশোধ নেবে, দেশে একটা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে? তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপি নিবার্চনে জয়ী হয়ে কোনোবারই প্রতিশোধের রাজনীতিতে অগ্রসর হতে দেখা যায়নি।

এবার ওবায়দুল কাদের সাহেবের এত ভয় কেন? নিবার্চন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূণর্ হলে একদল তো জয়ী হবেইÑ এটাই রাজনীতিতে সাধারণ ঘটনা। এর জন্য প্রয়োজন ভারতের মতো শক্তিশালী ও স্বাধীন নিবার্চন কমিশন। তারা রাজনৈতিক দলÑ বিশেষকে সমথর্ন করেন না, প্রতিপালন করেন নিরপেক্ষ আদশের্র ব্যবহার। এই কারণেই ভারতের কেন্দ্রীয় কংগ্রেস সরকার পরাজিত হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দীঘির্দন শাসনকারী বাম দল ক্ষমতা হারিয়েছে। কানাডায় এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী পিয়ের ট্রুডোর সন্তান জাস্টিন ট্রুডো বতর্মানে দেশ শাসন করছেন নিজেদের রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্যের কারণেÑ গণকল্যাণমুখী আদশের্র জন্য। ব্রিটেনের আয়রন লেডি প্রধানমন্ত্রী মাগাের্রট থ্যাচার ক্ষমতা হারিয়েছেন দলের অগণমুখী প্রশাসনের জন্য। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় কোনো দেশেই, একদল থেকে অন্য দলের হাতে আসবেইÑ এর নামই গণতন্ত্র। দেশ যেভাবে নিচে নেমে গিয়েছিল, সেখান থেকে ওপরে ওঠাতেই অতি-বৃদ্ধ বয়সেও মালয়েশিয়ায় নিবার্চনে দঁাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীত্বের পদ গ্রহণ করেছেন মাহাথির মোহাম্মদ, যার আমলে মালয়েশিয়া সবদিক থেকে উন্নত হয়ে একটা সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছিল। তার আমলেই সমুদ্রের ওপর বিশাল বঁাধ দিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে পাশ্বর্বতীর্ দ্বীপ পেনাংয়ে যাওয়ার প্রশস্ত পথ নিমির্ত হয়েছে। সময় বেঁচেছে, অথর্ বেঁচেছে, যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এমন দেশই তো সবার লক্ষ্য। বাংলাদেশ কী সাবির্ক সংঘাত এড়িয়ে একাত্মতার পথ অনুসরণ করে এমন একটা দেশে পরিণত হতে পারে না?

আগামী নিবার্চনে বতর্মান সরকারের সামনেও একাধিক সমস্যা দঁাড়িয়ে আছে, যার সমাধান একান্ত প্রয়োজনীয়। প্রথম সমস্যা যানজট ও দেশের সবর্ত্র রাস্তার উন্নয়ন। ঢাকার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পেঁৗছাতে কত সময় লাগবে, তা পথচারীর কাছে অজানা। তার ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদেরই ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে পথচলা, রাস্তায় বাসের নিবির্বাদে রাস্তার সব লেন দখল করে চলা, ফ্লাইওভারে পযর্ন্ত উল্টোপথে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালানো, ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা দিয়ে পারাপার হওয়া, গাড়ি চলার সময় হাত দেখিয়ে রাস্তা অতিক্রম করাÑ এই দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে রাস্তা চলাচলে সুনাম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে অনাদশর্ মনোভাব দূর করা সম্ভব হবে না।

সাম্প্রতিককালে সরকারকে আরো একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছেÑ কোটাবিরোধী আন্দোলন। প্রথম পযাের্য় এই আন্দোলন দেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীের্দর মধ্যে প্রসারিত হয়। এই আন্দোলনের গতি তীব্র হয়ে উঠলে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি শান্ত করার প্রয়োজনে কোটাবিরোধীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও পরবতীের্ত দীঘির্দন দাবি বাস্তবায়ন না দেখে শিক্ষাথীর্রা আবার নতুন করে আন্দোলনে অগ্রসর হয়েছে। সরকারি পুলিশ কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের গ্রেপ্তার ও কয়েকজনের ওপর অত্যাচার করলেও সম্প্রতি এই আন্দোলন আবার নতুন করে অগ্রসর হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বজর্ন শুরু হয়েছে জুলাইয়ের ১৫ তারিখ থেকে অনিদির্ষ্টকালের জন্য। এই আন্দোলনের সূত্রপাত রাজপথে শুরু হয়নি, নীরবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। সরকারকে এই আন্দোলনের সমাধা করতে গেলে গোটা বিরোধের দিকটির সমাধানের প্রয়োজন, অন্যথায় সাধারণ নিবার্চনে সরকারি দলের ভোটের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

বতর্মান বাজেটে ব্যাংকে আমানতকারীদের সুদের পরিমাণ ছয় পাসেের্ন্ট কমিয়ে আনায় ইতিমধ্যেই ব্যাংক সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিদেশ থেকে টাকা আসাও হ্রাস হতে পারার সম্ভাবনা আছে। এই দিক সম্পকের্ও সরকারের চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন যে নেই, তা নয়।

বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নিবার্চনে নিবার্চন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠান করতে না পারলে দেশে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। কারণ বতর্মানে ভোটাররা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা দু’ভাগে বিভক্ত: একভাগে আছেন নিজ দল সমথর্ক ভোটার, আর অন্যদিকে আছেন দল নিরপেক্ষ ভোটার। দ্বিতীয় শ্রেণির ভোটাররা বেশি সচেতন। কারণ তারা যোগ্য প্রাথীর্ বিচার করে ভোট দিয়ে থাকেন এবং এদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। অনেক সময় দলীয় ভোটাররাও দলের কাযর্কারণে বিভক্ত হয়ে অন্য দলকে ভোট দিয়ে থাকেন। এই শ্রেণির ভোটারের সংখ্যাও অনেক এবং দলের পরাজয়ের ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা বিদমান।

নিবার্চনের দিন আরও একটি দিক সম্পকের্ চিন্তা করার প্রয়োজন আছে। দেশে অনেক ভোটার শিক্ষিত নন বলে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে তাদের ভোট দেয়া বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তার জন্য সম্পূণর্ নিরপেক্ষ ভোটকক্ষের অফিসার পাশে এসে না দঁাড়ালে তাদের ভোট মেশিন পরিচালনাকারী অফিসারের পক্ষপাতপূণর্ দলের প্রাথীের্দর পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বাংলাদেশের আগামী নিবার্চন অন্য দেশের কাছেও একটা অনুসরণযে্যা আদশর্ হয়ে দঁাড়াতে পারে এটাই সবার কামনা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near 'WHERE news_id=5180' at line 3