logo
সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫

  মো. জহির হোসেন   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনও সমন্বিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনার যথাযথ সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি

সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একক গ্রহীতা/একক সেক্টর/নিদির্ষ্ট এলাকায় ঋণের কেন্দ্রীভ‚তকরণ, ঋণ অপরিশোধিত থাকার ঝঁুকি, স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীঘের্ময়াদি ঋণ বিতরণ, সুদ হার যুগোপযোগী না করা, পুনঃবিনিয়োগ ঝুঁকি, পুনঃঅথার্য়ন ঝঁুকি, বুক ভ্যালু, মাকের্ট ভ্যালু, স্থিতিপত্রের সচ্ছলতা, তরল সম্পদ, সুদ হার, সম্পদ ও দায়ের মিশ্রণ, তহবিল উত্তোলন, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ঝঁুকি, অথৈর্নতিক মূলধন ও আথির্ক তথ্যের প্রাচুযর্তাÑ এগুলো পযাের্লাচনায় পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার অভাব বিদ্যমান।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনও সমন্বিত ঝঁুকি  ব্যবস্থাপনার যথাযথ সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি
১.১.১৯৭৩ সালে বিশ্ব অথর্নীতিতে ব্রেটোন উডস সিস্টেমের আওতায় নিধাির্রত নিয়ন্ত্রণমূলক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ভেঙে পড়ার কারণেই বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও জোগানের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং তারই প্রভাবে বিশ্বের অনেক ব্যাংক প্রভ‚ত লোকসানের সম্মুখীন হয়। এ ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং খাতের সুপারভিশনের উৎকষর্ সাধন ও রেগুলেশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতি সহায়তা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে বেসেল কমিটি অন ব্যাংকিং সুপারভিশন (বিসিবিএস) এর অগ্রযাত্রা শুরু। জি-১০ ভুক্ত দেশসমূহকে প্রাথমিকভাবে এর সদস্য হিসেবে অন্তভুর্ক্ত করা হলেও বতর্মানে এ কমিটির সদস্যসংখ্যা ২৮-এ দঁাড়িয়েছে। ব্যাংকসমূহ মূলত জনসাধারণের আমানত নিয়ে তার সিংহভাগই ঋণ ও অগ্রিম হিসেবে বিতরণ করে। তাই আমানতের নিরাপত্তা বিধানের স্বাথের্ এ কমিটি ব্যাংকের সম্পদ অথার্ৎ ঋণ বিতরণের সময় ওই ব্যাংকের মূলধনের সামথর্্য বিবেচনা করত ঋণসীমা নিধার্রণের বিষয়ে বিভিন্ন কাযর্ক্রম গ্রহণ করে। উদ্যোক্তা মূলধন হিসেবে বিনিয়োজিত অথর্ লাভ/লোকসান হতে পারেÑ এ ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করা হলেও আমানতের অথর্ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যে কোনো দেশের অথর্নীতিতে তার বিরূপ প্রভাব ব্যাপক ও বিশাল। এ লক্ষ্যে বিসিবিএস কমিটি ১৯৮৮ সালে বেসেল-১ ক্যাপিটাল অ্যাকডর্ প্রণয়ন করে যা পরবতীের্ত পযার্য়ক্রমে বেসেল-২ ও সবের্শষ বেসেল-৩ তে উন্নীত করা হয়। ব্যাংকসমূহ তাদের ঝঁুকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ন্যূনতম কি পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণ করবে, সে সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন বেসেল অ্যাকডর্ এ অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মূলধন পযার্প্ততার হার সবির্নম্ন ৮% এ নিধার্রণ করা হলেও বাংলাদেশের ব্যাংকসমূহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এ মাত্রা ১০% নিধার্রণ করেছিল। মূলত বেসেল অ্যাকডর্ প্রণয়নের মাধ্যমেই বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার চচার্ শুরু করা হয়। বিসিবিএস কতৃর্ক ব্যাংকিং খাতে সুপারভিশন ও রেগুলেশন যুগোপযোগী করার জন্য এখন পযর্ন্ত ২৯টি নীতিমালা প্রকাশ/মুদ্রণ করা হয়েছে যা, ‘কোর প্রিন্সিপ্যালস ফর অ্যাফেক্টিভ ব্যাংকিং সুপারভিশন’ নামে অনুসৃত।

১.২. নব্বই দশকে (১৯৮০-৯০) আমাদের দেশের ব্যাংকসমূহের চরম অব্যবস্থাপনা ও আথির্ক দুবর্লতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে আথির্ক খাত সংস্কার প্রকল্প (এফএসআরপি) বাস্তবায়ন করা হয়। সেখানে ৩ (তিন) ধরনের সংস্কার কাযর্ক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। প্রথমটি আইন সংস্কার, দ্বিতীয়টি প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং তৃতীয়টি হলো নীতি সংস্কার। ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা এবং ঋণঝঁুকি বিশ্লেষণ (এলআরএ) হলো নীতি সংস্কারের অন্যতম দুটি পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৯৩ সালে ব্যাংকিং সেক্টরে ঝুঁকির বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য কাযর্ক্রম শুরু করলেও ২০০৩ সালে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সবর্প্রথম ঝঁুকি ব্যবস্থাপনার ওপর গাইডলাইন প্রণয়নকরত তা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকসমূহকে নিদের্শনা প্রদান করা হয়। প্রথমে ৫টি ঝুঁকি যথা : ঋণ ঝুঁকি, সম্পদ ও দায়/ স্থিতিপত্রজনিত ঝঁুকি, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত ঝঁুকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালনজনিত ঝঁুকি এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ঝঁুকির ওপর গাইডলাইন ইস্যু করা হলেও পরবতীের্ত তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য গাইডলাইন ইস্যু করা হয়। ঋণ-ঝুঁকি বিশ্লেষণ ২০০৫ সালে সংশোধন করে ক্রেডিট রিস্ক গ্রেডিং সিস্টেম (সিআরজিএস) সংক্রান্ত নিদেির্শকা জারি করা হয়। এ ছাড়া, ২০১১ সালে এসে পরিবেশ ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গাইডলাইন ইস্যু করা হয়। ২০১৬ সালে এসে অধিকাংশ গাইডলাইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে। এ সমস্ত গাইডলাইন সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করার দায়িত্ব কাযর্ত ব্যাংকসমূহের পষের্দর ওপর ন্যস্ত এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুরোটিই ব্যবস্থাপনার ওপর বতার্য়।

১.৩.বেসেল-১ এ শুধু ঋণ ঝুঁকির বিপরীতে মূলধন রাখার কথা বলা হলেও ২০০৮ সালে এসে বেসেল-২তে ঝঁুকির বিষয়টি সম্প্রসারণ করা হয়। এখানে ঋণ ঝুঁকির পাশাপাশি পরিচালনজনিত ঝঁুকি এবং বাজার ব্যবস্থায় ঝুঁকি অথার্ৎ সুদ হার ঝুঁকি, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ঝঁুকি, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝঁুকি এবং পণ্যমূল্য ঝুঁকি বিবেচনায় এনে মূলধন রাখার বিধান চালু করা হয়। বেসেল-২তে মূলধন সংরক্ষণের পাশাপাশি ব্যাংকসমূহের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকসমূহের মধ্যে আলোচনার নিমিত্তে সুপারভাইজরি রিভিউ অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (এসআরইপি) চালু ও পরবতীের্ত তা সংশোধন করত আরও কাযর্করি করা হয়। বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলার আওতায় তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেয়া হয়। উপরোক্ত ঝঁুকিসমূহ ছাড়া ব্যাংকের সামথর্্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে রেসিডুয়েল রিস্ক, কোর রিস্ক বাস্তবায়নজনিত ঝঁুকি, ক্রেডিট কনসেন্ট্রেশন রিস্ক, ইন্টারেস্ট রিস্ক ইন ব্যাংকিং বুক, সেটেলমেন্ট রিস্ক, তারল্য ঝঁুকি, সুনাম নেতিবাচক হওয়ার ঝঁুকি, স্ট্র্যাটেজিক রিস্ক, পরিবেশজনিত ঝঁুকি ও অন্যান্য বস্তুগত ঝঁুকি বিবেচনায় নেয়ার বিষয়াদি অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে। ব্যাংকসমূহকে ভবিষ্যৎমুখী করার জন্য ক্যাপিটাল প্ল্যানিং প্রণয়ন এবং স্ট্রেস টেস্টিং চালু করার ওপর জোর দেয়া হয়। ব্যাংকসমূহের সবোর্পরি মূল্যায়ন এবং ইস্যুভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিবিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশনের অনস্বীকাযর্তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ২০০৭-০৮ এ বিশ্ব মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে বেসেল-৩ চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বেসেল-৩-এর মূল লক্ষ্য হলো পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি, অথৈর্নতিক মন্দার বিপরীতে মূলধনের গুণগতমান বৃদ্ধি, লিভারেজ এবং তারল্য সক্ষমতা গড়ে তোলা। এ ছাড়া, সিস্টেমেটিক ইম্পোটের্ন্ট ব্যাংক, কন্টিনজেন্ট ক্যাপিটাল, ক্রস-বডার্র সুপারভিশন অ্যান্ড রেজুুলেশনের বিষয়টিও আওতাভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১৫-১৯ সাল মেয়াদে বেসেল-৩ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে।

১.৪. সাব-প্রাইম ক্রাইসিসের কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও বিসিবিএসের নীতিসমূহ পরিপালনের অংশ হিসেবে ২০১২ সালে ব্যাংকসমূহে ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন ইস্যু করা হয়। রিস্ক ম্যানেজমেন্টের জন্য সাংগঠনিক কাঠামো, কপোের্রট গভনের্ন্স, মূলধন ব্যবস্থাপনা, ঋণ ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা, বাজার ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা, তারল্য ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনজনিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পরিপালন ও অন্যান্য ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা বিষয়েও দিক-নিদের্শনা অন্তভুর্ক্ত করা হয়। এ ছাড়া পুনরায় সংশোধন করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর রিস্ক ম্যানেজমেন্ট পেপার প্রস্তুত করে তা পষের্দর সিদ্ধান্তসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এর অফসাইট সুপারভিশন ডিপাটের্মন্টের মাধ্যমে তা মূল্যায়ন করে ব্যাংকসমূহের রেটিং নিণর্য় করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ব্যাংকসমূহকে পষর্দ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে ঝঁুকি বিষয়ে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন তদারকির জন্য স্পষ্ট নিদের্শনাও প্রদান করা হয়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা কাযর্ক্রম তদারকির দায়িত্ব বতার্য় ব্যাংকের পষর্দ অডিট কমিটির ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদশর্ন দল কতৃর্ক প্রতি বছরই সরেজমিনে পরিদশর্ন করে প্রতিটি ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা পরিপালন যাচাই করে দেখা হয় এবং ব্যাংকসমূহকে আলাদাভাবে রেটিং প্রদান করা হয় এবং যার মূল্যায়ন ব্যাংকের ক্যামেল রেটিং এ অন্তভুর্ক্ত করা হচ্ছে।

১.৫. বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ব্যাংকসমূহের ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা যুগোপযোগী করার জন্য পযার্প্ত নীতি সহায়তা প্রদান করার পরও ব্যাংকসমূহ এর যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে সামথর্্য হচ্ছে না। ঋণ ঝঁুকি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সবাির্ধক হলেও এক্ষেত্রে পরিপালনের হার সবির্নম্ন। ঋণের যথাযথ ঝঁুকি বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ব্যাংকের বিনিয়োগ ঝঁুকিকে সবির্নম্নœ মাত্রায় বজায় রাখার নিদের্শনা থাকলেও উদ্যোক্তার ঋণ পাবার যোগ্যতা, ঋণ চুক্তি, গ্রাহকের তারল্য প্রবাহ, চাজর্ সৃষ্টি, ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট কতৃর্ক প্রস্তাবিত ঋণ হিসাব মূল্যায়নের যথাথর্তা যাচাই, ঋণ আবেদনের যথাথর্তার দিকে দৃষ্টি রেখে ঋণ প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়া, সম্পদ ও জামানতের সঠিকতা ও যথাযথ মূল্যায়ন, ঋণের প্রকৃতি ও পরিমাণ, ঋণের উদ্দেশ্য, ঋণ কাঠামো, ঋণের মেয়াদ, ঋণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিশ্লেষণ ছাড়াই ঋণ প্রদান করা হয়। চাতুরী বিন্যাসের মাধ্যমে ঋণ ঝঁুকি সবির্নম্ন পযাের্য় রাখা হলেও এক্ষেত্রে যেসব অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে, তা পরিচালনজনিত ঝঁুকির অন্তভুর্ক্ত। পরিচালনজনিত ঝঁুকির প্রথম সুরক্ষা হলো বিজনেস লাইন ম্যানেজমেন্ট, দ্বিতীয় সুরক্ষা হলো স্বাধীন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট এবং তৃতীয় সুরক্ষা হলো ইন্টারনাল অডিট। এগুলো কাযর্করভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি-না, তার প্রাথমিক দায়-দায়িত্ব ব্যবস্থাপনার; কিন্তু ব্যবস্থাপনা এক্ষেত্রে দ্বৈত ভ‚মিকা পালন করছে। একদিকে যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত করছে না বা এক্ষেত্রে পরিপালনে অদক্ষতা রয়েছে। অন্যদিকে পষর্দকে ভুল তথ্য প্রদান করে প্রকৃত অবস্থা গোপন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে পষের্দর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। শুধু নতুন ঋণ বিতরণ নয়, ঋণ নবায়ন, মেয়াদ ও সীমা বধির্তকরণ এবং পুনঃতফসিলীকরণের সময় বস্তুনিষ্ঠ নয় এমন তথ্য দিয়ে ঋণকে চিরসবুজ রেখে ব্যাংকের স্থিতিপত্র বলিষ্ঠ রাখার প্রতিযোগিতা তো আছেই। ঋণ অবলোপনের মহোৎসবতো রয়েছেই। এক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিপালন ব্যথর্তার বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং এমনকি বহিঃনিরীক্ষকের ভ‚মিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। এখানে ঋণ ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সুসমন্বয় না থাকার কারণে ব্যাংকের সম্পদের গুণগতমাণ ক্রমাগত নিম্নগামী হলেও তার যথাথর্ প্রতিফলন স্টেকহোল্ডারগণের কাছে অজানাই রয়ে যাচ্ছে।

১.৬. সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একক গ্রহীতা/একক সেক্টর/নিদির্ষ্ট এলাকায় ঋণের কেন্দ্রীভ‚তকরণ, ঋণ অপরিশোধিত থাকার ঝঁুকি, স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীঘের্ময়াদি ঋণ বিতরণ, সুদ হার যুগোপযোগী না করা, পুনঃবিনিয়োগ ঝুঁকি, পুনঃঅথার্য়ন ঝঁুকি, বুক ভ্যালু, মাকের্ট ভ্যালু, স্থিতিপত্রের স্বচ্ছলতা, তরল সম্পদ, সুদ হার, সম্পদ ও দায়ের মিশ্রণ, তহবিল উত্তোলন, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ঝঁুকি, অথৈর্নতিক মূলধন ও আথির্ক তথ্যের প্রাচুযর্তা-এগুলো পযাের্লাচনায় পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার অভাব বিদ্যমান। এক্ষেত্রেও ঋণ ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা যুগপতভাবে বাস্তবায়নের দুবর্লতা রয়েছে। সম্প্রতি ব্যক্তিখাতে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সমস্ত ঋণের ঝঁুকি আবৃত করার জন্য এখন পযর্ন্ত কোন ধরণের কৌশল/পদ্ধতি লক্ষণীয় নয়। আইসিটি খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অন্যতম দুবর্লতা হলো ব্যাংকসমূহ যে সমস্ত ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদন না থাকায় এদের ব্যবহার পদ্ধতিতে ভীন্নতা রয়েছে এবং সিস্টেম সম্পকের্ ব্যবহারকারীদের পূণার্ঙ্গ জ্ঞানের অভাব থাকায় এক্ষেত্রে পরিচালনজনিত ঝঁুকি ও জাল-জালিয়াতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদের সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব সুষ্পষ্ট। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধজনিত ঝঁুকি মোকাবেলার জন্য প্রাথমিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যাদি অন্তভুর্ক্ত করে ‘কেওয়াইসি’ ফমর্ পূরণের বিষয়টি অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে তহবিল নিগর্মনের বিষয়টি উদ্ঘাটন করার জন্য কোনো যুতসই কৌশল এখনও গড়ে ওঠেনি। পরিবেশজনিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে বহু পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এর বাস্তবায়ন প্রাথমিক পযাের্য় রয়েছে। সবোর্পরি সমন্বিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনার যে সংস্কৃতি গড়ে ওঠার কথা ছিল, তা কাযর্ত গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতি বছর কোর রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যাংকসমূহে সরেজমিনে পরিদশর্ন করা হলেও এখন পযর্ন্ত রিস্ক বেইজড সুপারভিশনের জন্য যুতসই পদ্ধতি গড়ে না ওঠায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে ব্যাংকেসমূহের প্রকৃত রেটিং নিণের্য় তারতম্য হচ্ছে।

১.৭. তাই, সমন্বিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন অতীব জরুরি। এর জন্য প্রথমেই ব্যাংকসমূহের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে। দুবর্লতাসমূহ চিহ্নিত করে পষর্দ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ ও কমর্পন্থা নিধার্রণের মাধ্যমে ব্যাংকসমূহকে তার উত্তরণ ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ব্যাংকগুলোর জন্য ৫ম পযাের্য়র সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। ব্যাংকের কমর্কতার্গণকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পারদশীর্ করে গড়ে তুলতে হবে। আইটি সিস্টেম অভিন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূবার্নুমোদনের আবশ্যকতা রয়েছে। ঝঁুকি সংক্রান্ত একটি সমন্বিত তথ্য ভাÐার গড়ে তুলতে হবে। সবোর্পরি, করপোরেট গভনের্ন্স শত্তিশালী করার মাধ্যমে সমন্বিত ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

লেখক : ডিজিএম, এফআইসিএসডি, বিবি
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে