logo
সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫

  রেজাউল কারিম   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

দেশের তফসিলি ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাযর্ক্রম উপেক্ষিত

দেশে কাযর্রত তফসিলী ব্যাংকসমূহ কতৃর্ক তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে সিএসআর খাতে ব্যয়ের পরিমাণ সবের্মাট টাকা ৪১৭.৭৭ মাত্র। এই সিএসআর ব্যয়ের মধ্যে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা খাতে সবোর্চ্চ টাকা ২৩৫.৩৬ কোটি বা ৫৬.৩৪% ব্যয় করা হয়েছে। তফসিলি ব্যাংকসমূহের বিবরণী পযাের্লাচনান্তে দেখা যায় যে, উক্ত সময়ে মূলত দেশে স্মরণকালের তীব্র শীত বিরাজমান থাকায় শীতাতর্ জনগণের কষ্ট নিবারণের উদ্দেশ্যে নিজস্ব উদ্যোগে বা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণের লক্ষ্যে অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্যে এ খাতে সিএসআর ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের তফসিলি ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান  সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাযর্ক্রম উপেক্ষিত
দেশের তফসিলি ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর শত শত কোটি মুনাফা অজর্ন করলেও সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাযর্ক্রম বা করপোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) সুবিধা থেকে অনেক খাত উপেক্ষিত। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূণর্ খাতে সরকারি বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের চিত্র হতাশাব্যাঞ্জক।

সিএসআর কাযর্ক্রমে ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠানের আথির্ক বরাদ্দের পরিমাণ প্রতি বছর বাড়ছে। গত কয়েক বছরে বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে সিএসআর কাযর্ক্রম উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু পদক্ষেপের কারণে ব্যাংকসমূহে সিএসআর কাযর্ক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত অগ্রগতিও সাধিত হয়েছে। তবে ব্যয়ের গুণগত মানের বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য খাত, দুযোর্গকবলিত এলাকার পুনবার্সন ও শিক্ষাখাতে বেশি ব্যয় করেছে। ক্রিয়া ও সংস্কৃতি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যয় করছে। তবে আয়বধর্ক বা আয় উৎসারী খাতে সিএসআর খাতে ব্যয় নগণ্য। দেশের অনেক লোক এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এসব দরিদ্রের নিজের উদ্যোগে কোনো আয়বধর্ক কাজ করা সামথর্্য নেই। যেহেতু তাদের আথির্ক সক্ষমতা নেই। সরকারের ভিশন ২০২১ সফল করতে ও দেশের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অন্যান্য খাতের পাশাপাশি সমাজের আথির্কভাবে অসচ্ছল লোকদের আয় উৎসারী কাজে সিএসআর বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিষয়ে আরও নজর দেয়া উচিত।

ব্যাংকিং খাতের সিএসআর ব্যয়ের চিত্র :

দেশে কাযর্রত তফসিলী ব্যাংকসমূহ কতৃর্ক তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে সিএসআর খাতে ব্যয়ের পরিমাণ সবের্মাট টাকা ৪১৭.৭৭ মাত্র। এই সিএসআর ব্যয়ের মধ্যে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা খাতে সবোর্চ্চ টাকা ২৩৫.৩৬ কোটি বা ৫৬.৩৪% ব্যয় করা হয়েছে। তফসিলী ব্যাংকসমূহের বিবরণী পযাের্লাচনান্তে দেখা যায় যে, উক্ত সময়ে মূলত দেশে স্মরণকালের তীব্র শীত বিরাজমান থাকায় শীতাতর্ জনগণের কষ্ট নিবারণের উদ্দেশ্যে নিজস্ব উদ্যোগে বা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণের লক্ষ্যে অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্যে এ খাতে সিএসআর ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া উত্তরাঞ্চলের বন্যাদুগর্ত অঞ্চলে সহায়তা ও রোহিঙ্গা শরণাথীের্দর জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান করায় উক্ত ষান্মাসিকে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা খাতে সিএসআর ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচ্য ছিল। আলোচ্য ষান্মাসিকে তফসিলী ব্যাংকসমূহের সিএসআর খাতে দ্বিতীয় সবোর্চ্চ ব্যয় ছিল শিক্ষাখাতে টাকা ৭৬.০৮ কোটি বা ১৮.২১%। এ ছাড়াও ব্যাংকসমূহের সিএসআর খাতে উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ব্যয়ের খাতসমূহের মধ্যে ছিল অন্যান্য (ঙঃযবৎং) খাতে টাকা ৬১.৩৩ কোটি (১৪.৬৮%), স্বাস্থ্য খাতে টাকা ২২.৭৭ কোটি (৫.৪৫%), সংস্কৃতি খাতে টাকা ১৩.৮৬ কোটি (৩.৩২%) এবং পরিবেশবান্ধব খাতে টাকা ৬.৮৩ কোটি (১.৬৩%)। আলোচ্য সময়ে তফসিলী ব্যাংকসমূহের সিএসআর খাতে ব্যয়ের মধ্যে অনুল্লেখযোগ্য ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে টাকা ১.২২ কোটি (০.২৯%) এবং আয়বধর্ক কমর্সূচিতে টাকা ০.৩২ কোটি (০.০৮%)।

সিএসআর ব্যয়বিহীন/অনুল্লেখযোগ্য সিএসআর সংশ্লিষ্ট তফসিলী ব্যাংকসমূহ : দেশে কাযর্রত তফসিলী ব্যাংকগুলোর মধ্যে জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে মোট ০৭(সাত)টি ব্যাংক (অগ্রণী ব্যাংক লি:, রূপালী ব্যাংক লি:, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লি:, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লি: এবং সীমান্ত ব্যাংক লি:), করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কাযর্ক্রমের আওতায় সিএসআর খাতে কোনোরূপ ব্যয় করেনি। অপরদিকে এ ষান্মাসিকে জনতা ব্যাংক লি:, বেসিক ব্যাংক লি:, বাংলাদেশ কমাসর্ ব্যাংক লি:, ব্যাংক আল-ফালাহ লি:, কমাশির্য়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি, হাবিব ব্যাংক লি:, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরী ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল অতি নগণ্য।

শিক্ষাখাতে ব্যাংকসমূহের সিএসআর ব্যয়ের হার : জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে দেশের ৫৭টি তফসিলী ব্যাংকের মধ্যে মোট ২৬টি ব্যাংক শিক্ষাখাতে নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ০%-৫% ব্যয় করেছে, তার মধ্যে ১৫টি ব্যাংক এ খাতে কোনোরূপ ব্যয় করেনি। তা ছাড়া ১০টি ব্যাংক নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ৬%-১০%, ০২টি করে ব্যাংক সিএসআর ব্যয়ের যথা মে ১১%-১৫% ও ১৬%-২০%, ০৪টি ব্যাংক নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ২১%-২৫% এবং ০৩টি ব্যাংক সিএসআর ব্যয়ের ২৬%-৩০% শিক্ষা খাতে ব্যয় করেছে। অপরদিকে সিএসআর ব্যয়ের জন্য নিধাির্রত ০৮টি খাতের মধ্যে শিক্ষাখাতে ১০টি ব্যাংক তাদের নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ৩০% এর অধিক ব্যয় করেছে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকসমূহের সিএসআর ব্যয়ের হার : জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে দেশের ৫৭টি তফসিলী ব্যাংকের মধ্যে মোট ৪৩টি ব্যাংক তাদের নিজ সিএসআর ব্যয়ের ০%-৫% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে, যার মধ্যে ১৯টি ব্যাংক এ খাতে কোনোরূপ অথর্ ব্যয় করেনি। তা ছাড়া ০৫টি ব্যাংক তাদের নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ৬%-১০%, ০১টি করে ব্যাংক সিএসআর ব্যয়ের যথা মে ১১%-১৫% ও ১৬%-২০% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে। অপরদিকে সিএসআর ব্যয়ের জন্য নিধাির্রত ০৮টি খাতের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ০৭টি ব্যাংক তাদের নিজ সিএসআর ব্যয়ের ২০% এর অধিক ব্যয় করেছে।

জলবায়ু ঝটুকি তহবিল খাতে তফসিলী ব্যাংকসমূহের সিএসআর ব্যয়ের হার : দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ এ দুটি খাত মূলত জলবায়ু ঝটুকি তহবিল সংশ্লিষ্ট। জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মোট ১৬টি ব্যাংকের জলবায়ু ঝটুকি তহবিল খাতে সিএসআর ব্যয় তাদের নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ০%-১০%, তার মধ্যে ১৩টি ব্যাংক এ খাতে কোনোরূপ অথর্ ব্যয় করেনি। অপরদিকে ৪১টি ব্যাংক এ খাতে নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ১০% এর অধিক ব্যয় করেছে।

আথির্ক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর ব্যয়ের চিত্র

জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে সিএসআর খাতে মোট ২.৬৬ কোটি (টাকা দুই কোটি ছেষট্টি লক্ষ মাত্র) ব্যয় করেছে। উক্ত সময়ে আথির্ক প্রতিষ্ঠানসমূহ শিক্ষা খাতে সবোর্চ্চ টাকা ০.৫৮ কোটি (২১.৮১%) এবং দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা খাতে দ্বিতীয় সবোর্চ্চ টাকা ০.৫৪ কোটি (২০.৩০%) সিএসআর বাবদ ব্যয় করেছে। তাছাড়া অন্যান্য খাতের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টাকা ০.৪৯ কোটি (১৮.৪২%), অন্যান্য খাতে (ঙঃযবৎং) টাকা ০.৪৪ কোটি (১৬.৫৪%) এবং পরিবেশবান্ধব খাতে টাকা ০.২২ কোটি (৮.২৭%) সিএসআর বাবদ ব্যয় করা হয়েছে। অপরদিকে আথির্ক প্রতিষ্ঠানসমূহ কতৃর্ক খুবই স্বল্প পরিমাণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে টাকা ০.১৭ কোটি (৬.৩৯%), সংস্কৃতি খাতে টাকা ০.১৫ কোটি (৫.৬৪%) এবং আয়বধর্ক কমর্সূচিতে টাকা ০.০৭ কোটি (২.৬৩%) সিএসআর বাবদ ব্যয় করা হয়েছে।

শিক্ষাখাতে আথির্ক প্রতিষ্ঠানসমূহের সিএসআর ব্যয়ের হার: জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিক ভিত্তিতে ৩৩টি আথির্ক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি আথির্ক প্রতিষ্ঠান শিক্ষাখাতে কোনোরূপ ব্যয় করেনি। অপরদিকে ০৪টি আথির্ক প্রতিষ্ঠান নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ৫%-৩০% শিক্ষা খাতে ব্যয় করেছে। তা ছাড়া ০৬টি আথির্ক প্রতিষ্ঠান নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ৩০% এর অধিক শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছে।

স্বাস্থ্যখাতে আথির্ক প্রতিষ্ঠানসমূহের সিএসআর ব্যয়ের হার: জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে ৩৩টি আথির্ক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টি আথির্ক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যখাতে সিএসআর বাবদ কোনোরূপ অথর্ ব্যয় করেনি। একই সময়ে উক্ত খাতে অপর ০৮টি আথির্ক প্রতিষ্ঠানের সিএসএর ব্যয় তাদের নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ২০% এর অধিক।

জলবায়ু ঝটুকি তহবিল খাতে আথির্ক প্রতিষ্ঠানসমূহের সিএসআর ব্যয়ের হার :

দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ এ দুটি খাত মূলত জলবায়ু ঝটুকি তহবিলসংশ্লিষ্ট খাত। জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৭ ষান্মাসিকে দেশের ৩৩টি আথির্ক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি আথির্ক প্রতিষ্ঠান এ খাতে কোনোরূপ অথর্ ব্যয় করেনি। তবে ১৩টি আথির্ক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ মোট সিএসআর ব্যয়ের ১০% এর বেশি জলবায়ু ঝটুকি তহবিল খাতে ব্যয় করেছে।

দেশে সিএসআর তহবিলের অথর্ অপব্যবহার কথাও জোরেশোরে শোনা গেছে। অথর্মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজে একবার অভিযোগ করেছিলেন, দেশে সিএসআর অথর্ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০১৪ সালে সিএসআর অথর্ অপব্যবহারের কারণে রাষ্ট্রীয় খাতের কয়েকটি ব্যাংকের সিএসআর কাযর্ক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরিশেষে বলা যায়, দেশে সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাযর্ক্রম নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। নীতিমালায় প্রণয়নের সময় সমাজের আয়বধর্ক খাতগুলো অন্তভুর্ক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা এবং শুধু নিধাির্রত খাত নয়, সিএসআর বরাদ্দ বিকেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত।

(সিএসআর ব্যয়ের তথ্য : বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রকাশনা থেকে নেয়া হয়েছে)।

লেখক : সাংবাদিক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে