logo
মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

  এমাজউদ্দীন আহমদ   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের জন্য

গণতন্ত্র শুধু এক ধরনের শাসনব্যবস্থা নয়। গণতন্ত্র এক ধরনের নৈতিকতাও। এক ধরনের পরিশীলিত কমর্প্রবাহ। রুচিকর এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য যৌথ উদ্যোগ। পরিচ্ছন্ন ও সচেতন কল্যাণমুখী এক ধরনের কমর্প্রবাহ। গোপনীয়তার জমাটবঁাধা অন্ধকার ছাপিয়ে গণতান্ত্রিক কাযর্ক্রমের সূচনা হয় সবর্সাধারণের সমক্ষে, মুক্ত আলোয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মান অনেক অবনত। পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস পাথরের মতো আটকে রেখেছে সমষ্টিগত জীবনের মহামিলনের উৎসবকে। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বাথের্ অন্ধকারে নিমজ্জিত সামষ্টিক স্বাথের্র চেতনা। পেশির দাপটে নিস্তেজ হয়ে রয়েছে অন্তঃকরণের কল্যাণময়ী প্রত্যয়।

গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের জন্য
একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তো পূবির্নধাির্রত প্রায় প্রতিটি সমাবেশে নৌকার জন্য ভোট চাচ্ছেন তার নিজস্ব ঢঙে। বলছেন, নৌকায় ভোট দিলে তিনি জাতিকে সমৃদ্ধ করবেন। বিএনপির নীতিনিধার্রকরা বলছেন, নিদর্লীয় বা নিরপেক্ষ নিবার্চন সহায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন হলে তারা অবশ্যই নিবার্চনে অংশগ্রহণ করবেন। দলের চেয়ারপারসন ২ জানুয়ারি ইঞ্জিনিয়াসর্ ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা নিবার্চন করব। আমাদের বাইরে রাখা যাবে না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বিএনপি নিবার্চনের দল। আমরা নিবার্চন করব।’ তারপর অবশ্য বেশ ক’মাস চলে গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন এক প্রশ্নবিদ্ধ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে। কিন্তু তিনি বা তার কোনো প্রতিনিধি এখন পযর্ন্ত বলেননিÑ বিএনপি নিবার্চনে অংশগ্রহণ করবে না, যদিও দলটির নেতাকমীর্র বিরাট এক অংশ প্রকৃত অথের্ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করছে না। হাজার হাজার মামলায় জড়িত হয়ে এ আদালত বা ওই আদালতে হাজিরা দিয়েই দিন গুজরান করছে। সভা-সমাবেশ বা মিছিল করার কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। তারপরও তাদের কোনো মহল থেকে উচ্চারিত হয়নিÑ তারা নিবার্চনে অংশগ্রহণ করবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, আগামী সাধারণ নিবার্চন কি কাক্সিক্ষত পযাের্য় সুষ্ঠু, প্রশ্নমুক্ত, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হবে? পারবেন কি ভোটদাতারা তাদের ইচ্ছেমতো প্রাথীের্ক ভোট দিতে? ভোটপ্রাথীর্রা কি পারবেন তাদের নিবার্চকমÐলীর সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ স্থাপন করতে? এমন একটি জাতীয় নিবার্চনের জন্য যে সমতল ভ‚মির প্রয়োজন, তা কি তৈরির উদ্যোগ দৃশ্যমান? কিংবা ক্ষমতাসীন দল কি এ ব্যাপারে আন্তরিক? এসব প্রশ্নের উত্তর সহজে দেয়া বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে খুব সহজ নয়।

১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নিবার্চনের আগে নিবার্চনকালীন সরকার গঠিত হবে।’ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য গঠিত সরকার কেমন হবে? তিনি তার বক্তব্যে দলীয় পযাের্য় সমঝোতার জন্য বিন্দুমাত্র আলোকপাত করেননি। জাতি আশা করেছিল, বড় দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি দলীয় নেতাদের এক টেবিলে বসার আহŸান জানাবেন। কী রকম হবে নিবার্চনকালীন সরকার ব্যবস্থাÑ এ নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেই খুব সম্ভব ভালো হতো। নিবার্চন সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য হলে রাজনীতিকরাই প্রশংসিত হবেন। শুধু দেশের ভেতরে নয়; বিশ্বের সবর্ত্রই। বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ এ মুহ‚তের্ রয়েছে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে। ছোট্ট ভালো কাজটি তাদের চোখে দেখা দেবে উত্তম পদক্ষেপরূপে, একটি অনুকরণীয় উদ্যোগরূপে।

আমাদের সৌভাগ্য, বাংলাদেশের জনগণের কাছে গণতন্ত্রের আবেদন অত্যন্ত আকষর্ণীয়। গণতান্ত্রিক আদশর্ বরাবরই তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সৈনিকরূপে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছে। ত্যাগ স্বীকারও করেছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশীদার হয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যে মুক্তিযুদ্ধ, তার সূচনালগ্নে বাংলাদেশের জনগণ প্রণোদনা লাভ করে পাকিস্তানের বলদপীর্ শাসনকারী এলিটগোষ্ঠী যখন ১৯৭০ সালের সাধারণ নিবার্চনে বিজয়ী পূবর্ পাকিস্তানের আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হওয়ার পথ রুদ্ধ করে। পাশ্চাত্যের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে গণতন্ত্র সফল হয়েছে প্রধানত দুটি কারণেÑ যে সামাজিক উপত্যকায় গণতন্ত্রের সুর ঝংকৃত, তা মোটামুটিভাবে মসৃণ ও সমতল। বৈষম্য, তা সম্পদসৃষ্ট হোক আর জাতিগত বা ধমের্র ভিত্তিতে হোক, ওইসব সমাজে অনতিক্রম্য নয়। নয় অজেয়। আজ যিনি নিধর্ন, আগামীকাল সমাজ প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে তিনিও শীষর্ অবস্থানে যেতে পারেন। জাতি-ধমর্ বা নৃতাত্তি¡ক ভিন্নতা তার অগ্রগতির অভিযাত্রা রুদ্ধ করতে পারে না। তাই সমতল সমাজ ভ‚মিতে নাগরিকদের জীবন হয়ে ওঠে শ্যামল, সমৃদ্ধ, সুষমামÐিত। জাতীয় স্বাথের্ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিকে সুস্থ ও সৃজনশীল করার লক্ষ্যে সংবিধানের ১২৩(৩)-এর খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে অনুরোধ করতে পারেন। ফলে নিবার্চনের ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেমন নিশ্চিত হবে, ঠিক তেমনি দেশের গুরুত্বপূণর্ রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সমন্বয়ে অন্তবর্তীর্কালীন সরকার গঠনও সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপ শুধু বতর্মানের জন্যই নয়; ভবিষ্যতের জন্যও হতে পারে একটি মাইলফলক।

গণতন্ত্র শুধু এক ধরনের শাসনব্যবস্থা নয়। গণতন্ত্র এক ধরনের নৈতিকতাও। এক ধরনের পরিশীলিত কমর্প্রবাহ। রুচিকর এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য যৌথ উদ্যোগ। পরিচ্ছন্ন ও সচেতন কল্যাণমুখী এক ধরনের কমর্প্রবাহ। গোপনীয়তার জমাটবঁাধা অন্ধকার ছাপিয়ে গণতান্ত্রিক কাযর্ক্রমের সূচনা হয় সবর্সাধারণের সমক্ষে, মুক্ত আলোয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মান অনেক অবনত। পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস পাথরের মতো আটকে রেখেছে সমষ্টিগত জীবনের মহামিলনের উৎসবকে। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বাথের্ অন্ধকারে নিমজ্জিত সামষ্টিক স্বাথের্র চেতনা। পেশির দাপটে নিস্তেজ হয়ে রয়েছে অন্তঃকরণের কল্যাণময়ী প্রত্যয়। আবেগের প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে যুক্তিবাদিতার গণমুখী ভাবনা, সৃজনশীলতার সঠিক কলাকৌশল। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের জন্য শুধু একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নিবার্চন কমিশনই যথেষ্ট নয়, যদিও তা অপরিহাযর্। এর কয়েকটি কারণও রয়েছেÑ এক. নিবার্চন কমিশন যতই শক্তিশালী হোক; দেশের প্রায় ১০ কোটি ভোটদাতা এবং ৭০-৮০ হাজার ভোটকেন্দ্র তদারক করার ক্ষমতা এককভাবে নিবার্চন কমিশনের নেই। কমিশনকে দেশের প্রশাসনিক কমর্কতাের্দর সহায়তা গ্রহণ করতেই হবে। সহায়তা গ্রহণ করতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। প্রশাসনিক ব্যবস্থার যে গুণপনা অথার্ৎ নিরপেক্ষতা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বীকৃত; গত কয়েক বছরে তার বৃহৎ অংশ এ দেশে হারিয়ে গেছে। দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থার একটি বৃহৎ অংশ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। দুই. বাংলাদেশে নিবার্চন ভীষণভাবে প্রভাবিত হয় কালো টাকা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে। নিবার্চনে কালো টাকার অনুপ্রবেশ রোধে যেসব প্রতিষ্ঠান দেশে রয়েছে এবং সন্ত্রাস দমনের জন্য যারা কাজ করে চলেছেন, তারা কি সঠিকভাবে তা করতে পারছেন? দেশে নারী ও শিশু নিযার্তনের উচ্চমাত্রার দিকে তাকিয়ে দেখুন। প্রশাসন কত অসহায়। তিন. সাধারণ নিবার্চন পরিচালনার জন্য চাই নিরপেক্ষতার এক আবহ। আর এ আবহ তৈরি করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। যেভাবে রাষ্ট্রপতি নিবার্চন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূণর্ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন; প্রধানমন্ত্রীও দেশে গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের জন্য দেশের প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেন। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সংলাপই হতে পারে সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এই প্রেক্ষাপট ও জাতীয় স্বাথের্, বিশেষ করে গণতন্ত্রের স্বাথের্ প্রধানমন্ত্রী এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। চার. নিবার্চনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দল, বিশেষ করে সবাের্পক্ষা বৃহৎ বিরোধী দল বিএনপির নেতাকমীের্দর বিরুদ্ধে যেসব মামলা সাজানো হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলাও রয়েছে। সাবির্ক প্রয়োজনে এসব রাজনৈতিক মামলা উঠিয়ে নেয়া যায়। তা সম্ভব না হলে নিবার্চন পযর্ন্ত ওইসব মামলা স্থগিত রাখাও যায়। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন হোক দৃষ্টান্তমূলকÑ এটি শুভ বোধসম্পন্ন সবার প্রত্যাশা। এ জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে সবার মিলিত প্রচেষ্টায়, খোলা মনে, উদারভাবে। তবে এ জন্য সরকারকেই পালন করতে হবে মুখ্য ভ‚মিকা। নিবার্চনকালে সমতল ভ‚মি নিমাের্ণর দায় সরকারের। দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত হার-জিতের বিষয়টি মুখ্য নয়। মুখ্য হলো গণতন্ত্রের বিজয়ের বিষয়টি। দেশে গণতন্ত্র বিজয়ী হলে বাকি সবকিছু এমনিতেই সুন্দর ও স্বচ্ছ হবে। পঁাচ. নিবার্চনকালে (নিবার্চনের দিন-সাতেক পূবর্ এবং নিবার্চন শেষ হওয়ার পঁাচ দিন পর পযর্ন্ত) আমাদের সামরিক বাহিনীর কমর্কতার্ ও কমীের্দর উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নিবার্চনকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কেননা, প্রশাসনিক কমর্কতার্ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমর্কতার্-কমর্চারীরা বিগত বছরগুলোতে জনগণের আস্থা হারিয়েছেন অনেক। সামরিক বাহিনীর কমর্কতার্-কমর্চারীদের উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কাযর্কর হতে পারে।

২৩ মাচর্, ২০১৮ জামাির্নর ‘বাটের্লসমান স্টিফটাং’ শীষর্ক এক সমীক্ষক সংস্থার রিপোটের্ বাংলাদেশকে লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া এবং উগান্ডার সঙ্গে ব্র্যাকেটবন্দি করে যেভাবে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা শুধু এ জাতির জন্য দুভার্গ্যজনকই নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনক। কেননা, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে জনগণের সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তার জয়যাত্রা শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিজয়তিলকের আশীবার্দ মাথায় নিয়ে। মাত্র অধর্শতকের মধ্যেই বাংলাদেশকে স্বৈরতন্ত্রের অভিধা লাভ করতে হলো ২০১৪ সালের সাধারণ নিবার্চনের অগ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া, আইনের শাসনের ব্যত্যয় এবং জনগণের অধিকারহীনতার জন্য। এ কলঙ্ক যত তাড়াতাড়ি মুছে ফেলা যায়, আমাদের গৌরববোধ তত দ্রæত উদ্ধার করা সম্ভব। উগান্ডা, নিকারাগুয়া, মোজাম্বিকের সঙ্গে ব্র্যাকেটবন্দি হওয়ার জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয়নি।

লেখক : সাবেক উপাচাযর্, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে