logo
মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

  মোহাম্মদ নজাবত আলী   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

রাজনীতিতে ভোটের হাওয়া

রাজনীতিতে ভোটের হাওয়া
সমাজ রাষ্ট্র, রাজনীতি এ শব্দগুলো এখন একাকার হয়ে একে অপরের পরিপূরকে পরিণত হয়েছে। সমাজ আছে বলেই রাষ্ট্র টিকে আছে। আর রাজনীতি হচ্ছে সমাজ রাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূণর্ বিষয়। পৃথিবীতে রাজনীতিবিমুখ কোনো সমাজ, রাষ্ট্র খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ রাজনীতি হচ্ছে জনগণ নিয়ে আর জনগণ হচ্ছে রাষ্ট্রর মূল শক্তি। কিন্তু এ শক্তির কদর বাড়ে ভোটের রাজনীতিতে, ভোটের সময়।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। পৃথিবীর সব রাষ্ট্রই পরিচালিত হয় সংবিধান মোতাবেক। সংবিধান ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই চলতে পারে না। এজন্য সংবিধানকে রাষ্ট্রের দপর্ণ বলা হয়। সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারের মেয়াদ ৫ বছর। ৫ বছর পরপর দেশের নিবার্চন হয় যাকে আমরা জাতীয় নিবার্চন বলি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার পরিবতের্নর বৈধ পথ হচ্ছে নিবার্চন। কিন্তু শুধু নিবার্চন হলেই হবে না। সে নিবার্চনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা থাকতে হয়। তাই দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নিবার্চন প্রত্যাশা করে সব দল মতের মানুষ। যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র হচ্ছে উন্নয়নের পূবর্ শতর্। আর গণতন্ত্র শুধু একদিনের গণতন্ত্র বা নিবার্চন নয়। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে এখানে বিভিন্ন মত পথের মানুষ রয়েছে। গণতন্ত্রে বিভিন্ন দল থাকবে, মতের মানুষ থাকবে, বিরোধী দল থাকবে এগুলো গণতন্ত্রের সৌন্দযর্। গণতন্ত্র শিক্ষা দেয় সহনশীলতার সহমমির্তার, অপরের মতামতকে সম্মান জানানো। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতন্ত্র নয়। বরং গণতন্ত্র হচ্ছে সব দল মতের মানুষকে একীভ‚ত করে দেশের উন্নয়ন ঘটানো। এজন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন শাসনব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্র হচ্ছে সবর্গ্রহণযোগ্য ও শ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা। অন্যান্য শাসনব্যবস্থার বিপরীতে গণতন্ত্র জনগণই ক্ষমতার উৎস। আমাদের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। আর নিবার্চন হবে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে। জাতি হিসাবে আমাদের যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি হতাশাও। বাঙালি জাতির সৌভাগ্য বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনা নিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি স্বাধীন হয়। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঙালি জাতিকে ধাপে ধাপে ইতিহাসের বঁাকে বঁাকে একাত্তরে পৌঁছে দেয়। এটা বাঙালি জাতির বড় সাফল্য ও গৌরব। আর হতাশার কথা যদি বলা হয় তাহলে ৪৬ বছরের বায়ান্ন ও একাত্তরের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে আমরা অনেকটা ব্যথর্ হয়েছি। যে অসা¤প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্রের কথা বলা হয় তা ভোটের রাজনীতিতে ধমির্ভত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আপস করা হচ্ছে।

সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নিবার্চন দেশবাসী প্রত্যাশা করে। দেশবাসীর সে প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এখন বতর্মান সরকারের ওপর। গত ১০ম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে যে সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার নিবার্চন হয়েছিল এবং যে নিবার্চনে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি জোট অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু আগামী একাদশ সংসদ নিবার্চন ওই রকম কোনো নিবার্চন জনগণ চায় না। জনগণ চায় এমন একটি নিবার্চন যে নিবার্চন রাজনৈতিক দলগুলো ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। ইতিমধ্যে দেশে নতুন নিবার্চন কমিশন গঠিত হয়েছে। সে কমিশনের ওপর বিএনপির বড় কোনো অভিযোগ নেই। গত নিবার্চনে ইতিমধ্যে শাসক দল শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বলা যেতে পারে তারা নিবার্চনে প্রচারণা শুরু করেছে। বিএনপিও বসে নেই। তারা বিভাগীয় পযাের্য় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নামের তালিকা ইতিমধ্যে ঠিক করছেন। এতে দেখা গেছে, প্রতিটি বিভাগে আসনের চেয়ে প্রাথীের্দর নামের তালিকা অনেক বড়। কারণ এটাই স্বাভাবিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কখন কি হয়ে যায়। কোনো প্রাথীর্র একটু ত্রæটির কারণে মনোনয়ন হয়তো বাতিলও হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় দুটি দলের ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্। জনকল্যাণে এ দুটি দলের বরাবরই ভ‚মিকা রয়েছে। দুটি দলের জোট রয়েছে। তবে দীঘর্ কয়েক বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। গত নিবার্চনে অংশগ্রহণ তারা করেনি। আগামী নিবার্চনে বিএনপি অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে তা দলীয় নেতাদের বক্তব্য বিবৃতি থেকে বোঝা যায়। একটি রাষ্ট্রে সুষ্ঠু নিবার্চন জনগণ সব সময় প্রত্যাশা করে। বিগত নিবার্চনে ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই সঙ্গত কারণে আগামী একাদশ নিবার্চন নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ উচ্ছ¡াস পরিলক্ষিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিএনপি তাদের অতীত বতর্মান বিভিন্ন কমর্কাÐ জনগণ বিচার বিশ্লেষণ করছে। আগামী নিবার্চন হবে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্ নিবার্চন। এ নিবার্চনে যে দল বা জোট জয়লাভ করবে তাদের সময় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পদাপর্ণ করবে। তাই ভোটাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আগামী নিবার্চনে তাদের পছন্দের প্রাথীের্ক ভোট প্রদান করে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে।

গণতন্ত্র একটি রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের পূবর্শতর্। বতর্মান সরকার সে গণতন্ত্রের প্রাণ বঁাচিয়ে রেখেই দেশের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। আর গণতন্ত্র মানে আত্মমযার্দা ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক উন্নয়ন অথার্ৎ একে অপরের সঙ্গে সৌহাদর্্য, সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করা। কিন্তু দুঃজনক হলেও সত্য যে, আজও সেসব গণতান্ত্রিক চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিবার্চনের মাধ্যমে সরকার পরিবতর্ন হয়। নিবার্চনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। কিন্তু বিগত নিবার্চনে সব দল অংশগ্রহণ করেনি। সাংবিধানিকভাবে বাতিল হওয়া তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চনের দাবীতে নিবার্চন জোট নানা আন্দোলন সংগ্রাম করে এবং শেষ পযর্ন্ত নিবার্চন বজর্ন করে। রাজনীতিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সে সহিংস রাজনীতিতে দেশের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সমাজে নানা বিভেদ তৈরি হয়। দলীয় স্বাথর্ ক্ষমতার লোভে রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয় তখন দেশ-বিদেশে রাষ্ট্রীয় শীষর্ পযাের্য়র ব্যক্তি ও ক‚টনীতিকরা বাংলাদেশ সফর করে বড় দু’দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরিতে দৌড় ঝাপ শুরু করে। কিন্তু শেষ পযর্ন্ত তাদের কোনো চেষ্টায় সফল হয় না। সহিংসতার ভিতর দিয়ে নিবার্চন হয় এবং সে নিবার্চনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। অতীত থেকে বতর্মান পযর্ন্ত দেখা যায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশিদের প্রভাব যা দেশের জন্য শুভ নয়। বতর্মানে বিভিন্ন ক‚টনীতিকরা বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বাংলাদেশে যে কয়টি রাজনৈতিক দল রয়েছে, বিশেষ করে বড় দুই দলের নেতারা যোগ্য ও অভিজ্ঞ তারা এ দেশেরই সন্তান এবং এদেশের মাটিতেই জন্ম। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এ দেশের মাটি ও মানুষের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে কোনো কারণে যদি বড় দুই দলের মধ্যে নিবার্চনকে কেন্দ্র করে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তাহলে নিজেরা বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। রাজনীতিতে বিদেশিদের নাক গলানোর সুযোগ করে দেয়া মোটেই ঠিক নয়। তবে আশা করি, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না।

আওয়ামী লীগ বিএনপি দুদলই আগামী নিবার্চনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তৃণমূল পযাের্য় দলীয় কোন্দল মেটাতে দুদল কাজ করে যাচ্ছে। গত ৭ মে আওয়ামী লীগের সংসদীয় সভার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১১জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগদান করে। সেখানে আগামী নিবার্চন নিয়ে কথা উঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন কঠিন চ্যালেঞ্জের। নিজেকে দায়িত্ব নিয়ে জনগণের ভোটে জিতে আসতে হবে। আসলে জনগণই ক্ষমতার উৎস। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের কথাবাতার্য় সহজে প্রতীয়মান হয় যে, গত নিবার্চন ছিল সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নিবার্চন কিন্তু সে ধরনের কোনো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই কাজের দ্বারা জনগণের মন জয় করে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার কোনো বিকল্প নেই। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, আমার কাছে নিয়মিত জরিপ প্রতিবেদন আসছে। এলাকার কার কি অবস্থা জানি। যার প্রতিবেদন খারাপ, যারা এলাকায় দলাদলি করছেন, দলে বিভক্তি তৈরি করছেন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। যারা বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতা ও জোয়ারে এমপি হয়েছেন তারা জানে না নিবার্চন কত কঠিন। বিগত নিবার্চনে যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সে নিবার্চনে দেড়’শ আসনে সরকারদলীয় জোটে প্রাথীর্রা বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নিবাির্চত হয়েছে যা দেশবাসী তো বটেই প্রধানমন্ত্রীও ভুলে যাননি। সে দিকের প্রতি ইঙ্গিত করে ত্যাগী জনগণের আস্থাভাজন নেতা ছাড়া মনোনয়ন পাবেন না তা স্পষ্ট করেন। তাই আগামী নিবার্চন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবেÑএমনটি আশা করেন দেশবাসী। গত নিবার্চন নিয়ে যতই বিতকর্ থাক, আগামী নিবার্চনকে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নিবার্চন অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা সরকারকে বহন করতে হবে। একই সফঙ্গ সব দলকে দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করতে হবে। নবগঠিত নিবার্চন কমিশনকেও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। কারণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠানের নিবার্চন কমিশনের অতি গুরুত্বপূণর্ ভ‚মিকা রয়েছে। সরকার নিবার্চন কমিশন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সততা, নিরপেক্ষতা, কমর্তৎপরতা আগামী নিবার্চন, অবাধ, সবর্গ্রহণযোগ্য হোক, এটাই দেশবাসীর কামনা।

দেশের রাজনীতির পালে নিবার্চনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সে হাওয়ায় বিএনপি বসে নেই। তারা আগামী নিবার্চনে অংশ নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পযার্য় থেকে চলছে নিবার্চনী মহড়া। কারণ নিবার্চনের বেশি সময় নেই। দেড় বছরের মতো সময় আছে উভয় দলই সাধারণ মানুষের মন কিভাবে জয় করা যায় কিভাবে ভোটারদের আস্থা অজর্ন করা যায় সেসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় শীষর্ পযার্য় থেকে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন কৌশল ও দিক নিদের্শনা। রাজনৈতিক দলগুলোতে নিবার্চনকে কেন্দ্র করে এমন তৎপরতা সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে ভোটের প্রস্তুত হওয়ার তাগাদা। বড় দুটি দলই নিবার্চনে জিততে চায়। নিবার্চনে জয়ের লক্ষ্যে উভয় দলই মরিয়া। দলীয় কোন্দল মেটাতে শাসক দল দায়িত্ব দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। তারা দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দলের মধ্যে একটা পরিচ্ছন্ন ভাবধারা গড়ে তুলে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। বিএনপিও সেই একই পথে হঁাটছে। তবে জাতীয় পাটির্র তোড়জোর তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া অন্যান্য ছোটখাটো দলগুলো কোন জোটে যাওয়া যায়, তা নিয়ে একধরনের চিন্তাভাবনা করছে। দেশের রাজনীতিতে জাতীয় পাটির্ বরাবরই বড় ধরনের ফ্যাক্টর। দলের মহাসচিব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একসময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কিন্তু একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির একটি কথা মানেই নীতিবাক্যের মতো। কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সকালে-বিকালে কথা পরিবতর্ন করেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের রসিকতাও রয়েছে। তবে তিনি কিছুটা মৌজে আছেন। কারণ শেখ হাসিনার অধীনে নিবার্চনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে তার দলই হবে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ। নিবার্চনের পর এরশাদের জাতীয় পাটির্ই হবে প্রধান বিরোধী দল। কিন্তু বিএনপি এবারে ফঁাকা মাঠে গোল দিতে দিবে না। গত নিবার্চনের মতো আগামী নিবার্চনে বিএনপি সে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না। এদিকে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে অরাজনৈতিক সংগঠন নাগরিক ঐক্য ৫ বছর পর রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হলো। রাজনীতিতে পোড়খাওয়া মান্নার নাগরিক ঐক্য শেষ পযর্ন্ত রাজনীতিতে কী চমক সৃষ্টি করে তা দেখতে আরও কিছু সময় লাগবে।

বিভিন্ন বিদেশি, যুক্তরাজ্য একটি অংশগ্রহণমূলক নিবার্চন দেখতে চায়। তারা চায় সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হোক। একটি গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের মধ্য দিয়ে অতীতের বিতকির্ত নিবার্চনের তকমা বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে যাক। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে একটি সুবাতাস বয়ে আসুক, গণতন্ত্র ও জনগণের জয় হোক। লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে