logo
সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫

  মকসুদুজ্জামান লস্কর   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

প্রয়োজন পযার্প্ত তদারকি ও ব্যাংকারদের দক্ষতা বৃদ্ধি

কিছুদিন আগেও ব্যাংকে প্রচুর তারল্য ছিল এবং সুদের হারও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক ডিজিটের মধ্যে নেমে এসেছিল। বাংলাদেশে ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে এপ্রিল, ২০১৮-এ গড় সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে ছিল। কয়েক মাস আগেও বৃহৎ শিল্প খাতে ঋণের গড় সুদের হার জানুয়ারি পযর্ন্ত এক ডিজিটের মধ্যে ছিল। কিন্তু আমানতের ওপর সুদের হার ৫ শতাংশের নিচে আসার কারণে আমানতকারীদের সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকে পড়া, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং ঋণের মাধ্যমে আমদানি ব্যয় পরিশোধের কারণে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় বলে মনে করা যায়।

প্রয়োজন পযার্প্ত তদারকি ও ব্যাংকারদের দক্ষতা বৃদ্ধি
ব্যাংকিং খাতে বহুমাত্রিক জটিলতা বতর্মানের অথর্নীতি বিষয়ক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অথৈর্নতিক চিত্রপটে যে অভাবনীয় ও বিস্ময়কর পরিবতর্ন সাধিত হয়েছে, সেগুলোকে ছাপিয়ে ব্যাংকিং খাতের জটিলতাগুলো আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অকাযর্কর ঋণ, তারল্য সংকট, ব্যাংক ঋণের ওপর সুদের ঊধ্বর্মুখী হার, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং নতুন প্রজন্মের ও সরকারি মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের কারণে বিভিন্ন মহল থেকে এই খাতটি তীব্র আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছে।

সাম্প্র্রতিক সময়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনা, ব্যাংকের জন্য পযার্প্ত তারল্যের সংস্থান তৈরি করা, চাহিদানুযায়ী পযার্প্ত বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা, ঊধ্বর্মুখী অকাযর্কর ঋণের লাগাম টেনে ধরা এবং ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সন্তোষজনক লভ্যাংশের ব্যবস্থা করা ব্যাংকারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাংকে তারল্য এবং আমদানি ব্যয় পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে। মূলত অকাযর্কর ঋণে তারল্য আটকে পড়া, স্বল্প মেয়াদের আমানত দিয়ে দীঘর্ মেয়াদে ঋণ প্রদানের ফলে সৃষ্ট ব্যাংকের সম্পদ দায় ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খল আবহ, অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ নিয়ে আমদানি দেনা স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধের চাপ, মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর আমদানি বৃদ্ধি এবং সরকারি সঞ্চয়পত্রে জনগণের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এসব জটিলতার কারণ বলে অনেকে মনে করে থাকেন।

কিছুদিন আগেও ব্যাংকে প্রচুর তারল্য ছিল এবং সুদের হারও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক ডিজিটের মধ্যে নেমে এসেছিল। বাংলাদেশে ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে এপ্রিল, ২০১৮-এ গড় সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে ছিল। কয়েক মাস আগেও বৃহৎ শিল্প খাতে ঋণের গড় সুদের হার জানুয়ারি পযর্ন্ত এক ডিজিটের মধ্যে ছিল। কিন্তু আমানতের ওপর সুদের হার ৫ শতাংশের নিচে আসার কারণে আমানতকারীদের সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকে পড়া, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং ঋণের মাধ্যমে আমদানি ব্যয় পরিশোধের কারণে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় বলে মনে করা যায়। এর মাঝে ব্যাংক খাতের জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু সুবিধা প্রদানের ঘোষণা প্রদান করে। যেমন আমানত ও ঋণ অনুপাতের হার কমিয়ে আনা, বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি অথর্ জমা রাখার সীমা দ্বিগুণ করা, কপোের্রট কর হার আড়াই শতাংশ কমিয়ে দেয়া এবং বিপযর্স্ত ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সরবরাহ করা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ঋণের ওপর সুদের হার জুলাই মাস থেকে সবোর্চ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতের ওপর সুদের হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। জুলাই মাস শুরু হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো সুদের হার হ্রাসে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে চটজলদি সুদের হার হ্রাস করা সম্ভব হবে, এমন ধারণা করা যায় না। ব্যাংকগুলো বিদ্যমান ঋণ ও আমানতের সুদের হার ইচ্ছা করলেই বোতাম টিপে কমিয়ে আনতে পারে না। ব্যাংকের বেশিরভাগ আমানত তিন থেকে ছয় মাসমেয়াদি। মেয়াদ পূণর্ না হলে বিদ্যমান আমানতের সুদের হার কমানো গ্রাহক ব্যাংকার চুক্তির বরখেলাপ হবে। আর তাই কমপক্ষে তিন মাস পরে ব্যাংকগুলো কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বা এর প্রভাব কী হয়, তার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার না কমিয়ে ঋণের ওপর সুদের হার কমানো ব্যাংকের জন্য আত্মঘাতী হবে। কেননা দিন শেষে ব্যাংকের মুনাফার ওপর তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আর তাই আমাদের প্রকৃত অবস্থা কী হয় তা জানার জন্য আরও তিন থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে।

বতর্মান মুক্তবাজার অথর্নীতিতে সুদের হার নিভর্র করে বাজারের গতিবিধির ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক আগেই কয়েকটি খাত ছাড়া সুদের হার নিধার্রণের ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এখন ব্যাংক সবোর্চ্চ সুদের হার ঘোষণা করে থাকে। তবে ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পকের্র ভিত্তিতে এই হারে তারতম্য দেখা যায়। আমানতের ক্ষেত্রে গ্রাহক ভিত্তিতে সুদের হারে হেরফের হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা নিরুৎসাহিত করে থাকে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস সুদের হার নিধার্রণ করার এখতিয়ার রাখে না। সুদের হার নিধার্রণের দায়িত্ব প্রতিটি ব্যাংকের। প্রতিটি ব্যাংক তাদের নিজস্ব বিবেচনায় ও প্রক্রিয়ায় সুদের হার নিধার্রণ করবে। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস যেহেতু ব্যাংক মালিকদের একটি সংগঠন, তাই তাদের সিদ্ধান্তের একটা গুরুত্ব রয়েছে। তবে বতর্মান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষিত সুদের হার কাযর্কর করা সাধারণ অথের্ কঠিন বৈকি। সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে বাজারে ক্রিয়াশীল আরও কিছু বাস্তবতাকে আমলে আনা প্রয়োজন। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যৌক্তিক করা হলে তা বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের অথর্ ব্যাংকে জমা রাখার ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি সুদ গ্রহণ না করে তাহলে বাজারে এর একটা ভালো প্রভাব পড়বে। তারপর রয়েছে বাজারে অথের্র চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেয়া। অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় বৈদেশিক সূত্র থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্প সুদে ও স্বল্প মেয়াদে ঋণ নিয়ে আমদানি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং মেয়াদান্তে এগুলোর পরিশোধ শুরু হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ার কারণ হিসেবে মনে করা যায়। আবার এসব ঋণের বিপরীতে পুনবার্র স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ প্রদানের কারণে অথের্র চাহিদা বেড়েছে কিনা, সেটাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ নিয়ে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির বতর্মান পদ্ধতিটি সংকুচিত না করে এর ঝুঁকিগুলো নিণর্য় করে একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন ও নজরদারির আওতায় আনলে বৈদেশিক বাণিজ্য ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা শৃঙ্খলা আসবে বলে ধারণা করা যায়। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক রফতানিমমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্প সুদে প্রদত্ত এক্সপোটর্ ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)-এর সীমা ও পরিমাণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রার চাহিদার ওপর চাপ কমানো যায়। তবে ইডিএফ-এর ঋণ পরিশোধ যেন ঋণগ্রহীতার রফতানি আয় থেকে করা হয়, এই বিষয়ে নজরদারি থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে রফতানি আয় থেকে আমদানি মূল্য পরিশোধের শতের্ শূন্য শুল্কে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির সুবিধা। রফতানি ব্যথর্তার কারণে আমদানি মূল্য স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ সৃষ্টি করে তা পরিশোধ করার একটা প্রবণতা রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, তৈরি পোশাক খাতে ঋণখেলাপির প্রবণতা বেশি। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী মোট খেলাপি ঋণের ১২.৬০ শতাংশ ছিল তৈরি পোশাক খাতের। একই সময়ে ব্যাংকিং খাতে প্রদত্ত মোট ঋণে পোশাক খাতের অংশীদারিত্ব ছিল ১১.৩০ শতাংশ। রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে রফতানি ব্যথর্তার কারণে রফতানি আয় থেকে না করে স্থানীয় মুদ্রায় যেসব ঋণ সৃষ্টি করে আমদানি দায় পরিশোধ করা হয়, তার বেশিরভাগই পরে খেলাপিতে পরিণত হয় বলে অনেকে বলে থাকেন। আর তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন সতকর্ হলে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিগত জুলাই-এপ্রিল (২০১৭-২০১৮) সময়ে আমদানি ঋণপত্র খোলার পরিমাণ প্রায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা এ যাবৎকালের মাঝে সবোর্চ্চ এবং এর মধ্যে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি ঋণপত্র বৃদ্ধি পায় প্রায় ৩০ শতাংশ। একই সময়ে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬.৬৬ শতাংশ। রফতানি ও আমদানি বৃদ্ধির হারে ভারসাম্য না থাকার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মূলধনী যন্ত্রপাতির একটা বড় অংশ সরবরাহকারীর ঋণে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের বতর্মান বিধান অনুযায়ী সরবরাহকারীর ঋণের মেয়াদ এক বছরের বেশি হতে পারে না। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের আমদানির জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে উদ্যোক্তারা একদিকে যেমন স্বল্প সুদে সরবরাহকারীর ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারত, অন্যদিকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ গ্রহণের চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো। বতর্মান বছরে অস্বাভাবিক পরিমাণে ঋণপত্র খোলার কারণে এগুলোর নিষ্পত্তিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর এবং তারল্যের ওপর সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সামনে ঋণপত্র খোলার হার স্বাভাবিক পযাের্য় নেমে এলে বতর্মান সংকট নাও থাকতে পারে।

ব্যাংকারদের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূণর্। যেমন অকাযর্কর ঋণ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং শূন্য ও স্বল্প খরচের আমানত সংগ্রহ করে তারল্য বৃদ্ধি করা এবং ব্যাংকের জন্য ব্যবসা ও গ্রাহক বাড়ানো। গুরুত্বপ‚ণর্ এসব বিষয়কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। অকাযর্কর ঋণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বিষয়গুলোকে নিদির্ষ্ট করা প্রয়োজন। সব অকাযর্কর ঋণ একই ধরনের পদ্ধতিতে, অভিন্ন কৌশলে বা একই সময়সীমার মধ্যে আদায় সম্ভব হবে এমনটা নয়। কিছুটা নিবিড় তদারকি ও যোগাযোগ, অবিরাম আলোচনার মাধ্যমে আবার কিছুটা বিধিসম্মত সুযোগ ও সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এবং সবোর্পরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অকাযর্কর ঋণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সন্তোষজনক ফলাফল আশা করা যায়। ঋণটি অকাযর্কর হওয়ার কারণ সম্পকের্ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কমর্কতার্র বিশ্লেষণাত্মক ও তথ্যবহুল ধারণা থাকা প্রয়োজন। ঋণের অথর্ অন্যত্র স্থানান্তর, ঋণের অথর্ ব্যবহারে ঋণগ্রহীতার অদক্ষতা কিংবা অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে ব্যবসায়ে ব্যথর্তা, ব্যবস্থাপনায় ঋণগ্রহীতার অমনোযোগিতা বা গাফিলতির কারণে ক্ষতি, বাজারের অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতার কারণে ক্ষতি, ক্রেতাদের কাছে বকেয়া আদায়ে ব্যথর্তা কিংবা দেশের রাজনৈতিক বা অথৈর্নতিক কারণে ব্যবসায়ে মন্দা, ঋণগ্রহীতার নৈতিক স্খলনের কারণে অথর্ অপচয় ইত্যাদি। এ তথ্যগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে একজন ব্যাংকার ঋণটি খেলাপি হওয়ার কারণ এবং ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা, তার নিট তারল্যের অবস্থা, ব্যবসার ক্যাশ ফ্লো থেকে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা যাচাই করা, ঋণগ্রহীতার বিকল্প আয়ের উৎসের সন্ধান করা, সবোর্পরি ব্যাংকের কাছে জামানত হিসেবে বন্ধকীকৃত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অবস্থান, সঠিকতা ও ব্যাংকের অনুক‚লে নেয়ার জন্য ব্যাংকের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে নিশ্চিতের বিষয়টি অনুসন্ধান করার মাধ্যমে ব্যাংকার তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে একটি অকাযর্কর ঋণ আদায়ের বিষয়ে ব্যাংক কোনো ধরনের কৌশল ও পদ্ধতি গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে।

অনেক ব্যাংক ঋণটি অকাযর্কর হওয়ার পর তা আদায়ে যতটা মনোনিবেশ করে থাকে ঋণ প্রদানের পর এই ঋণের এবং ঋণের উদ্যোক্তার গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখার ওপর তেমন একটা গুরুত্ব প্রদান করে না। ঋণ প্রদানের পর থেকেই যদি ঋণের গতিবিধি, গ্রাহকের ব্যবসা ও হাবভাব সম্পকের্ নজরদারি ও তদারকি করা হয়, তাহলে ঋণটি অকাযর্কর হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যাবে। বাংলাদেশের ২০১৬-এর তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২২ শতাংশ খেলাপি ঋণ বাণিজ্যিক ঋণ খাতের। এই ঋণগুলোর মাঝে ব্যবসায় চলতি মূলধন এবং আমদানি-উত্তর ঋণ প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। এ ধরনের ঋণে পযার্প্ত তদারকির ব্যবস্থা থাকলে খেলাপির হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আমদানি পণ্যের বিপরীতে ঋণ প্রদান করা হলো; কিন্তু ঋণগ্রহীতা পণ্যের বিক্রীত মূল্য পরিশোধ না করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। এ ধরনের কমর্কাÐ প্রতিরোধে কঠোর আইনি বিধান থাকা প্রয়োজন।

সামনে ব্যাংক খাতের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব অংশীজনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যাংকারদের আরও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতাপ্রসূত জ্ঞান পেশাগত কাজে সবোর্ত্তম উপায়ে প্রয়োগ করা।

লেখক : ব্যাংকার; অথর্নীতি, ব্যাংকিং ও উন্নয়নবিষয়ক লেখক

ষধংশধৎফযধশধ@ুধযড়ড়.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে