logo
  • Tue, 14 Aug, 2018

  ড. ইশা মোহাম্মদ   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

জাতীয় নিবার্চন এবং আন্দোলন : আগে প্রাপ্য পরে শূন্য

বাংলাদেশের এই মুহ‚তের্র বড় সমস্যা হচ্ছে সংবিধান নিজেই। গণতন্ত্রের জন্য দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ খুবই কাযর্কর। কিন্তু সংবিধানে নেই। তাই সংবিধান সংশোধনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করা উচিত। কয়েকজন মহিলা সংসদ সদস্য আছেন। কিন্তু তারা নারীমুক্তি আন্দোলনের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। কেননা পাটির্র সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কথা বলা যায় না। তা ছাড়া ওই ভদ্রমহিলারা করুণাশ্রিত সদস্য। তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করে তারা ক্ষমতায় আসেনি। দয়ার দানে ক্ষমতায় এসেছে। বেতন নেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে নারীমুক্তি আন্দোলনে যে দাবি সবাের্গ্র করা উচিত, তা হচ্ছে পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার। কিন্তু ওই দাবি করার মতো সাহস ওইসব ভদ্রমহিলার হবে না।

জাতীয় নিবার্চন এবং আন্দোলন : আগে প্রাপ্য পরে শূন্য
আগামী নিবার্চন নিয়ে বহুদল বহুকথা বলছে। কীভাবে নিবার্চন হলে ক্ষমতায় যেতে পারবে, সেটাই তাদের কথাবাতার্র সারৎসার। কিন্তু কীভাবে নিবার্চন হলে গণস্বাথর্ রক্ষিত হবে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই। বোঝা যায় এরা সবাই গণশত্রæ। নিজেদের স্বাথের্র কথাই বলছে। গণস্বাথের্র কথা বলছে না। গণস্বাথের্র কথা বললে দেখা যাবে হয়তো তাদের পায়ের তলায় মাটি থাকছে না। তাই গণশত্রæরা সবাই একজোট হয়ে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের কথা বলছে। ওদের ভাব দেখে মনে হয়, তত্ত¡াবধায়ক সরকার হলেই তারা ক্ষমতায় যাবে। সে অবস্থা এখন আর নেই। সংবিধান সংশোধন ওই কারণে করা হবে না। তা ছাড়া সংসদে চাপ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যও তাদের নেই। এরশাদ গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি ওই দাবি করবেন না। আর গণআন্দোলন করে কেউ শেখ হাসিনাকে পথে বসাতে পারবে না। সে ক্ষমতা বিএনপির নেই। জামায়াতের সাহায্যে তারা গণআন্দোলনে যেতে পারত। কিন্তু জামায়াত পথে নামলেই মার খাবে। আওয়ামী লীগ জামায়াতকে বাড়ি বাড়ি নিয়ে মারবে না। তবে ময়দানে পেলে ছাড়বে না। খামাখা বিএনপির গদির জন্য জামায়াত মরবে কেন? বরং তারা টিকে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ আছে। শেখ হাসিনার সৌভাগ্য নক্ষত্র এখন তুঙ্গে। কদিন আগে তারা মুক্তির আন্দোলনের সিপাহসালার উপাধি পেয়েছেন। এখন শান্তিনিকেতনে থেকেই বিশজন হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছে পুতিন। রাশিয়া বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। মোদির সঙ্গে বৈঠকে হাসিনা সন্তুষ্ট। বিএনপির আশা করা উচিত নয়। ভারত নিবার্চনে হস্তক্ষেপ করবে। তাই —আশা ছেড়ে দিয়ে বিএনপির উচিত হবে নাম স্বাথের্র আন্দোলন করা এবং নিবার্চন করা। তাদের উদ্দেশ্য যদি হয়। সংসদে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পদদলিত গণস্বাথের্ক উদ্বার করা, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ আবার তাদের হাতেই ফিরে আসবে।

বাংলাদেশের এই মুহ‚তের্র বড় সমস্যা হচ্ছে সংবিধান নিজেই। গণতন্ত্রের জন্য দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ খুবই কাযর্কর। কিন্তু সংবিধানে নেই। তাই সংবিধান সংশোধনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করা উচিত। কয়েকজন মহিলা সংসদ সদস্য আছেন। কিন্তু তারা নারীমুক্তি আন্দোলনের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। কেননা পাটির্র সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কথা বলা যায় না। তা ছাড়া ওই ভদ্রমহিলারা করুণাশ্রিত সদস্য। তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করে তারা ক্ষমতায় আসেনি। দয়ার দানে ক্ষমতায় এসেছে। বেতন নেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে নারীমুক্তি আন্দোলনে যে দাবি সবাের্গ্র করা উচিত, তা হচ্ছে পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার। কিন্তু ওই দাবি করার মতো সাহস ওইসব ভদ্রমহিলার হবে না। শেখ হাসিনা একবার উদ্যোগ নিয়ে বেসামাল হয়ে গিয়েছিলেন মৌলবাদী ঘরানার লোকজনদের বুকে কোরআন নিয়ে মিছিল করার কারণে। দাবি করে আইন করে সম্পত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা খুবই ‘বন্ধুর’ পথ বলেই মনে হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের সদিচ্ছা থাকলে অন্যভাবেও ওই সামাজিক অবস্থানে যাওয়া যায়। সে সামাজিক অবস্থানের কারণে ছেলেমেয়ে সমান সমান হয় সবের্ক্ষত্রে।

যদি সংসদে নারী-পুরুষের সংখ্যা সমান সমান হয় তবে একটি অনন্য সাধারণ গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। তিনশত আসনে ছয়শতজন সংসদ সদস্য নিবাির্চত হয়ে আসবেন। একজন নারী, অন্যজন পুরুষ। নর-নারী সমান সমান হলে সংসদে নারীরা উচ্চকণ্ঠ হতে পারবেন। তা ছাড়া সংসদে তাদের ভোটের মূল্যও বহুগুণ বেড়ে যাবে। সংসদে কথায় কথায় বহুকথা হতে পারবে। নারীদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি বাধা-বিপত্তি কাটাতে থাকবে অল্প অল্প করে। নারীদের সামাজিক মূল্যও বাড়তে বাড়তে নরের সমান হবে।

সংবিধান সংশোধন করতে হবে। দু’একটি শব্দ পরিবতর্ন করলেই হবে। প্রত্যেক পাটির্ দুজন করে মনোনয়ন দেবে। তবে ওই দুজনই যে ভোটযুদ্ধে জিতে আসবে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। হয়তো এমনও হতে পারে যে, আওয়ামী লীগের পুরুষের সঙ্গে এরশাদের মহিলা জিতে এলো। তাতে কোনো সমস্যা হবে না এ কারণে যে, জোটভুক্ত যে কেউ-ই জিতুক, সরকার গঠনে কোনো সমস্যা হবে না। আর উচ্চকক্ষে সমান সমান হবে পাটির্র মনোনয়নের জন্য। উচ্চকক্ষ হবে পাটির্র প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে। যদি আওয়ামী লীগ পঞ্চাশ শতাংশ ভোট পায় তবে উচ্চকক্ষে তার সদস্য সংখ্যাও হবে পঞ্চাশ শতাংশ। আবার হয়তো দেখা যাবে সিপিবি একটি পদেও জিতে না এসেও দশ শতাংশ ভোট পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে তার সদস্য সংখ্যা হবে দশ শতাংশ। সদস্য মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে পাটির্ নারী-পুরুষের তালিকা নিবার্চন কমিশনে দাখিল করবে সমান সমান। যদি কোনো নারী অযোগ্য বিবেচিত হয়, তবে তার পরিবতের্ কোনো পুরুষ যাবে না। বিকল্প আর একজন নারীকেই পাটির্ মনোনয়ন দেবে। এভাবে দুটি কক্ষেই নারী-পুরুষ সমান সমান হবে।

দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগের হাতে আর কোনো কাজ নেই উন্নয়ন ছাড়া। দল হিসেবে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট বদনাম করেছে আওয়ামী লীগ। অনেক সন্ত্রাসী এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসায়ী মজুতদার, মুনাফাখোরও আছে। পাটির্ এখন এদের বিদায় করতে পারবে না। কারণ সামনেই ইলেকশন। আবার এদের কারণেই আওয়ামী লীগের ভাবমূতির্ ক্ষুণœ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এখন একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তাই তার আর কোনো কাজ নেই। উন্নয়ন ছাড়া জনগণের মুখোমুখি হওয়ার আর কোনো সুযোগই নেই। শেখ হাসিনা সেই পথই ধরেছেন। উন্নয়নের পথেই হঁাটছেন।

উন্নয়নের একটি নিদশর্ন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। বঙ্গবন্ধু-১ এখন মহাকাশের কক্ষপথে। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্যই জানা গেল এক মহাবিপযের্য়র খবর। বাংলাদেশের কোনো আকাশ নেই। এর আগে সমুদ্র ছিল না। শেখ হাসিনা কঠোর পরিশ্রম করে আন্তজাির্তক পযাের্য় ক‚টনৈতিক দেনদরবার করে সমুদ্র উদ্ধার করেছেন। এখন নীল অথর্নীতির দিকে জাতি তাকিয়ে আছে। অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ঠিক এমনভাবেই আকাশ অথর্নীতির কথা ভাবতে হবে। এই মুহূতের্ই নয়, তবে আগামী পঞ্চাশ বছর পর অথর্নীতি আকাশে উড়বে। এখন যেমন বিশ্বঅথর্নীতি জলে ভাসছে, ঠিক তেমনই বৈশ্বিক অথর্নীতি আকাশে উড়বে। স্থলের সীমাবদ্ধতা থেকে মনুষ্যজাতি মুক্তি পাবে। কিন্তু ঠিক তখনই দেখা যাবে আকাশে বাঙালি জাতিকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে। কেননা, এখন জানা গেছে, বাংলাদেশের আকাশ নেই। কেন থাকবে না?

যারা আন্দোলন করতে চায়, তাদের উচিত আকাশবিষয়ক গণস্বাথের্ আন্দোলন করা। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও তাদেরও উচিত আন্দোলন করা। এখন শুরু করলে হয়তো কয়েক বছরের মধ্যে আকাশ ফিরে পাওয়া যেতে পারে। তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। কেন দলমত নিবিের্শষে আকাশবিষয়ক গণস্বাথের্ কথা বলেন না। তারা একটা মানববন্ধনও তো করতে পারবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে বিশ্বজনমতকে বাংলাদেশের স্বাথের্র পক্ষে আনার জন্য আন্দোলন করা কিংবা বিশেষ কমর্সূচি পালন করা। এ ব্যাপারে বামপন্থীদের করণীয় আছে।

বাংলাদেশে বামপন্থীরা রাজনীতিতে কোনো চমক সৃষ্টি করতে পারছে না। তারা জাসদ মাকার্ গোপন ষড়যন্ত্রে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্ন দেখে। মাকর্সবাদে ষড়যন্ত্রের স্থান নেই। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সাযুজ্যপূণর্ না হওয়ার কারণে রক্তাক্ত বিপ্লব হবে না। বামপন্থীদের আরও ভালোভাবে সংগঠিত হতে হবে। শতধা বিভক্ত বামপন্থীদের ঐক্য ছাড়া তা সম্ভবও নয়। যারা প্রকাশ্য বামপন্থী তাদের উচিত জাতীয়তাবাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পকর্ তৈরি করা। সাম্রাজ্যবাদকে প্রতিহত করার জন্য জাতীয়তাবাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পকর্ এখন সময়ের দাবি। কিন্তু ওই কাজে শ্রেণিস্বাথর্ ভুলে গেলে চলবে না। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল না করেও সবর্হারার শ্রেণিস্বাথের্র পক্ষে কাজ করা যায় এবং অজর্নও করা যায়। যেমন নারীমুক্তি আন্দোলন। যদি সবর্হারার একনায়কত্ব কায়েম করা যায় তবে নারী-পুরুষ সমানাধিকার ভোগ করবে।

নারী-পুরুষ সমান অধিকারের কথা তো শেখ হাসিনাও বলছেন। কিন্তু প্রবল শ্রেণিস্বাথের্র কাছে নিবার্ক হয়ে যাচ্ছে। সমাজের গোড়া মুসলমানরা নারী-পুরুষ সমান অধিকার চায় না। এ প্রসঙ্গে ‘তেঁতুলবাদীদে’র কথা স্মরণ করতে পারেন। বামপন্থীদের তো তেঁতুলবাদীদের তোয়াজ করার কিছু নেই। তারা সবর্হারার শ্রেণিস্বাথের্ প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে পারবে। যেমন নারীমুক্তি আন্দোলনে বিশেষ কমর্সূচি পালন করা। মাকর্স বলেছেন, সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল না করেও সবর্হারার শ্রেণিস্বাথের্ অনেক রকম কমর্সূচি পালন করা যায়। এমনকি, অজর্নও করা যায়। বতর্মানে দেখা যাচ্ছে নারীমুক্তি আন্দোলনে তথাকথিত হিতবাদীরা যা করছে তা সবই ফেঁাড়ার ওপরে প্রলেপ মাত্র। প্রকৃত চিকিৎসা হচ্ছে না। রোগ নিরাময়ও হচ্ছে না। যেমন নারীমুক্তি আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই যে কোটাবিরোধী আন্দোলন, সেটি মূলত মুক্তিযোদ্ধা ও মহিলা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর প্রধানমন্ত্রী সব কোটা বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এতে কি বোঝা যায়?

নারীমুক্তি আন্দোলনে বামপন্থীদের সশরীরে নামতে হবে। মাও সে তুং বলেছেন, সমাজে নারীরা একটি অতিরিক্ত শোষণের জঁাতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে পুরুষ সবর্হারাদের তুলনায়। তা হচ্ছে, পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘোষণা। সরাসরি ওই দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না। কিন্তু ওই দৃষ্টিভঙ্গির ‘বাস্তবতা’র বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা যাবে। যেমন বাংলাদেশের সংবিধান। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রচিত। এই সংবিধানের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করা যায়। সংবিধানে কয়েক শতাংশ মহিলা সদস্যের ব্যবস্থা আছে। যারা পাটির্র করুণায় সংসদ সদস্য হয়ে থাকেন। নিঃসন্দেহে এটা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। যে কোনো উন্নত সমাজে, যেখানে নারী-পুরুষ জেন্ডার ইস্যুর কারণে-অত্যাচারিত নয়, সেখানে ধরে নেয়া যায় যে, নর-নারীর যে কেউ নিবার্চনে জিতে আসতে পারে। সেখানে সংবিধানে নারী কোটা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন বাংলাদেশে কোনো সময়ই তা সম্ভব হবে না। তাই কয়েক বছরের জন্য মহিলা সংসদ সদস্যের কোটা তৈরি করেছিলেন। এখন তারও মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ওই যে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তা থেকে সংবিধানকে মুক্ত করা যায়নি। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্তির পথ একটাই। তা হচ্ছে, সংসদে নারী-পুরুষ সদস্যের সংখ্যা হবে সমান। সংবিধানিক সংশোধনের আন্দোলনে নামতে পারে বামপন্থীরা। হিসাবটা খুবই সাধারণ। প্রতিটা আসনে দুজন মনোনয়ন পাবে। একজন নারী, অন্যজন নর। তাহলেই সংসদে নর-নারীর সংখ্যা সমান হবে। এর ফলে পরে অনুভ‚ত হবে। সংসদে নারী-পুরুষ সমান হলে মৌলবাদীরা আন্দোলন করতে পারবে না। কেননা, কোরআন হাদিসে সংসদে নারীদের সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সম্পত্তির ক্ষেত্রে তারা বুকে কোরআন নিয়ে মিছিল করতে পারলেও এ ক্ষেত্রে পারবে না। এই বিশেষ অজের্নর জন্য প্রয়োজনে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যও করা যায়।

সমাজতন্ত্রীদের প্রথম দিকের রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভুলটি ছিল। লেলিনীয় সমাজতন্ত্রেও সংসদে নারী-পুরুষের আসন সংখ্যা সমান ছিল না। সম্ভবত কোনো সমাজতন্ত্রী দেশেও সংসদে নারী-পুরুষ সমান নয়। সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক কাজ সব মানুষকে সমান করা। যেহেতু সমাজতন্ত্র একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সাম্যবাদে ওই উত্তরণ সম্ভব। তাই কেবল অথৈর্নতিক সাম্যই যে উত্তরণের পথ নয়, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে। সমাজতন্ত্রীদের উচিত ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পালে হাওয়া এবং একই সঙ্গে জেন্ডার ইস্যুকে ধরা। তারা কেউই জেন্ডার ইস্যুকে ধরেনি। পরিণতি কি হয়েছে, তা তো আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন।

বাংলাদেশে এখন বামপন্থীরা মারাত্মক অত্যাচারের মধ্যে নেই। মনে হয় শেখ হাসিনা যথেষ্ট উদার রাজনীতিক, ঐক্যকে আশীবার্দ হিসেবে নিয়ে বাম ঐক্য এবং সংবিধান সংশোধনের আন্দোলনে নামা উচিত। সময় সব সময় এক রকম থাকে না। মৌলবাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা নিরলস সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। যদি তিনি ব্যথর্ হন তবে বামদের জন্য খবর হবে। মৌলবাদীরা বামদের উকুন মারা মারবে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে বামদের উচিত হবে ডান সম্পৃক্ত আন্দোলন করা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য করা এবং সংবিধান সংশোধনে বাধ্য করা। আশা করি জ্ঞানী বামপন্থীরা বিষয়টি বুঝবেন।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near 'WHERE news_id=5177' at line 3