logo
সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

একান্ত সাক্ষাৎকারে রূপালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান

আমানত বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ

প্রভাব অবশ্যই পড়ছে। কারণ সরকারি ডিপোজিট (আমানত) আমরা কোনো ধরনের ‘পারসু’ ছাড়াই পেয়ে যেতাম। এখন কিন্তু সেটা হচ্ছে না। এতে করে আমাদের ডিপোজিটের ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের বেশি জোর দিতে হচ্ছে বাইরের আমানতের জন্য। এক কথায় বলতে গেলে আমরা কিছুটা চাপে পড়েছি। সেটা ওভারকাম করার জন্য নতুন কমের্কৗশল নিধার্রণ করতে হচ্ছে। মাচের্র পর থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পযর্ন্ত ডিপোজিট কমেছে। কিন্তু আমরা সেটা কাভার করেছি। তবে বেসরকারি ব্যাংকের ‘পারসু’ করার ক্ষমতা যেহেতু আমাদের থেকে বেশি সে কারণে তারা আমাদের থেকে সুবিধা বেশি পাবে।

আমানত বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ
মো. আতাউর রহমান প্রধান। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করছেন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নিবার্হী কমর্কতার্ (সিইও) হিসেবে। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। আতাউর রহমান ১৯৮৪ সালে অথৈর্নতিক বিশ্লেষক হিসেবে সোনালী ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি সোনালী ব্যাংক ইউকের প্রধান নিবার্হী হিসেবে তিন বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন। রূপালী ব্যাংক ও দেশের ব্যাংকিং খাতের গতিপথ নিয়ে সম্প্র্রতি কথা বলেন

যায়যায়দিনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র

স্টাফ রিপোটার্র আহমেদ তোফায়েল ।

যাযাদি: সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখার সিদ্ধান্ত কাযর্কর শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আপনাদের আমানতের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়ছে?

আতাউর রহমান : প্রভাব অবশ্যই পড়ছে। কারণ সরকারি ডিপোজিট (আমানত) আমরা কোনো ধরনের ‘পারসু’ ছাড়াই পেয়ে যেতাম। এখন কিন্তু সেটা হচ্ছে না। এতে করে আমাদের ডিপোজিটের ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের বেশি জোর দিতে হচ্ছে বাইরের আমানতের জন্য। এক কথায় বলতে গেলে আমরা কিছুটা চাপে পড়েছি। সেটা ওভারকাম করার জন্য নতুন কমের্কৗশল নিধার্রণ করতে হচ্ছে। মাচের্র পর থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পযর্ন্ত ডিপোজিট কমেছে। কিন্তু আমরা সেটা কাভার করেছি। তবে বেসরকারি ব্যাংকের ‘পারসু’ করার ক্ষমতা যেহেতু আমাদের থেকে বেশি সে কারণে তারা আমাদের থেকে সুবিধা বেশি পাবে। এখনো হয়তো আমার কাছ থেকে সরকারি ডিপোজিটের ৫০ শতাংশ যায়নি, তবে যেতে সময় লাগবে না। এর কারণে প্রভাব একটা আছে। এর মোকাবেলাই আমরা নতুন কমের্কৗশল নিধার্রণ করেছি। নতুন নতুন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছি। আমরা যেহেতু ল্যান্ডিং বাড়িয়েছি সেই কারণে ডিপোজিট যাতে বাড়ানো যায় তার জন্য প্রত্যেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের প্রেসার দেয়া হচ্ছে। ডোর টু ডোর যাওয়ার জন্য, নতুন হিসাব খোলার জন্য বলা হচ্ছে।

যাযাদি : এসব উদ্যোগে সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

আতাউর রহমান : ভালো সাড়া পাচ্ছি। ইতিমধ্যে নতুন কিছু প্রোডাক্ট লঞ্চ করেছি। যেমন সিনিয়র সিটিজেন বিশেষ করে যাদের বয়স ৬০ বা এর উপরে তাদের জন্য বিশেষ রেট দিয়ে ডিপোজিট করার ব্যবস্থা করেছি। মিলিনিয়ার একটা স্কিম করেছি। যারা লাখপতি হতে চাই তাদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে স্কিম চালু করেছি। এ ছাড়া ডাবল বেনিফিট স্কিম চালু করেছি। নানাভাবে ডিপোজিট ফ্লো ঠিক রাখার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

যাযাদি : বতর্মানে আমানত সংগ্রহের প্রতিযোগিতাকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলা হচ্ছে। আপনি কী বলেন?

আতাউর রহমান : আমি অসুস্থ বলব না। অসুস্থ বলব তখন, যখন অনৈতিক কোনো এপ্রোস থাকে। ডিপোজিটের জন্য একটি শ্লট আছে। এটা বিভিন্ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে এক-দুই পাসের্ন্ট কম বেশি আছে। এখন সেখানে কেউ যদি অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে আমানত সংগ্রহ করতে চাই তাহলে সেটি হবে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কিন্তু আমার কাছে এখনো দৃশ্যমান হয়নি যে, কেউ এরকম করছে। তবে গোপনে হয়ে থাকলে আলাদা কথা। অনেকেই হয়তো আগ্রাসী হতে পারে। কিন্তু অনৈতিক কোনো চেষ্টা দৃশ্যমান হয়নি।

যাযাদি : ডিপোজিট আনার বিষয়ে দেখা যাচ্ছে, যারা একাজ করার কথা নয় তাদেরও ব্যাংক চাপ দিচ্ছে। আপনার ব্যাংকেও কি এমন চাপ আছে?

আতাউর রহমান : এটা কম-বেশি সব ব্যাংকেই আছে। আগে আমাদের ব্যাংকে ছিল না। কারণ অটোমেটিক কিছু ডিপোজিট আমাদের থাকে। এখন আমরা বুঝতে পারছি প্রত্যেক কমর্কতার্ কমর্চারীকে ডিপোজিট আনার জন্য লক্ষ্য নিধার্রণ করে দেয়া জরুরি। যার যার লেবেল থেকে তার ক্ষমতা অনুযায়ী সে ডিপোজিট আনবে।

যাযাদি: রূপালী ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল হেলথ কেমন?

আতাউর রহমান : ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সালে ফিন্যান্সিয়াল হেলথ খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমরা ১০০ কোটি টাকা লস কাটিয়ে ৫০০ কোটি টাকার বেশি লাভ করেছি। আর ২০১৭-১৮ সালের মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি। তবে ২০১৭ সালের মাচর্ থেকে ২০১৮ সালের মাচের্ ডিপোজিট একটু নিম্নমুখী আছে। ঋণ আদায়ও কিছুটা নিম্নমুখী আছে। তবে সাধারণত আদায় প্রক্রিয়া জোরদার হয় সেপ্টেম্বর থেকে। আমরা আশাবাদী ২০১৭ সালে যা করেছি ২০১৮ সালে তার থেকে ভালো করব। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা।

যাযাদি : চলতি বছরের প্রথমাধের্ (জানুয়ারি-জুন) দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকেরই পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। কিন্তু রূপালীর কমেছে।

আতাউর রহমান : এ সময়ে ৯১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছে রূপালী ব্যাংক। ২০১৭ সালের প্রথমাধের্ ২০৮ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফায় ছিল। তবে পরিচালন মুনাফা কিছুটা কমলেও অন্যান্য সূচকে ভালো করেছে রূপালী ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথমাধের্ লোকসানি শাখার পরিমাণ ৫৪ থেকে কমে ২৭টিতে নেমেছে। বছরের প্রথমাধের্ ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত ও ৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বেড়েছে। আশা করছি, বছর শেষে আমরা ভালো মুনাফা করতে পারব।

যাযাদি : আপনার সাক্ষাৎকার আপনার শেয়ারহোল্ডারা পড়বেন। ব্যাংক হিসেবে রূপালীর শক্তি ও দুবর্লতার জায়গাগুলো শেয়ার করবেন?

আতাউর রহমান : রূপালী ব্যাংকের সব থেকে বড় শক্তি হচ্ছে এটা সরকারি ব্যাংক। সিকিউরিটির দিক থেকে যে কোনো প্রাইভেট ব্যাংকের তুলনায় এটি অনেক বেশি নিভর্রশীল। কারণ এখানে সরকারের অংশীদারীত্ব রয়েছে। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে অটোমেশনের দিক থেকে আমরা এগিয়ে আছি। ৫৬৩টি শাখা এখন অটোমেশনের আওতায়। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে আছি। রূপালী ব্যাংক ছোট হলেও সরকারি ব্যাংকের মধ্যে গ্রাহকসংখ্যা সব থেকে বেশি। আমাদের এখন দেড় কোটি গ্রাহক। এগুলো সক্ষমতার জায়গা। রূপালী ব্যাংকের বিগত দিনের যে ক্ষতি ছিল সেটি কাটিয়ে এখন ভালো একটি জায়গায় এসেছি। ঘুরে দঁাড়ানোর একটি জায়গায় এসেছি। এটা ধরে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি ২০১৮ সালে আরও ভালো করব। ব্যবস্থাপনায় যারা কাজ করছেন তারা অত্যন্ত দক্ষ। সবোর্পরি এখন আমাদের পরিচালনা বোডর্ ফুল সাপোটর্ দিচ্ছে ম্যানেজমেন্টকে। বোডের্র সাপোটর্, ম্যানেজমেন্টের কাজের আগ্রহ, নতুন নতুন প্রডাক্ট লঞ্চিং, ঋণ আদায়ে গুরুত্ব, এসএমই ঋণ বাড়ানো, এডি রেশিও বিগত বছরগুলোতে ৫০ শতাংশের নিচে ছিল এখন সেটি ৭০ শতাংশের বেশি। এই বিষয়গুলো হিসেবে আনলে রূপালী ব্যাংকের সামনে এগোনোর জন্য ভালো পথ তৈরি হয়েছে।

আর দুবর্র্লতার জায়গা যদি বলি, এ বছর হিসাব করে আমাদের এগোতে হবে, এটি নিবার্চনের বছর। হঠাৎ করে সরকারের সিদ্ধান্তে ৫০ শতাংশ ডিপোজিটের সংকট তৈরি হলো তার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। আর তেমন কোনো খারাপ কিছু দেখি না। এগোনোর পথে বড় কোনো বাধা নেই। আরেকটা হলো নন-পারফারমিং লোন, এটা কম বেশি সব ব্যাংকেই আছে। আমরা জন্মসূত্রে এটা পেয়েছি। এটা কমানোর জন্য চেষ্টা করছি। তবে এখনো এটি ডাবল ডিজিটে রয়েছে। এটা কমিয়ে না আনা পযর্ন্ত এই জায়গাতে আমরা দুবর্ল। যত দিন এটা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনতে পারছি ততদিন পযর্ন্ত এখানে আমাদের নাসির্ং করতে হবে।

যাযাদি : ঋণের রিকোভারি করতে পারছেন?

আতাউর রহমান : এটা ঠিক, রিকোভারি একটা দুবর্লতা। এটা সংস্কৃতির বিষয়। আপনি ঋণ নিবেন পরিশোধ করবেন। এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আমরা যখন ঋণ দিই সেটা এককভাবে দিই। কিন্তু আদায়ের সময় বিভিন্ন বডি জড়িত হয়ে যায়। সাধারণত ঋণ ফেরত না দিলে থানা পুলিশ কোটর্ আরো অনেক পক্ষ জড়িত হয়। আমাদের সীমাবদ্ধতা হলো আমরা যখন কোটের্ যাই তখন কোটের্র দীঘর্সূত্রতায় আটকে যাই। গ্রাহক রিট করলে দীঘির্দন এর সমাধান হয় না। সব থেকে বড় বিষয় হলো সংস্কৃতিই এমন।

যাযাদি : এর থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

আতাউর রহমান : আমরা আইনগত বিষয়গুলোকে নতুন করে ক্ষতিয়ে দেখার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে বলেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকও চিন্তা করছে। তারা ভাবছে আইনগত কিছু পরিবতর্ন করা দরকার। পাশাপাশি আমাদের যে টিম কাজ করছে খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়ে তাদের আরও দক্ষ করছি। পাশাপাশি বোডের্র সদস্যরাও এখন খেলাপি ঋণ গ্রহিতাদের ডাকছেন। প্রতি মাসে আমাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক হয় সেখানে টপ ২০ খেলাপি ঋণ গ্রহিতাকে ডাকা হচ্ছে। বোডর্ এর আগে কখনো এমন করেনি। এর রেজাল্টও আসছে। আমরা মাঠকেও সোচ্চার করেছি। বড় কথা হলো আগে যেসব ঋণ দেয়া হয়েছে সেগুলো সুদসহ অনেক বড় অংক হয়ে গেছে। আমরা সেগুলো কিছু সুদ মওকুফ করে আরও কিছু সুবিধা দিয়ে আদায়ের চেষ্টা করছি। একই সময়ে নতুন করে যাতে আর খেলাপি না হয় সেটা লক্ষ্য করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ঋণ দিয়েছি এমন কোনো ঋণ ওভারডিউ বা ক্ল্যাসিফাইড হয়নি।

যাযাদি : আপনি আসার পর বলেছিলেন গ্রামের দিকে আপনি ঋণ বাড়াবেন।

আতাউর রহমান : জি, সেটাই হয়েছে। গত বছর এসএমই ঋণের টাগের্ট ছিল ৬০০ কোটি টাকা। আমরা ঋণ দিয়েছি ৭০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ গ্রামের দিকে। এ বছরের ১২০০ কোটি টাকা টাগের্ট ইতিমধ্যে ৬০০-৭০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এগুলোর রিকোভারি ভালো। ২০১৭ সালে যে ঋণ দিয়েছি তার শতভাগ রিকোভারি হয়েছে।

যাযাদি : আপনাদের খেলাপি ঋণ কত আছে?

আতাউর রহমান : ২০১৭ সালের মাচের্ আমাদের ক্ল্যাসিফাইড লোনের পাসেের্ন্টস ছিল ২৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ বছর সেটি কমে দঁাড়িয়েছে ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ফলে ক্ল্যাসিফাইড লোনের পরিমাণ কমে আসছে।

যাযাদি : ফারমাসর্ ব্যাংকে ১৬৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। মরা ব্যাংকে টাকা দিয়ে আপনাদের লাভ কী?

আতাউর রহমান : লাভ কি হবে সেটা পরে হিসাব করি। আগে ব্যাংকের ইনভেস্টরদের তো সেভ করতে হবে। ফারমাসর্ ব্যাংকে যেটা ঘটেছে তার জন্য যারা দায়ী তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা উচিত। একই সময়ে একটি ব্যাংকের ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি হওয়া মানে গোটা শিল্পের ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি হওয়া। ডিপোজিট কমছে কেন, মানুষ টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষ পেনিকড হয়ে আছে। সরকারের এখানে দায়িত্ব আছে। সরকারের দায়িত্বের জায়গা থেকে আমরা এগিয়ে এসেছি।

যাযাদি : ব্যংকিং খাতকে কীভাবে দেখছেন?

আতাউর রহমান : সাবির্ক বিবেচনায় এখনো মনে করি না খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমি আশাবাদী, মনে করি ব্যাংকগুলো চেষ্টা করে ভালো অবস্থানে যাবে। সেই লক্ষ্যেই ব্যাংকগুলো কাজ করছে। কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। নিবার্চন নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিবার্চনের সময় উদ্যোক্তরা এগ্রেসিভ থাকে না। পুনবিির্নয়োগের ক্ষেত্রে সতকর্ থাকে। আমরাও চিন্তাভাবনা করি। বড় বড় শিল্পপতি আছে তারাই নিবার্চন করে। তাদের মনোযোগ ওই দিকে থাকে। ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে তারা খুব একটা আগ্রহী হয় না। তবে নিবার্চনী বছর হলেও এ বছর বিনিয়োগ কিন্তু বেড়েছে। আমি এগুলোকে নেতিবাচকভাবে দেখছি না। অনেক সতকতার্র সঙ্গে যেতে হবে। অতীতে যে বড় বড় দুঘর্টনা ঘটেছে সেগুলো আর যাতে না ঘটে সেই বিষয়ে সতকর্ হতে হবে। আমার মনে হয় এখন যারা কাজ করছেন তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সতকর্।

যাযাদি : সুদের হার দুই দিকেই কমছে। আপনার ব্যাংক সেটাকে কি ভাবে দেখছে? প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শ আছে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আশার। কিন্তু সেটা অনেকই মানছে না।

আতাউর রহমান : প্রধানমন্ত্রী যে নিদের্শনা দিয়েছেন তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এটা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গৃহঋণের, কৃষি ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এসএমইতেও নেমে এসেছে। অনেক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। বাকিগুলোও আমরা চিন্তা করছি। ডিপোজিটের সুদের হার কমলে অনেকেই সংকটে পড়বে। অনেক মধ্যবিত্ত আছেন, যারা ডিপোজিটের সুদের টাকার ওপর নিভর্র করেন। তারা বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। তবে ঋণের সুদহার কমিয়ে আনার জন্য কাজ হচ্ছে।

যাযাদি : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

আতাউর রহমান : যায়যায়দিনকেও ধন্যবাদ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে